লেখিকা:হুমায়রা মুর্তজা
পর্ব — ৭
কেয়া শালটা একটু ভালোভাবে জড়িয়ে নিল গায়ে। নিয়ে একটু দ্রুত গতিতে হাঁটার চেষ্টা করল। বরাবরই ওর শীত বেশি লাগে। গোটা শীতকাল হাত-পা বরফের মত ঠান্ডা হয়ে থাকে। উল কিংবা লেদারের তৈরী হাত-মোজা, পা-মোজা যাইই পরুক হাত-পা গরম হয়না। আর সন্ধ্যেবেলা তো কথায় নেই। শীতে জুবুথুবু হয়ে যায় একদম। এই সময়টাতে একদম বাইরে বেরোতে ইচ্ছে হয়না ওর। কিন্তু জীবন ওর ইচ্ছেতে থেমে নেই। বিকেলে তিতির ঘুমোলে সে সেলাই শিখতে যায় কাছের একটা বুটিক্সের দোকানে। তার পড়াশোনার যোগ্যতা এইচএসসি। বয়স প্রায় হতে চলল ত্রিশের কোঠায়। আব্বা তো এমনিতেই অসুস্থ। সংসারের ঘানি টানছে ওর ছোট্ট ভাইটা। সে-ই বা আর কত বোঝা হবে ওদের উপর? বরং কিছু একটা করে অন্তত তিতিরের খাবার-দাবার, আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে পারবে। ইদানীং রাফির মুখের দিকে সে তাঁকাতে পারেনা। ভাইটা সারাদিন পরিশ্রম করে,হেঁটে হেঁটে দূরের টিউশানিতে যায় , রাতজেগে পড়াশোনা করে বিসিএস এর জন্য। তিন বছর যাবত রাফি একটা নতুন শার্টও কিনেনি। রঙজ্বলা পুরোনো শার্ট যার কলারের কাছটা ছিঁড়ে গিয়েছে, ক্ষয় হয়ে যাওয়া একজোড়া স্যান্ডেল আর দুটো জিন্সের প্যান্ট এই হলো রাফির জামাকাপড়। দারিদ্র্যর দুষ্টচক্রে তারা চোরাবালির ন্যায় ফেসে গিয়েছে। সেলাইয়ের কোর্সে ভরতি হবার টাকাটা রাফির কাছে চাইতে পারেনি কেয়া। বরং কোর্সের জন্য টাকাটা যোগাড় করেছে বুকের উপর পাথর রেখে। তিতিরকে ওর দাদি স্বর্ণের দুল দিয়েছিলেন জন্মের পরে। এই ছোট দুল জোড়াই ওর শেষ সম্বল ছিল। সেটাই বিক্রি করে দিয়েছে। আরও কিছু টাকা বাকি আছে। সেটা দিয়ে কেয়া একটা সেলাই মেশিন কিনে ফেলবে। ঢাকা শহরে ভালোমত কাপড় সেলাই করলে বেশ ভালো মজুরি পাওয়া যায়। যিনি সেলাই শেখায় আজ তার কয়েকটা জামার গলায় সুই-সুতো দিয়ে লেইস লাগিয়ে দিয়েছে কেয়া। কাজটা বেশ সময় নিয়ে করতে হয়েছে ওকে। বিনিময়ে মহিলা ওর হাতে একশ টাকা গুঁজে দিয়েছেন। দুঃখের দিনে একশ টাকাতেও অনেক কিছু হয়। মহিলাকে সে এমন আরও কিছু সময়সাপেক্ষ কাজ খুব কম টাকায় করে দিতে চেয়েছে। তিনি রাজী হয়েছেন। প্রতিদিন যদি একশ টাকারও কাজ করে দিতে পারে তবে সপ্তাহে সাতশ টাকা পাবে। কিছুটা টাকা হলে অন্তত ওর বাচ্চাটার জন্য তালমিছরির একটা বড় কৌটা নিতে পারবে। তিতিরের জামা গুলো মলিন হয়ে গিয়েছে। মেয়েকে কয়েক জোড়া নতুন জামা কিনে দিবে। সেদিন রাস্তায় বাচ্চার কাছে টেডিবিয়ার দেখে ওটা নেয়ার জন্য কত কান্না করল তিতির! মেয়েটার কান্না সহ্য করতে না পেরে চড় মে রেছিল কেয়া। তারপর ওর চেয়ে বেশি নিজেই কাঁদল। সপ্তাহে সাতশ টাকা যদি পায় তাহলে মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা আয় করতে পারবে কেয়া। আর দুশো টাকার কাজ না-হয় বেশি করবে। মনে মনে হিসেব করল বাড়ির পাশে যেই গরুর খামারটা আছে ওখান থেকে তিতিরের জন্য এক পোয়া করে গরুর দুধও নেবে। মেয়েটা কিছুই খেতে চায়না। হাড় জিরজিরে হয়ে যাচ্ছে দিনকেদিন। ক্ষুধায় কান্নাকাটি করতে থাকে। যার কারণে বেশিরভাগ সময় মেয়েটা খিটখিটে হয়ে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে চোখ ভিজে যায় কেয়ার। ওর জীবনটা আগেও সরল ছিল না। আর এখন? নিজের সঙ্গে ওই ছোট বাচ্চাটার জীবনও কঠিন করে ফেলেছে। মেয়েকে একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দিতে পারছেনা সে। একজন ব্যর্থ মা সে। খালি পেটে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটা যখন ঘুমিয়ে যায়! মা হিসেবে ওর অন্তরটা যেন ছিঁড়ে যায়। ওই নিস্পাপ শিশুটাকে দুনিয়ায় এনে শুধু কষ্টই দিয়ে যাচ্ছে কেয়া। অজান্তেই কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কেয়ার। সেলাইটা ভালোমত শিখতে পারলে নিজেই ড্রেস ডিজাইন করবে সে।
পিন্টারেস্টে যেসব ডিজাইন দেখায় ড্রেসের ইদানীং তাদের অনেক চাহিদা। জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছে কেয়া কিছু একটা করার। শীতকালে পাঁচটা বাজতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। চারিদিকে অন্ধকার হয়ে এসেছে। এমতাবস্থায় সবচেয়ে উত্তম দ্রুত ঘরে ফেরা। খবরের কাগজে আজকাল কতকিছু বেরোয়! মেয়েরা ঘরে-বাইরে কোথাও সুরক্ষিত নয়। আজ বোধহয় ল্যাম্পপোস্টের সুইচ দিতে ভুলে গিয়েছেন মসজিদ থেকে। ঠিক তখনই একটা কালো গাড়ি একদম গা ঘেষে বেরিয়ে গেল ওর। ঘটনার আকস্মিকতায় ছিটকে পড়ল রাস্তার ফুটপাতে। আন্টির কাছ থেকে পাওয়া একশ টাকার মধ্যে চল্লিশ টাকা মেয়ের জন্য আড়াইশো গ্রাম চিনি কিনেছিল সে। আর ষাট টাকা দিয়ে ভ্যান থেকে পায়জামা আর এক জোড়া মোজা নিয়েছিল তিতিরের জন্য। মেয়েটা বড় হচ্ছে। আগের সব পায়জামা ছোট হয়ে গিয়েছে। তার উপর এত ঠান্ডা পড়ছে। তবে ধাক্কা লাগায় চিনির পলিথিন ছিঁড়ে ছড়িয়ে পড়ল রাস্তায়। আর হাতে পলিথিনে থাকা পায়জামাটা থাকলেও মোজা জোড়া উড়ে গিয়ে পড়ল ড্রেনে। ততক্ষণে গাড়িটা এগিয়ে গিয়েছে ধরা-ছোয়ার বাইরে। গাড়িটা এগিয়ে যেতেই একে একে রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট গুলো জ্বলে উঠল। সোডিয়ামের বাতির আলোয় সন্তানের জন্য কেনা চিনি আর মোজার সৎকার হতে দেখল কেয়া চেয়ে চেয়ে ! বিষন্ন হাসিটা আটকাতে পারল না । পা ছাড়িয়ে ঠায় বসে রইল রাস্তায় গড়াগড়ি খেতে থাকা চিনির পাশে। আরেকবার দেখল গোলাপি মোজা জোড়া যা ক্রমেই ড্রেনের কালো পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। ঘাড়টা হাঁটুতে গুজল। ছিলে যাবার কারণে জ্বলছে জায়গাটা। তবে হৃদয়ের ব্যথার কাছে ছিলে যাবার কষ্টটা কিছুইনা। পলিথিনে কিছুটা চিনি রয়ে গিয়েছে। চা-চামচ দিয়ে মাপলে দুই-তিন চামচের বেশি হবেনা। বাকিটা পিচঢালা ঝকঝকে রাস্তায় পড়ে আছে। অসুস্থ বাবা, বিরক্ত মা আর সংসারের যাতাকলে পিষ্ট হতে থাকা ভাইয়ের জীবনের বোঝা সে। মাঝেমাঝে বেঁচে থাকাটা এত কঠিন হয়ে যায় কেন? ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল কেয়া। ঠিক তখনই শুনল জুতোর আওয়াজ। কেউ এসে সম্ভবত দাঁড়িয়েছে ওর সম্মুখে। কালো চকচকে ফরমাল শ্যু পরা একজন লোক। প্যান্টও কালো। স্রেফ এতটুকুই দেখল কেয়া। লোকটার নজর ওর দিকে এতটুকু বুঝল সে। বুঝেও কোনো ভাবলেশহীনচিত্তে বসে রইল ঠায়। ঘাড়টা হাঁটুতে লুকিয়ে রাখল। দু-চোখ ভিজে গেল ফের। লোকটা একটা রুমাল এগিয়ে দিল ওর দিকে। বলল,
— ‘ এক্সকিউজ মি মিস? আপনি ঠিক আছেন? ‘
আচমকা আহত বাঘিনীর ন্যায় গর্জে উঠল কেয়া। পলিথিনে অবশিষ্ট চিনিটুকু সহ গোটা পলিব্যাগটা ছুড়ল লোকটার মুখ বরাবর। চেঁচিয়ে বলল,
— ‘ রাস্তাটা কি তোর নিজের নামে রেজিস্ট্রার করা? হ্যাঁ? গাড়ি আছে বলে কি বাকি মানুষকে মানুষ বলে মনে হয়না? তুই কে আমাকে জিজ্ঞেস করার আমি ঠিক আছি কি নেই? চোখ কোথায় রেখে গাড়ি চালাস? ‘ বলেই ফের পা ছাড়িয়ে বসে পড়ল কেয়া। কাঁদল হু হু করে। কান্নার দমকে কেঁপে উঠল সে বারংবার।
কান্নার মাঝে দেখল লোকটা তখনও দাঁড়িয়ে আছে৷ তীব্র বিতৃষ্ণায় লোকটার মুখের দিকে তাকালও না। আর তখনই ফের ডাকল ওকে লোকটা,
— ‘ কেয়া? ‘
কিন্তু চিনি, মোজা হারিয়ে কেয়ার দুঃখ এতটাই প্রখর যে সম্মুখে দাঁড়ানো লোকটার ওকে নাম ধরে সম্বোধনে তোয়াক্কা করল না। বরং পাজামা রাখা পথিব্যাগটা উঠিয়ে নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মত এগিয়ে গেল। ওকে যে যেতেই হবে। তিরির ঘুম থেকে উঠে ওকে না পেলে ভীষণ কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। সকাল থেকে না খেয়ে ছিল মেয়েটা। দুপুরে লবন, আলু চটকে একটু ভাত খেয়েছিল শুধু। আর খালি পেটে কারোরই ঘুম আসেনা সেটা বাচ্চা হোক বা বুড়ো মানুষ। ওর জীবনটা আগেও সংগ্রামী ছিল। এখনো আছে। ঠিক আছে। কাল বেশি করে কাজ করে দেবে কেয়া। তারপর আবার মেয়ের জন্য চিনি আর মোজা কিনব। অবশ্যই কিনবে….
টলতে টলতে এগিয়ে যাওয়া কেয়ার অবয়বের দিকে বিষন্ন দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে ওর সামনে দাঁড়ানো লোকটা রাস্তার পড়ে থাকা চিনির পাশে বসে পড়ল, যেভাবে কেয়া বসেছিল এতক্ষন.. ঠিকসেভাবে।
——–
আজ টিউশনির বেতন পেয়ে আব্বার জন্য ওষুধ, তিতিরের জন্য দুইকেজি চিনি কিনল রাফি। চিনির অভাবে বাচ্চাটা কিছুই খাচ্ছেনা কাল থেকে। রাফি নিজেও খেয়াল করেছে বিষয়টা। অথচ হাতে একটাকাও ছিলনা ওর। আব্বার প্রশারের ওষুধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিয়মিত প্রশারের ওষুধ না খেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আম্মার ডায়বেটিস।
ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে বিধায় একপ্যাকেট লেক্সাস বিস্কিটও নিয়ে নিল। রাস্তার পাশে ভাপা পিঠা বিক্রি করছিল সেখান থেকে কেয়ার জন্য দুটো ভাপা পিঠা নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হল রাফি। মাগরিবের নামাজও পড়ে নিয়েছে ইতোমধ্যে। টিউশনের বেতন পেলেও অন্য একটা কারণে রাফির মন আজ অনেক প্রফুল্ল। সকালে শুদ্ধ ফোন করে ওকে ইরাকে পড়াতে বলেছে। আচ্ছা শুদ্ধ কি তবে শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিচ্ছে? ভেবেই আরও হাসল রাফি। ওর অনুভূতি, ওর ভালোলাগা সবসময় গোপন রেখেছে সে। হৃদকুঠিরে জমে থাকা এক গোপন অনুভূতি তার ইরাবতী। আজ থেকে যেতে বলেছে। বাজার গুলো বাসায় বুঝিয়ে দিয়ে একটু গুছিয়ে নিয়ে তারপর পড়াতে যাবে রাফি। বেতন নিয়ে যদিও কিছু বলেনি শুদ্ধ তবে সে জানে রাফির সমস্যা গুলো অনেকটা সমাধান হবে। অন্তত আব্বার ওষুধ আর তিতিরের আনুষঙ্গিক যা লাগে সেটুকুর ব্যবস্থা করতে পারবে। বাড়ি আসতেই দেখল তিরির ঘুম থেকে উঠে গলা ছেড়ে কাঁদছে। সবকিছু টেবিলে রেখে বাচ্চাটাকে কোলে উঠিয়ে নিল রাফি। মাকে উদেশ্যে করে বলল, — ‘ ওই ব্যাগে চিনি আছে। আমার কলিজার জন্য সুজি রান্না কর কলিজার নানুমনি। আমরা একসাথে খাব সুজি খাব, ওকে তিতিরপাখি?’
তিতিরের কান্না তবুও থামল না। বরং ঠোঁট ফুলিয়ে মামার কাঁধে মাথাটা গুঁজে বলল,— ‘ মাম্মাম কুতায়?’
ফরিদা বেগম ইতোমধ্যে ব্যাগ থেকে চিনি বের করে সুজি রান্নার জন্য রান্নাঘরে চলে গিয়েছেন। তিতিরের দুগালে চুমু দিয়ে বলল,— ‘ মাম্মাম কে তাড়িয়ে দিয়েছি। আমার তিতিরপাখিকে খালি মা রে। মাম্মাম পঁচা। তাইনা? ‘
তাৎক্ষনিক কান্না থামিয়ে প্রতিবাদ করল তিরির, — ‘ না। মাম্মাম ভায়ো (ভালো) ‘
— ‘ উঁহু পঁচা। ‘
— ‘ তুমি পতা, মাম্মাম ভায়ো।’
— ‘ ও এখন মাম্মাম ভালো তাইনা? যা-ও আমার তিতিরপাখিকে আমি কোলে নেব না। আমি পঁচা? হ্যাঁ? ‘
সঙ্গে সঙ্গে রাফির গালে চুমু দিল তিতির। দিয়ে বলল, — ‘ তুমিও ভায়ো মাম্মা।’
ভাগ্নির মাথায় হাত বুলিয়ে ঘরময় হাঁটল রাফি। যতক্ষণ পর্যন্ত সুজি রান্না করে ফরিদা ঠান্ডা করে আনছেন ততক্ষন রাফি বাচ্চাটাকে কোলে রাখবে। তিতিরও কান্না থামিয়ে চুপটি করে মামার কাঁধে মুখ গুঁজে পড়ে রইল।
————-
রাফি ইরাকে পড়াতে এলো আটটার সময়। সবসময়ের মত মাপা কথাবার্তা আর গম্ভীর মুখশ্রী নিয়ে। ইরা সম্ভবত ওকে দেখে মোটেও খুশি নয়। গাল ফুলিয়ে রেখেছে। একটু পর পর ক্ষোভ নিয়ে তাকাচ্ছে। অবশ্য রাফি জানে এই মেয়ে ফাঁকিবাজ। চরম লেভেলের ফাঁকিবাজ। ইরাকে ইংরেজি আর আইসিটি পড়াতে হবে। মোবাইল, মানিব্যাগ টেবিলে রেখে ইরার সামনে বসল। ওকে পা থেকে মাথা অব্দি দেখে নিয়ে বিরস কন্ঠে আওড়ালো ইরা, — ‘ ছার.. সালামালেকুম। ‘ ছার সম্বোধনে বিষম খেল রাফি। তবে স্বভাবসূলভ গাম্ভীর্য বজায় রেখে বলল, — ‘ সালামটা অন্যন্ত সুন্দর করে দিতে। ‘
ব্যস এবারে টেনে টেনে সূর করে বলল,
— ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, ছার।’
হাল ছাড়ল রাফি। বলল, — ‘বই বের করো।’
উদাস কণ্ঠে ইরা বলল, — ‘ কোন বই ছার?’
— ‘ইংরেজি।’
— ‘ ইংরেজি আমি সব পারি ছার।’
— ‘ তা-ই? ‘
— ‘জি ছার।’
— ‘ আচ্ছা তাহলে We know him এটার প্যাসিভ ভয়েজে রুপান্তর করো তো। ‘
খাতাটা টেনে নিল ইরা। কলম চালিয়ে খটখট করে লিখল, — ‘He is known by all.. লিখে খাতাটা রাফির উদেশ্যে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, — ‘ দেখলেন ছার? আমি সব পারি। ‘
শান্ত চোখে ইরার দিকে চেয়ে রইল রাফি। খাতাটা রোল করে ইরার মাথায় বাড়ি দিল। যদিও আস্তে করেই দিল। কিন্তু বাড়ি দেয়ার পর ওর বুকে মোচড় দিল। কিন্তু সেদিকে পাত্তা না দিয়ে লাল কালি দিয়ে গোটা বাক্যটা নিজেই সাজিয়ে লিখল, — ‘ He is known to all হবে ছারের ফাঁকিবাজ ছাত্রী। এবার বই খুলেন। দেখি আর কি কি জ্ঞানের ভান্ডার জমিয়ে রেখেছেন।’
মাথায় যেখানে রাফি মে রে ছে ওই জায়গাটাই হাত বুলিয়ে, ঠোঁট উল্টালো ইরা। ভাসা ভাসা চোখে রাগ নিয়ে তাকাল।তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
— ‘ ছার? ইংরেজি আমি আপনার থেকে বেশি পারি। ‘
নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর করল রাফি,
— ‘গুড।’
— ‘শুনবেন?’
— ‘না। ‘
— ‘ আমি তোমাকে ভালোবাসি আপনি এটার ইংরেজি পারেন ছার?’ বলেই অধর ছাড়িয়ে হাসল ইরা… আর রাফির হৃদস্পন্দন থমকে গেল।
চলবে…..