গল্প: শখের পদ্মফুল (০৬)

লেখনীতে:লুনা আক্তার নূর
পর্ব:৬

 

ঘড়ির কাটা এখন সকাল ৮ এর ঘরে। নিচে বেশ হৈচৈ হচ্ছে যার ফলে ইভানের ঘুমটা হালকা হয়ে আসে। ঘুম ঘুম চোখে সে উঠে ফোনটা হাতে নেই আর কাউকে কল করে।

ইভান:- হ্যাঁ তোমাকে যা বলেছিলাম তা কি করতে পেরেছ।

__:- জ্বি স্যার। আমি ম্যামের বাড়িতে খোঁজ করতে গিয়েছিলাম তবে ম্যাম নাকি ৫ বছর ধরে সেখানে যান নি। উনি নাকি আপনার বাবা মায়ের সাথেই থাকে।

ইভান এটা শুনে বেশ অবাক হয়ে যায়। যদি আইরা তার বাবা মায়ের সাথেই থাকবে তাহলে সে তার বাবা কে ইনিয়ে বিনিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কেনো বলতেন যে আইরা তাদের সাথে থাকে না।

__:- স্যার আমার কথা কি শুনতে পাচ্ছেন।

ইভান:- হু~হুম বলো আমি শুনছি।

:- স্যার আমি আপনার ফোনে একটা ফটো সেন্ড করেছি। ফটো টা ম্যামের ৫ বছর আগে আপনাদের বিয়েতে তোলা ফটো। এটাই ম্যানেজ করতে পেরেছি অনেক ক’ষ্টে।

ইভান:- হুম কল কা’টো আমি দেখছি।

বলেই ইভান কল কেটে দেই। এরপর সে নোটিফিকেশন টা ওপেন করে যেখানে ইভান আর আইরার বিয়েতে তোলা একটা ফটো রয়েছে। এই ফটোটা ইভান কিছুতেই তুলতে চাইছিল না, তবে মিসেস শারমিন তাকে জোর করিয়ে আইরার পাশে বসিয়ে ফটো টা তুলিয়েছে।

তখন মায়ের প্রতি এত রা’গ হয়েছিল যে সে নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী মুখটাও পর্যন্ত দেখেনি। তাকে ফেলেই চলে গিয়েছিল 𝐂𝐚𝐧𝐚𝐝𝐚. একবার ও ভাবে নি যে সেই মেয়েটার কি হবে। স্বা’র্থ’প’রে’র মতো শুধু নিজের কথাই ভেবেছে ইভান।

দেশ ছেড়ে চলে আসার পর তার প্রতিটা মুহূর্ত অস্থিরতায় কাটলেও দেশে আসার পর কোনো এক অজানা কারণে তার ভেতরে খুব ভালো লাগা কাজ করছে। শুরুতে বুঝতে না পারলেও এখন সে বুঝতে পারছে সেই কারণ টা কি।

কারণটা যে তার পিচ্চি বউ সেটা সে বেশ ভালোই বুঝতে পারছে। এত দিন হয়তো বুঝতে পারত তার এই অবস্থা কেনো হচ্ছে তবে সে নিজের অনুভূতি গুলোকে দাবিয়ে রাখত। কখনো সেগুলোকে বাইরে আসতে দিতো না। কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

তাই তো নিজের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে তাকে দেশে ফিরতেই হলো। যাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে স্বীকার ই করতে চাইছিলো না এখন তার জন্য মনটা কেমন ছটফট করছে।

মনে হচ্ছে তাকে একবার দেখলে শত বছরের তৃষ্ণার্ত চোখ জোড়া শান্তি পাবে। ইভান ফটোটা একটু জুম করে দেখে। সে আইরার ছবির ওপর হাত বোলাই। মুচকি হেসে তার ছবির ওপর ঠোঁ’ট ছোঁয়ায়।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ আইরার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই ইভানের কাছে মনে হয় আইরা কে খুব চেনা চেনা লাগছে তার।

ইভান:- মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে আমি এই মুখ আগেও দেখেছি।

৫ বছর আগের আইরা আর ৫ বছর পরের আইরার ভিতর এখন আকাশ পাতাল পার্থক্য। সেই জীর্ণ শীর্ণ শরীরের আইরা এখন বেশ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হবে নাই বা কেনো। এখন যে সে ২৩ বছরের যুবতী।

বাবার ঘরে সৎ মা থাকায় অযত্নে তার শরীর প্রায় শেষের দিকে ছিল। তবে মিসেস শারমিন আর মিস্টার ইমরান রহমান তার যা যত্ন করেন তাতে তো এমনি হওয়ার কথা। তবে একটা মিল এখনো আছে আর সেটা হলো আইরার চোখের নিচে একটা ছোট্ট তিল।

ইভান ফটোটাকে ভালো করে খেয়াল করলো আর নিজের মগজে একটু চা’প দিলো। হঠাৎ করেই তার কাছে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হতে শুরু করলো।

ইভান:- আরে হ্যাঁ কালকে যে মেয়েটাকে ঐ ব’দ’মা’শ লোকটার হাত থেকে বাঁচালাম, সেই মেয়েটার মতোই লাগছে অনেক টা আমার পিচ্চি কে। তার মানে ঐ মেয়েটার আমার ৫ বছর আগে অবহেলায় ফেলে আসা সেই পিচ্চি বউ। এইজন্যই ওকে দেখার পর আমার ভেতর টা এমন করছিল। মনে হচ্ছিল যে ওর সাথে আমার কোনো কানেকশন আছে।

ইভান তাড়াতাড়ি করে বেড থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে রূম থেকে বের হয়। তখনই পাশের রুম থেকে আওয়াজ আসে। ইভানের পা সেখানেই থেমে যায়।

ইভান ধীরে ধীরে রুমে প্রবেশ করে। ইভানের পায়ের আওয়াজ পেয়ে আইরা মনে করে যে হয়তো রুমে জারা এসেছে। তাই আইরা বলে,

আইরা:- আপু তুমি এসেছ। বলছি যে আমি না জামার পিছনের হুক টা লাগাতে পারছি না। আমাকে একটু হেল্প করো না প্লিজ।

ইভানের বুকের ভেতর ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ আয়নায় আইরার মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সদ্য সাওয়ার নিয়ে আসা আইরার লম্বা লম্বা চুল থেকে এখনো পানি পড়ছে।

মুখেও বিন্দু বিন্দু পানির ফোঁটা লেগে আছে। আইরা কে দেখতে একদম স্নিগ্ধ লাগছে ইভানের কাছে।

ইভান ধীরে ধীরে আইরার একদম কাছে এসে দাঁড়ায় আর কাঁপা কাঁপা হাতে জামার হুক টা লাগাতে শুরু করে। লাগানোর শেষে আইরা বলে,

আইরা:- থ্যাঙ্ক ইউ আপু হেল্প করার জন্য। আরেকটা হেল্প করবে? বলছি যে আমার স্টিক টা কি এখানেই আছে?? থাকলে একটু এনে দাও না।

ইভান, আইরার স্টিক টা নিয়ে তার হাতে দেই। এরপর ইভান, আইরার একদম কানের কাছে গিয়ে বলে,

ইভান:- তোমাকে আজকে একদম হলুদ পরি লাগছে পিচ্চি। খুব খুব বেশি সুন্দর লাগছে তোমাকে। (হিম শীতল কন্ঠে)

ইভানের এমন হিম শীতল কন্ঠ শুনে আইরা একদম জমে যায়। সে বলে,

আইরা:- কে~কে এখানে।

আইরা হাতড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করে যে কে এমন করে কথা বলছে। তখনই ইভান তার কোমল হাত জোড়া নিজের দখলে নিয়ে তাতে ঠোঁ’ট ছোঁয়ায়, এতে যেনো আইরা আরো কেঁপে ওঠে।

ইভান:- ভয় পেওনা পদ্ম ফুল আমি। তোমার সেই অপদার্থ স্বামী যে তোমার অক্ষমতা দেখে নিজের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে তোমাকে এই সমাজের মানুষের মধ্যে একা ফেলে চলে গিয়েছিল। (কাঁপা কাঁপা কন্ঠে)

ইভানের কথা শুনে আইরার গলা ধরে আসতে শুরু করে। তবুও আইরা বলে,

আইরা:- আপনি। কেনো এসেছেন আবার?? এবার কি তবে এই সম্পর্কের ইতি টানতেই আবার ফিরে এসেছেন?? (ছল ছল চোখে)

কথাটা বলতে গিয়ে আইরার গলা অসম্ভব ভাবে কাঁপছে। তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা জল। ইভান সযত্নে তার গড়িয়ে পড়া অশ্রু মুছে দিলো আর বললো,

ইভান:- আমি এই সম্পর্কের ইতি টানতে আবার তোমার কাছে ফিরে আসিনি আইরা। এবার আমি সব কিছু ঠিক করতে এসেছি। তোমাকে নিজের করতে ফিরে এসেছি। ৫ বছর আগে আমি যে ভুলটা করেছি সেটার প্রায়শ্চিত্ত করতেই তোমার কাছে ফিরে এসেছি।

আইরা:- মানে?

ইভান:- মানে এবার তোমাকে সবার সামনে স্বীকৃতি দেবো। আর স্বা’র্থ’প’র হবো না পদ্ম ফুল। আমাকে কি ক্ষমা করবে!! দেবে কি শেষ বারের মতো একটা সুযোগ আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে!! আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আর কোনোদিনও তোমাকে ক’ষ্ট দেবো না। একটা ফুলের মতো করে আগলে রাখবো এইদেহে যতদিন প্রাণ থাকবে।

আইরা কিছুই বলে না। সে চুপ করে থাকে। এটা দেখে ইভান তাকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেই। এমন ভাবে তাকে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে যেনো মনে হচ্ছে ছেড়ে দিলেই আইরা বুঝি তার থেকে পালিয়ে যাবে।

আজকে যেনো ইভানের বুকের ভেতর এতদিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিমেষেই নিভে গেলো। খুব শান্তি লাগছে তার।

বেশ কিছুক্ষণ ইভানের বুকের সাথে লেপ্টে থাকার পর আইরা তাকে ধা’ক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেই।

এতে ইভানের প্রথমে বেশ অবাক হয় সাথে কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে সে নিজেকে সামলিয়ে আবার আইরার কাছে আসতে চায় কিন্তু আইরার কথাই সে থেমে যায়।

আইরা:- দয়া করে আমার কাছে আসবেন না। আমার অস্বস্থি হচ্ছে আপনার সান্নিধ্যে।

ইভান বেশ অবাক হয়ে বলে,

ইভান:- এটা তুমি কি বলছ আইরা! আমি তোমার স্বামী। আমার কাছে আসাতে তোমার অস্বস্থি হচ্ছে!!!

আইরা:- হ্যাঁ হচ্ছে, আর স্বামী। কেমন স্বামী আপনি? পৃথিবীতে কোনো মানুষই নিখুঁত হয় না। হ্যাঁ মানছি যে আমি চোখে দেখতে পাই না। কিন্তু এতে কি আমার হাত আছে? আপনি কি আমার সর্ম্পকে জানেন! ছোট থেকে ঠিক কিভাবে বড় হয়েছি আমি। একটা মেয়ের কাছে যদি তার মা না থাকে তখন তার কাছে দুনিয়াটা ঠিক কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠে তা কি আপনি আদেও জানেন? সৎ মায়ের ঘরে থেকে দিনের পর দিন ঠিক কি পরিমাণে খো’টা শুনতে হয়, অ’ত্যা’চা’রি’ত হতে হয় জানেন আপনি?? যেখানে সারাদিন আমার মৃ’ত্যু কামনা করা হতো সেখানে আমি দিনের পর দিন নির্লজ্জের মতো পড়ে থেকেছি, কেনো জানেন?? কারণ আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। একটা মেয়ের কাছে বাবা মায়ের পরে স্বামীই হলো তার সবচেয়ে আপন। কিন্তু আমার কপাল টা দেখুন, না পেলাম মায়ের ভালোবাসা, না পেলাম বাবার আদর আর না পেলাম স্বামীর সংসার। যখন আম্মু আমাকে ঐ ন’র’ক থেকে বের করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল আপনার সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য তখন আমি ভেবেছিলাম এবার হয়তো একটু হলেও সুখের মুখ দেখব কিন্তু দেখুন সে কপাল ও আমার হলো না।

আর কিছু বলতে পারলো না আইরা। সে নিচে বসে পড়ল। আর কিছু বলার মতো মানসিকতাই তার ভেতর এখন আর নেই। তার ভেতরটা ভে’ঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। চোখ ফেটে কান্না গুলো বের হয়ে আসতে চাইছে কিন্তু আইরা কান্না গুলো কে গিলে অনেক ক’ষ্টে বলে,

আইরা:- আপনি এখন আসতে পারেন। প্লিজ আমাকে একটু একা ছেঁড়ে দিন ঠিক যেভাবে ৫ বছর আগে ছেড়ে ছিলেন।

ইভান, আইরা কে কিছু বলতেই যাবে এমন সময় মিসেস শারমিন রুমে প্রবেশ করেন।

__:- আইরা তুই রেডি…..

ইভান কে দেখে মিসেস শারমিন থমকে যায়। ইভান, মিসেস শারমিনের কন্ঠ শুনে পেছনে ফেরে। ইভানের থেকে চোখ সরিয়ে মিসেস শারমিন, নিচে বসে থাকা আইরার দিকে দৃষ্টি পাত করেন।

তারপর আবার ইভানের দিকে তাকান। এবার মিসেস শারমিনের চোখে স্পষ্ট রা’গ দেখা যাচ্ছে। তিনি তেড়ে ইভানের কাছে আসেন আর বলেন,

__:- তুমি! তুমি এখানে কি করছ হ্যাঁ। কালকে না তোমাকে বললাম যে বাড়িতে গিয়ে ডি’ভো’র্সে’র ব্যাপারে কথা হবে তাও তোমার শান্তি হচ্ছে না।

ইভান:- মম তুমি আমার সাথে এমন ব্যবহার কেনো করছ আর আমি কি ডি’ভো’র্সে’র কথা একবারও তুলেছি তোমার সামনে।

__:- বলার কি দরকার। এত বছর পর বাড়ি ফিরেছ নিজের ঘাড় থেকে ঝামেলা নামাতেই তো নাকি।

ইভান:- মম কি বলছ তুমি এইসব। আইরা আমার কাছে ঝামেলা!!!

__:- তা নয়তো কি। তোমার মনে নেই তুমি সেদিন কি বলেছিলে। লোকে যখন জানতে পারবে যে একটা অন্ধ মেয়ে তোমার স্ত্রী তখন সবার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ইভান রহমানের মাথা নিচু হয়ে যাবে।

ইভান:- হ্যাঁ মানছি আমি এইসব কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমি….

__:- থাক অনেক কথা হয়ে গিয়েছে আমি আর তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না। এখন তুমি এখান থেকে যেতে পারো। আর আরেকটা কথা, আমি যেনো তোমাকে আর আইরার আশেপাশে না দেখি।

ইভান:- মম আমার কথা এখনো শেষ হয়নি।

__:- আমি তো তোমার আর কোনো কথাই শুনতে চাইছি না।

ইভান:- কিন্তু মম…

__:- ইভান,, এক কথা বার বার বলা আমি একদম পছন্দ করি না সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো। আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ এই রূম থেকে বের হয়ে যাও।

ইভান ও আর কথা বাড়ায় না। প্রথমত সে তার মাকে খুব ভালো করে চেনে। তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ হলেও একবার রে’গে গেলে তাকে সামলো একদম অসম্ভব।

আর দ্বিতীয়ত ইভান ও একদম তার মায়ের এই স্বভাব টাই পেয়েছে। সে ও যদি একবার রে’গে যায় তো সে নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারে না।

তাই সে কিছু না বলে হাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে রূম থেকে বের হয়ে যায়। ইভানের বের হওয়ার সাথে সাথেই মিসেস শারমিন, আইরার কাছে গিয়ে তাকে জ’ড়ি’য়ে ধরে এতে যেনো এতক্ষণ আটকে রাখা কান্না গুলো আইরা আর সামলাতে পারে না।

সে মিসেস শারমিন কে জ’ড়ি’য়ে ধরে কান্নাই ভে’ঙ্গে পড়ে। মিসেস শারমিন, আইরার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,

__:- কাঁদিস না মা। আর কাঁদিস না।

বেশ কিছুক্ষণ কান্না করার পর আইরা নিজেকে সামলিয়ে বলে,

আইরা:- আম্মু উনি আবার কেনো এসেছেন। কেনো এলেন আবার। জানো আম্মু উনি না আমার হাত ধরে বলেছেন উনি নাকি উনার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতেই আবার ফিরে এসেছেন। আম্মু উনি কি সত্যি সত্যি আমাকে স্বীকৃতি দিতে ফিরে এসেছেন, নাকি আবার আমাকে ভে’ঙ্গে গুড়িয়ে দিতে এসেছেন।

মিসেস শারমিন, আইরার কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। তিনি আইরা কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বলেন,

__:- তুই এইসব কি বলছিস আইরা? ইভান তোকে সত্যি এইসব কথা বলেছে??

আইরা ওপর নিচ মাথা নাড়ায়। এরপর মিসেস শারমিন কে সবটা খুলে বলে। মিসেস শারমিন, আইরার কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়। কারণ তার জানা মতে ইভান তো এমন নয়। এত বছর পর দেশে ফিরে এসে হঠাৎ করেই আইরা কে নিজের স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইছে এটা যেনো কিছুতেই মিসেস শারমিনের হজম হচ্ছে না।

__:- শোন আইরা, আমি তোকে একটা কথা বলছি। ইভান যতই বলুক যে সে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে, প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই তুই কিন্তু ওর কথায় একদম কান দিবি না।

আইরা:- মানে!!

__:- মানে ইভান এত সহজে তোকে মেনে নিয়েছে এটা আমার ঠিক হজম হচ্ছে না তাই আমি ওকে পরখ করতে চাইছি। শোন আমি তোকে ঠিক যেভাবে বলব তুই সেইভাবেই কাজ করবি। যদি আমার প্ল্যান কাজ করে তো..

আইরা:- তো কি আম্মু??

__:- আমি যেটা ভাবছি সেটা যদি সত্যি হয় তো আমার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হবে না।

চলবে…..

ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

0 0 votes
Article Rating
Loading spinner
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x