গল্প:হৃদয়ের আশ্রয়(০৬)

পর্ব:০৬

লেখিকা:নুসরাত পুতুল

নাদিম ভাইয়ার হাতে আইসক্রিম নিয়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।  ভাইয়ার হাতে আইসক্রিম দেখে আনন্দে  চোখ চিকচিক করে উঠল আমার, ভাইয়া আমার জন্য  আইসক্রিম  নিয়ে আসতেছে নিশ্চয়ই।  পরক্ষণেই দেখলাম হাতে কেবল মাত্র  একটি আইসক্রিম,  মনটা মুহুর্তে খারাপ হয়ে গেলো।
আমাকে দিবে না, হয়তো তার নিজের জন্য  নিয়েছে।
মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি,
আমার ভাবনার ছেদ পরলো ভাইয়ার ডাকে
” এ ভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন।নে ধর।

আমার চক্ষু ছানাভরা। ভাইয়া আইসক্রিম  টা আমার দিকে এগিয়ে  দিচ্ছে।
আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে ভাষা হারালাম,
আমতা আমতা করে বললাম,

” আমার জন্য?

” তা নয়তো কি পাড়ার ছেলেদের জন্য এনেছি।  নে ধরে আমায় উদ্ধার কর এবার। না হলে গলে যাবে।

আমি আইসক্রিম  টা নিয়ে খেতে লাগলাম।
মনে মনে ভাইয়াকে হাজার বার ধন্যবাদ  দিতে দিতে বাড়ি গেলাম।
এর মাঝে নাদিম ভাই সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী  এক সপ্তাহ যেন আর কোনে খাবারের কথা মুখে না আনি।
আমি কেবল মাথা নেড়ে সম্মতি  দিয়েছি।

পর দিন শুক্রবার,  এ সপ্তাহে ছোট ফুপু আসেনি আমাদের বাড়ি,
সকালে দাদি নাদিম ভাইকে ডেকে জিগ্যেস করছে কি খাবে, কি রান্না করবেন।

আমার মনে রাগ আর দুঃখ  দুইটাই হলো।
এ কেমন অবিচার।  নাদিম ভাই আমার বড়, সে তো এ বাড়িতেই থাকে, এমন তো নয় সে মেহমান তাই তাকে জিগ্যেস  করছে কি খাবে কি পছন্দ  তার।
আমি ছোট,  হিসেবে তো আমাকে জিগ্যেস  করার কথা, কিন্তু  দাদি করছে উল্টো টা,

নাদিম ভাই সোজাসাপটা উত্তর দিয়ে দিলেন।
” চিংড়ি মাছ রান্না করো।

কষ্টের  মাঝেও আমার মনে একটু সুখ হলো। কারন চিংড়ি মাছ আমার খুবই পছন্দের।

এমন করেই আমার দিন কাটতে লাগলো।
আমার জীবনে খুব অল্প মানুষ এখন, দাদি নাদিম ভাই, আর লিভা মেডাম।
বাবার সাথে কথা হয়না তেমন।
__________

হাসনা বেগম নিজের স্বামীর থেকে লুকিয়ে কল করছে সিয়ামকে। জনাব লিহাব কাজে বাড়ির বাইরে আছে। রুমি গোসল করছে।এই সুযোগে হাসনা ফোনটা নিয়ে নিজের  ঘটের বারান্দায় এসে দাড়িয়ে কল করতে লাগল। খুব সাবধানে যেন কেউ  না দেখে।
দু বার রিং হতেই সিয়াম কল রিসিভ করলো।

” হ্যালো কে বলছেন।

হাসনা ইতস্তত বোধ করলো, তাকে চিনতে পারছে না। নাম্বার কি সেভ করা না?
” আমি ছামিরের মামি। কেমন আছেন জামাই,

সিয়ামের ভ্রুজোগল কুঁচকে গেলো।
নাম্বার টা সেভ করা ছিল না, আগে যদি জানতো ঐ বাড়ির কেউ তাহলে কল রিসিভ  করতো না সে।

এ দিকে কোনো উত্তর না পেয়ে হাসনা বেগম দ্বিতীয় বার বললেন।
” হ্যালো শুনতে পাচ্ছেন?

সিয়াম বিরক্তে কপাল কুঁচকে বলল,
” জ্বি কি জন্য  কল করেছেন বলুন।

হাসনা কিছুটা অপমান বোধ করলো, পরক্ষনেই ভাবলো ননদের সাথে জামেলা তাই এভাবে কথা বলতেছে। এসব ধরলে পারা যাবে না এখন।

” এমনি দিলাম। আপনি তো খুঁজ নেন না তাই আমি দিলাম।
“খুঁজ নেওয়ার মতো সম্পর্ক আপনাদের সাথে নেই এখন। তাই নেই না

” দেখেন, সংসার করতে গেলে কতো ঝামেলাই হয়।  এতো সব ধরে বসে থাকলে কি হবে। আমি বলি কি আপনি আসুন। কথা বলেন রুমি আপার সাথে। আমরাও তো আছি। তারপর না হয় আপাকে বলে আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়াব।
তারপরও এ ভাবে রাগ পোষে সংসার টা ভাঙবেন না। আপনাদের একটা ছোট ছেলে আছে। আরও একটা সন্তান রুমি আপার গর্ভে তাদের কথা চিন্তা  করে হলেও,

বাকি কথা বলার আগেই সিয়াম থামিয়ে দেয়।
” যা বলছেন যথেষ্ট বলছেন ভাবি। এ কথা আর মুখেও আনবেন না।

আমার ছেলে আমার কাছে ভালো আছে।
আর আপনার ননদের পেটের বাচ্চার কি করবে না করবে সে বেপারে আমার কোনো চিন্তা  নেই।
ওর মতো মেয়ের সাথে সংসার করা সম্ভব না।  সুতরাং আমায় সাত পাঁচ বুঝিয়ে বলতে আসবেন না।।

বলেই টুনটুন শব্দে কল কেটে দিলো।

হাসনা থ হয়ে দাড়িয়ে থাকলো কিছু ক্ষন। তাহলে কি স্বামীর কথা শেনা দরকার ছিল তার। শেনলে হয়তো এমন অপমানিত হতে হতো না এখন।

__________

একদিন বিকেলে দু হাত ভরে মিষ্টি নিয়ে মামা উপস্থিত হলো,
বাবা, ছোট ফুফু ও বাড়িতে সেদিন।
মামাকে দেখে সকলের মুখে ঘোর আমাবস্যা নেমেছে।

ফুফু মুখ বাকিয়ে বললো,
” হঠাৎ এমন মিষ্টি নিয়ে কোথা থেকে উদয় হলেন?

কথাটা যে অপমান করতে বলেছে তা বেশ বুঝলেন মামা। তবুও সবটা হেসে হজম করে বললেন।
” রুমির মেয়ে হয়েছে।
সিয়ামের ফোনে কল করছিলাম বার বার বন্ধ দেখায়। তাই মিষ্টি নিয়ে খুশির খবরটা দিতে চলে আসলাম।

বাবা ভ্রু করচকে বললো,
” আমি জানতাম আপনারা কল করে বিরক্ত  করবেন তাই সিমটা পাল্টে ফেলেছিলাম।  আর মেয়ে হয়েছে নাকি ছেলে হয়েছে সে সব তথ্য  আমরা চাইনা। আমি না ভাবিকে সে প্রথম দিন কল করার পরই বলেছি এসব বাচ্চার খবর আমাকে না জানাতে। গর্ভের বাচ্চার কোনো চিন্তা  আমরা করি না করব না।

আগেই তো বলে দিয়েছি।  ওর সাথে আমরা আর সম্পর্ক  রাখতে চাইনা, কোনো সম্পর্ক  রাখব না।  তাহলে কেন আসলেন।
আপনি মিষ্টি  নিয়ে চলে জান।
আর খএব শীঘ্রই ডিভোর্স  পেপার পাঠিয়ে দিব আমরা,

মামা কিছু  বললো না।

” ছামিরকে নিয়ে যেতে চাই আমি। রুৃির শরীর তেমন ভালো না। বেন আমার ছেলের শোকে অর্ধেক হয়ে গেছে।
বার বার ছামিের কথা বলতেছে।,  আপনারা অনুমতি দিলে তাকে দু দিনের জন্য  নিয়ে যেতাম আমি।
মামার কথা শোনে ঝাপটে ধরলাম মামাকে,

” আমি যাব মামা। আমায় নিয়ে চলো,

কিন্তু আমার কথা সম্পূর্ণ অগাহ্য করে ফুফু বলে উঠলেন।
” একদম  না, ঐ মহিলার সাথে আমাদের বাড়ির কোনো সম্পর্ক  নেই।

আমি এবং মামা দু জনেই এবার চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে রইলাম বানার দিকে,
এক মাত্র  সে পারবে ফুফুর কথার উপর দিয়ে আমায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি  দিতে, আমাকে মায়ের সাথে একটু দেখা করার সুযোগ  করে দিতে,

চলবে ইনশাআল্লাহ

( সবাই গঠন মূলক মন্তব্য করুন।  আচ্ছা  ভাবুন তো যারা গল্প  পড়ে তারা সকলে একটা করে রিয়েক্ট আর কমেন্ট  করলে ঠিক  কেমন হবে? যারা রিয়েক্ট দেয় তারাও যদি পত্যেকে একটা করে কমেন্ট করে। ব্যপার টা কতোটা সুন্দর  হবে😍 সকলে লাইক কমেন্ট করুন। ১ হাজার কমেন্ট  হলে পরবর্তী  পর্ব দিব😎😁)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x