গল্প:রৌদ্রময় বালুচর(০৪)

  ( আকজের পর্বে চমক আছে)

লেখিকা:প্রিয় সিনী

পর্ব:০৪

 

 

ধরনীতে সন্ধা নেমে এসছে প্রায় । পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আসতে আসতে বাতাসের সাথে মিশে যাচ্ছে। হয়তো তারাও তাদের যন্তে ভোনা গাছের ডালের ছোট ঘরটায় ফিরে যাচ্ছে, একটু শান্তির আশায়।মানুষদের মতো পাখিরাও চায় একটু শান্তিতে বাচাতে।  একটু পর  মাগরিবের আযান দিয়ে দিবে।

“প্রাইভেট পড়া শেষ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে জোহান। আর মাথায় সব আবোল তাবোল প্রশ্ন আর চিন্তা। বাড়ির কাছে এসে পড়েছে প্রায়। এমন সয়ম চোখ গেলো তার.. মন্তুুর মিয়ার বেগুন  খেতের দিকে।সেখানে কিছু এটা নরছে।কিন্তু কি সেটা ভালো ভাবে দেখতে পারল না অন্ধকারের জন্য। ভালো ভাবে দেখার জন্য আরেকটু কাছে এগিয়ে যায় কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। তাই ডাক দিয়ে বলে…..

__ ওখানে কে রে…??

“ডাক শুনে খেতে থাকা পরচ্ছবিটি নড়েচড়ে উঠে।আশা করেনি  হয় তো এমন সময় এখানে কেউ আসতে পারে।তাই নিজেকে আরো একটু অন্ধকারে আড়াল করে নিতে থাকে।কিন্তু গলার স্বর শুনে মনে হচ্ছে কোনো বাচ্চা। খুব চিনা চিনা লাগছে। এটা জোহান নয় তো..??কি জালা..?এই আপদ এখানে কী করে আবার..?? এখন হাজার টা প্রশ্ন করে মারবে তাকে ?তাই পরচ্ছবিটি ভয়ে ভয়ে বলে…..

__ আমি খোকা….

”  খেতে কি রে “

“হাগুর মেলা”

“এহন কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে যায় জোহানের।তাকে খোকা বলা..?সেকি ছোট নাকি..??গলা শুনে মনে হলো কোনো পুরুষ মানুষ।তার সাথে মজা করছে লোকটা।এতো বড় সাহস। লোকটা কি আমাকে চিনে না নাকি….।??আমি হলাম এই গ্রামের মানুষের বেশি কথা বলে গোপন তথ্য  বের করা একমাএ গুনধর সন্তান..।গর্ব করে শার্টের কলার উচিয়ে বলে কথাগুলো।ধারা বেটা দেখাচ্ছি তোকে মজা….

“আচ্ছা আপনি কী সিঙ্গেল..??

গলা আওয়াজ শুনে এখন পোরো সিয়োর এটা জোহানই।জোহানের এহন প্রশ্ন শুনে ভাবে ” এই ছেলে বলে কী এসব..??  তার সাথে রয়েসয়ে কথা বলতে হবে.. ..

__ না বাপ আমার আমি সিঙ্গেল না। আমার বউ আছে। পাঁচ পোলাপানের বাপ আমি। “

” তাহলে আপনি বেগুন খেতে কি করেন চাচা..? ইন্টু পিন্টু কোনো চক্কর চলে নি বুড়ো বয়সে…?? বলব নি কাকির কাছে গিয়ে .??জোহান

” বেগুন চোরি করতে এসেও শান্তি নেই…!! তাকে কি সব বলছে এই ছেলে মনে মনে ভাবে পরচ্ছবি…

“___ এই ছেলে… এই… তুই এসব কি বলছিস  হে…?? কিসের ইন্টু পিন্টু হে…!  আমি তো ইয়ে করতে বসে ছিলাম…!!

___ ওহহহ!  তাই নাকি…??  চাচা পানি নিয়ে গেছেন সাথে করে.?? নাকি আমি নিয়ে আসব….??জানতে চাইলে জোহান….

” এই রে ধরা খেয়ে গেলাম মনে হচ্ছে..! এখন কি বলব…?কিছু একটা বলে আপদ টা বিদেয় কি আগে পরে দেখা যাবে সব…..

”  বাপ আমার অনেক জোরে চাপ দিয়েছিলো তাই পানি ছাড়াই বসে পরেছি.। আমাকে একটু পানি এনে দিবি বাপ….??

” এই তো বেটা বাগে এসেছে। এখনি জিজ্ঞেস করে ফেলি বাড়ি কোথায়…  চোর দরা পরে যাবে… হি হি হি হি ..!  কি আনন্দ…..! “

“___ আমি কি ভাবে পানি এনে দিব…?? আমি কি আপনাদের বাড়ি চিনি নাকি…??

” তুই গিয়ে তোর রাবিয়া চাচিকে বল এক বধনা পানি দিতে তাহলে হবে…..

জোহান লোকটার কথা শুনে এবার উচ্চ সুরে হেসে বলে…

” আরে বাছ..!!ধরো লুঙ্গি মারো টান…!!বের করে আনো দেখি তোমার মেশিন গান….

“জোহানের কথা শুনে লোকটা বিসম খেয়ে বলে…
__ এই ছেলে,” এই কি বলছিস এসব…?  কি”” কিসের মেশিন গান বের করব আমি…???

” আই মিন আপনার চাদঁ মুখ  টা বেড় করুন একটু দেখি।মন্তুুর মিয়াকে বলতে হবে না তার বেগুন খেতে রাবিয়া চাচির জামাই ডুকেছিলো…!!

” জোহানের কথা শুনে ততক্ষণে বের হয়ে আসে। এই ছেলের সাথে বিশ্বাস নেই। কিছু বলে বোঝাতে হবে। কাউকে কিছু যেনো না বলে….

” বাপ আমার আমি তো এমনই ডুকে ছিলাম খেতে… হিহি…!মেকি হেসে! এটা আবার বলার কি আছে…??যাহহ বাপ বাড়ি যা সন্ধা হয়ে  আসছে ।

“কোনো বলব না..?? আমি তো নিজের চোখে দেখিছি আপনাকে বেগুন চুরি করতে। এখন আমি সবাই কে বলে দিব হুমমম। “জোহান

__ বলিস না বাপ! আমার সম্মান খুঁয়া যাবে.। মুখ দেখাতে পারব না আমি কাউকে।

__ আচ্ছা বলব না।  কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।

” কি শর্ত.?? ব্রুো কুঁচকে বলে লোকটি___

___ শর্ত হলো.!

___ আয় আয় টিয়ে____করব আমি বিয়ে_____
~খরচ করবে তুমি ~ বিয়ে করব আমি ~~

আমি যখন বড় হয়ে বিয়ে করব তখন সব খরচ তুমি করবে কাকু..ওকে…!!হি হি হি…  কেমন লাগলো শর্তটা…???

‘কি বলছ বাপ এসব..??  এতো খরছ  আমি পারব না করতে অন্য শর্ত দেহ বাপ__”

“এটা তোমার ইচ্ছে! আমি অন্য শর্ত দিব না। এখন তুমি ভেবে দেখো কী করবে..?? এখন আমি যাই দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার। শর্তটা মাথায় রেখো, ভুলে গেলেই লিংক ভাইরাল…!

” এমন পরিস্থিতিতে পরে লোকটার মাথায় একটা গান আসে….”
___সন্ধাবেলায় বেগুন খেতে____🎶
: করতে গেলাম চুরি ____
___ ধইরা দিয়া বইরা দিলো____🎶
_____******______
আর যাব না বেগুন তুলিতে____
___ ও লো ললিতে____🎶

জোহান আর দাড়ালো না সেখানে। বাড়িতে চলে আসে।  ঘরে ঢুকতে নিবে এমন সময় দেখা হয়….

_ বারান্দায় একপাশে অপরাজিতা ফুল গাছটার কাছে দাড়িয়ে আছে জিনিয়া।মন টা ভালো না। জীবনের সেই কালো অতীত কী ভুলা যায় সহজে..?? মুখে মিথ্যা হাসি নিয়ে আর কতো জীবন পার করবে সে ?? মানুষ যতোই এখন আপন হওয়ার চেষ্টা করোখ না কেনো বিশ্বাস করতে পারে না এখন সে। বিশ্বাস শব্দ টা ছোট হলোও এর গুণ অনেক। তার মনে প্রশ্ন জাগে সে কি একটা সুন্দর জীবন পেতে পারতো না.?? কেনো সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষ টি তার জীবনে এসে সব তচনচ করে দিলো..??কি ক্ষতি করে ছিলো সে.?? এখন নিজেকে স্বাভাবিক রাখার কতো চেষ্টা করতে হয়। সেও তো একজন মানুষ..?  কেনো সে একটু মন বরে হাসতে পারে না..?  কারোর সাথে মন খুলে কথা বলতে পারে না…??ভাবনার মাজেই দুফোঁটা অশ্রু গরিয়ে পরে চোখের কার্নিশ বেয়ে।
‘কারো পায়ের শব্দ শুনে তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিয়ে নিজে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে চুপ করে দারিয়ে থাকে শূন্যে চোখ দিয়ে।

____ চাঁদ সুন্দরী.! কি করছো এখানে একা একা..? প্রশ্ন করলো রোহান___

“নিশ্চুপ ___

কি হইছে.?  কথা বলছো না কেনো.?

” ___ এবাও নিশ্চুপ °___

___ আরে বাবা এমন স্টেচুর মতো দাড়িয়ে না থেকে কিছু বলো….???

°____দেখছেন না কথার উত্তর দিচ্ছি না। তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছেন কেনো.?? বোঝতে পারছেন না আমি আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক নই…..;!!একটু জোরেই চেচিয়ে বলল জিনিয়া….!!

“জিনিয়ার এমন ব্যবহারে রোহানের কপালে বাঁজ পড়ে। বুকটায় মুঁচড় দিয়ে উঠে।কেন যেনো অনেক কষ্ট হচ্ছে..? ওকে ভালোবাসে বলে..??
সে কী এখনো এই মেয়ের মনে জায়গা করেতে পারেনি..??  গতো ১ বছর ধরে নিজের অনুভূতি গুলো বোঝানোর চেষ্টা করছি।সে কি আমার মন একটুও বোঝে না। আমি কি ওকে খুব বিরক্ত করি..?? আমার সাথে কথা বলতেও তার এতো ধীদা কাজ করে..??*শালার ভালোবাসা.! মা মরা ছেলেকে কেই বা ভালোবাসবে…?? সেও না কতো বোকা…  “বামুন হয়ে চাঁদে হাত বাড়াতে চায়”….”নিজের মনে মনে কথা গুলো ভেবে আবারও বলে……

_ চাঁদ সু*,…..কথাটা আর বলতে পারেনি। তার আগেই জিনিয়া বলে…..

””” আর কতো বার বলব আপনাকে আমাকে এই নামে ডাকবেন না। অসহ্য লাগে আমার আপনার এই নেকামো। আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই না।আপনাকে আমার বিরক্ত লাগে। প্লিজ দয়া করে আমার সামনে আর আসবে না।নয়তো আমার ঘৃনার খাতায় আপনি হবেন দ্বিতীয় ব্যক্তি।””কথা গুলো বলে আর দাড়ালো না সোজা চলে গেছে নিজের বরাদ্ধ  করা রুমে।….
_______!”” যদি সে একবার পিছনে ফিরে দেখতে একজন মানুষ তার এহন কথা কতো টুকু কষ্ট পেয়েছে তাহলে আর কখনো সে নিজের এই মানুষ টার সামনে মুখ দেখাতে পারবে না।____

___ ওহেহহ নিষ্ঠুর দুনিয়া “___
আমি কি ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না….
__ যে মানুষ টা আমাকে এতো ঘৃনা করে __
তাকেই কেন এই মন প্রচুর ভালোবাসে
( রোহান)

” অশ্রু মাখা চোখে আকাশে দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে রোহান।….দাড়িয়ে রইলো ঠাই জায়গায়। কতো ক্ষন দাড়িয়ে ছিলো তাও বলতে পারবে না সে।কাদে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে চমকে উঠে। বোঝেতে মানুষ টা কে।তার অনেক আপন একজন মানুষ। যে তার বন্ধু কম ভাই বেশি।তার কলিজার বন্ধু আরমান।কিন্তু বলল না। ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে।”

‘”আরমান বোঝে পারে তার বন্ধু কেনো কান্না করছে।হয়তো আবারও জিনিয়া তাকে রিজেক্ট করেছে। নিরবতা ভেঙ্গে আরমান বলে… কি হয়েছে..? মেয়ে মানুষের মতো এমন ফেচফেচ করে কান্না করছিস কেনো.??

‘আরমানের বলতে দেরি হলো রোহানের পিছন ঘুরে গলা জরিয়ে কান্না করতে দেরি হলো না।

রোহানে এমন গলা জরিয়ে কান্না করতে দেখে বিরক্ত হয়ে বলে….

” *বাল সর.!মেয়ে মানুষের মতো খালি ডলাডলি করছিস ভালো লাগে না। ইস্টুপিট কোথাকার!

” আরমানের কথায় রোহানের কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। আগের ন্যায় আরমানের গলা জরিয়ে বলে…. ভাই আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন বাঁচব কি করে!
বলে আবারও ফেচফেচ করে কান্না করতে থাকে…

” কি সর্বনাশ হয়ে গেছে তোর.??”

“__ সব শেষ ভাই আমার ____”
‘রোহানের এমন কান্না করা দেখে মুচকি হাসে আরমান যা রোহানের চোখে পরেনি।তাই সে মজা উড়িয়ে বলে….

“এমন ভাব করছিস মনে হচ্ছে কেউ তোকে ধর্ষণ করে তোর ৭২ লাখ খুলে বিক্রি করে দিয়েছে…

আরমানের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে রোহানের হাত চলে যায় তার প্রাইভেট-পার্টে। ই’য়ে’তে হাত রেখেই রোহান বলে…..ইন্না-লিল্লাহ! আমার বউয়ের মূল্যবান সম্পদ। চোখ সরা বেডা লুচু*।

‘ তাদের দুজনের কথা মাঝে সেখানে এসে উপস্থিত হয় জাহেদ।রোহানের মুখের দিকে একবার তাকায়।মুখ দেখে মনে হচ্ছে তর বোন আবার রিজেক্ট করে দিয়েছে। বেচারার জন্য খুব হাসি পাচ্ছে। যতো বার তার বোন রোহানকে রিজেক্ট করে এতো বার এমন বাচ্চাদের মতো কান্না করে। এটা নতুন কিছু নয় তার কাছে। এবার উচ্চ সুরে হেসেই ফেলে বলে…..

” কি রোহান ভাই আমার বোন আবারও রিজেক্ট করেছে…?

রোহান : কান্না মুখশ্রী নিয়ে বলে ” হুমমম..!

” চেষ্টা করতে থাকো একদিন সফল হয়ে ফসল ফলাতে পারবে তুমি ইনশাআল্লাহ..। Try Again bor.

“জাহেদের কথা শুনে এবার আরমানও উচ্চ সুরে হেসেই ফেলে।”

______________°°°______________
:-রুমে এসে বেডে শুয়ে পরে জিনিয়া। রোহানকে কথাগুলো বলে সেও তো শান্তি পাচ্ছে না!  তারও তো খুব কষ্ট হচ্ছে। মানুষটাকে তো
সে ও খুব ভালোবাসে মনে মনে।কিন্তু প্রকাশ করতে পারে না। তার কালো অতীত তাকে ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেয় না। তার তো খুব ইচ্ছে করে যে তাকে এতো ভালোবাসে তার সাথে মন খুলে কথা বলতে। তার বুকে মাথা রেখে ভালোবাসি বলতে।ভালোবাসার মানুষের সাথে সংসার করতে।বুকটা ছিড়েঁ যাচ্ছে ওর,'”মানুষটার সাথে এতো খারাপ ব্যবহার করে।  না চাইতেও বার বার খারাপ ব্যবহার করে ফেলে।
তার তো ইচ্ছে করে হাতে হাত রেখে বৃষ্টির মধ্যে  হাঁটতে। কেনো পারছে না সে মানুষটাকে আপন করে নিতে..?? তার মতো করে কেনো বলতে পারে না সেও তাকে খুব বেশি ভালোবাসে।হাজারটা ভবনা মনের মাঝেই চাপা পড়ে থাকে তার। এসব ভেবেই নিঃশব্দে অশ্রু ফেলতে থাকে জিনিয়া। “

___________°°°°____________

আরে বনু তুমি কখন এসেছো কলেজ থেকে.??

” জারা :- আরে আমার মীরজাফর ভাই যে। কি শুনছি এসব আমি মায়ের কাছ থেকে..??

” জোহান :- কি ‘ ‘ কি শুনেছো তুমি..??

” জারা :-  তুই নাকি মায়ের আবার বিয়ে ঠিক করেছিস তোর স্যারের মামার সঙ্গে…??

” জোহান :- না- মানে’ ইয়ে- আসলে হয়েছে কী বনু____

” জারা :- হুমমম বল কী হয়েছে শুনতে চাচ্ছি তো আমি…?

” জোহান :-আমি তো ঐ*__বলতে পারলো না আর।তার আগেই জারার মোবাইলে কল চলে আসে।

জারা ফোনটা সামনে এনে দেখে ফিহা কল করছে।রিসিভ করে কথা বলতে বলতে চলে যায় নিজের রুমে।

:- জারা চলো যাওয়ার পর ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে জোহান।আজ তার কপালে শনি, রবি লেখা ছিলো।আজ তার পিঠের ছাল তুলে নিতো তার বনু।কপাল ভালো বেঁচে গেছে। বুক থেকে যেনো বারি পাথর নেমে গেছে।

” হ্যাঁ বল ফিহা। আবার কেনো কল করেছিস..?? জারা__

” ফিহা :- জারা সোনা চল কাল মিম দের বাসায় যাই।মিমকে দেখে আসি।

” জারা :- আচ্ছা। কাল কখন যাবি..??

” ফিহা :- সকালে যাব ৯ টার দিকে।

‘ জারা :- আচ্ছা। কাল তাহলে দেখা হবে। আল্লাহ হাফেজ বলে কল টা কেটে দিলো।

___________________★★★_________________
রাত এখন ৯ টার ঘরে। খাবার সময় হয়ে গেছে। রান্নার লোক এসে রান্না করছে। রান্না করা শেষ হলে লোকটা আরমান কে ডাক দেয়___

‘ সাহেব আমার রান্না করা শেষ।

” আরমান নিজের রুম থেকে বেড়িয়ে আসে। “

” কাজের লোক :- সাহেব এখানে তো কোনো চেয়ার টেবিল নাই। কি করব এখন..? একটা পাটি বিছিয়ে দেই…

” আরমান :- আচ্ছা ঠিক আছে। আর একটু তাড়াতাড়ি করবেন সবার খিদে পেয়েছে।

” আচ্ছা সাহেব “
__________________________

বারান্দায় পাটি বিছিয়ে খেতে বসেছে সবাই। শুধু একজন নেই। “রোহান”।

“জেরি তোমার রোহান ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে এসো তো।  “আরমান “

আচ্ছা ভাইয়া, ” বলে জেরিন চলে যায় রোহানকে ডাক দিতে।

কিছু সময় পর রোহান আসে।এসে কাঙ্ক্ষিত মানুষ টার মুখ দেখে সন্ধার কথা মনে পরে যায়।জিনিয়া মাথা নিচু করে বসে আছে। সেখানে
দাঁড়ানোর মতো আর সাহস পেলো না। তাই পিছন ঘুরে চলে আসতে নিবে তখন ডাক দেয় জাহেদ….

” ভাইয়া চলে যাচ্ছো যে.? খাবে না..??

” আমার পেট বরা। আমি খাবো না। তোরা খেয়ে নে। দাঁড়ালো না সেখানে সোজা রুমে চলে আসে রোহান।

” জিনিয়া সব শুনে ও না শুনার মতো করে বসে আছে। আগের ন্যায় মাথা নিচু করে সবা। উপরে উপরে কিছু না বললেও সে খুব বোঝতে পারছে রোহান তার কথায় অনেক আঘাত পেয়েছে। তার সামনে আসবে না বলে হয় তো পেটে খিদে নিয়ে  এমন মিথ্যা বলে পালিয়ে গেছে। কান্না আসলেও নিজের মাঝে দমিয়ে রেখে তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে রুমে চলে আসে জেরিন কে নিয়ে।

” রাত কেটে যায় এমন না বলা মান-অভিমানের বিরে।রাতে খাওয়া হয় না আর রোহানের। তাকে ডাকার মতো ও কেউ নেই। আরমান অনেক বার এসে ডেকে গেছে খাওয়ার জন্য কিন্তু সে খাই নি।রুম থেকে বের হলেই যাদি তার চাঁদ সুন্দরীর সাথে দেখা হয়ে যায়। “

” রাতের আন্ধার শেষ হয়ে ভোরের আলো আসে বির করছে পূর্বের আকাশে। পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে আরমানের। নতুন জায়গায় ঘুম বেশি ভালো হয়নি। তাই শুয়ে না থেকে উঠে পরে।মোবাইটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে এসে বারান্দায় দাড়াঁয়।মোবাইলে একবার চোখ বোলিয়ে দেখে ৮:৪৯ বাজে।
আবহাওয়া টা কেমন ঠান্ডা, ঠান্ডা, ” হয়তো বৃষ্টি আসবে।এমন আবহাওয়ায় এক কাপ কফি হলে মন্ধ হতো না।কিন্তু এখানে তাকে কে কফি করে খাওয়াবে।বাড়িতে থাকতে তো তার মা সব করে দিতো। তাই সে গ্রামটা দেখার জন্য একা, একা বেড়িয়ে পড়ে হাঁটতে।গ্রামের নামের মতোই গ্রামটা খুব সুন্দর। ” ইসলাম পুড় গ্রাম”।
চারপাশটা ভালো করে গুরে হাঁটা ধরে গ্রামের ভিতরে রাস্তার দিকে। রাস্তায় হাঁটার মাঝে  আরও একবার সময়টা দেখে নেয়। সকাল ৯:৩৮ বাঝে। কাল এতো যার্নি করে আসায় এখনো সবাই ঘুমাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠতপ এখন অনেক দেরি তাদের।  প্রায় অনেকটা সময় হাঁটার পর মাঠ থেকে  উঠে গ্রামের সরু চিকন রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। পকেট হাতরে একটা সিগারেট বের করে। সিগারেট জালিয়ে একটা টান দিয়ে মুখের ধোঁয়া চোখ বন্ধ করে ফোঁস করে ছেড়ে দেয় মনে সুখে।  যেনো তার সকল ক্লান্তি সিগারেটর ধোঁয়ার সাথে উড়ে যাচ্ছে ।…..

” মুখের উপর সিগারেটের ধোঁয়া আসায় কাশতে কাশতে বমি করে ফেলার উপক্রম প্রায় এক রমণীর….

চলবে…….

0 0 votes
Article Rating
Loading spinner
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x