Golpo-Sensation(04)

লেখনীতে:মাহজাবিনরাফা

পর্ব:৪

প্রনয়ের  পাশে কায়নাতকে দেখে মাহতিম সোফা থেকে ওঠে দাঁড়ালো।  এতবছর পর কায়নাতকে দেখে মাহতিম যেনো জমে যাচ্ছে।

~অতীতপাতা~

ঢাকা মেডিকেল কলেজ।  মাঠে বসে ছয়জন আড্ডা দিচ্ছে। চারটা ছেলে আর দুটো মেয়ে।  সবাই অবশ্য আড্ডা দিচ্ছে না।  একটা ছেলে গায়ের রং সাদামাটা।  অতটা ফর্সা নয়।তবে মুখের গঠন ভালো।  মুখে হালকা ছোপ ছোপ দাড়ি আছে। ঠোটগুলো কালচে হয়ে আছে।  হয়ত অতিরিক্ত চা – কফি  অথবা সিগারেট খায়। চোখের নিচেও কিছুটা কালচে ভাব। হয়তো রাত জাগা হয়। সে অনবরত  ফোনে মেসেজিং করাতে ব্যাস্ত। আরেকটা ছেলে কানে হেডফোন দিয়ে বায়োক্যামেস্ট্রি বই পড়ছে। এর বাহ্যিক গঠনটা নজর কারার মত। গায়ের রং সাদা ফর্সা ।  মুখের গঠনও ভালো।  আইব্রু গুলো মোটা তবে সুন্দর। চোখটা সবচেয়ে বাশি সুন্দর।  চোখের মণিগুলো হালকা নীল রংয়ের।  বাংলার মাটিতে যেনো বিীল এক প্রানী । চোখের পাপড়িগুলো একটু বেশিই বড়।  মুখে হালকা ছোপ ছোপ দাড়ি। সবমিলিয়ে বলাই যায় এ বাংলার মাটিতে বিড়ল এক প্রানী।  দুইটা মেয়ে দুই ফোন একসাথে  নিয়ে একসাথে বকবক করছে ননস্টপ।  দুজনই ভারি সুন্দর।  দুজনের পড়নেই টু – পিছ।  তাও আবার সেম ডিজাইনের সাম রংয়ের পড়েছে দুজনই।  মজার ব্যাপার হলো এরা দুজন জমজ। তবে একজনের ঠোঁটের ওপরে একটা তিল আর আরেকজনের ঠোঁটের নিচে একটা তিল। সৃষ্টিকর্তা
এটা দিয়েছেন বোধহয় এদের তফাত করার জন্যই। বাকি দুটো ছেলেও মন দিয়ে পড়ছে।

ঠোঁটের উপরে তিল যেই মেয়েটার ওই মেয়েটা নীল মণিযুক্ত ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে – এই মাহতিম!  কানের হেডফোন নামা আর আমার কথাটা শোন

মাহতিম বইয়ে চোখ রেখেই বাজখাঁই কন্ঠে প্রশ্ন করে – মীরা কি সমস্যা তোর?

– আমার কি সমস্যা থাকবে সমস্যা তোর ভিতর

মাহতিম ভ্রু বাকিয়ে কপাল কুচকে মীরার দিকে তাকিয়ে কান থেকে হেডফোন নামিয়ে বলে ওঠে – What ?

– খুদা লাগছে চল ক্যান্টিনে যাই

– আমার খুদা নেই। আমি পড়ছি তোরা যা।

মীরা উঠে দাড়িয়ে বাকিসবার দিকে তাকিয়ে বলে আমি গেলাম তোরা থাক।  মাহতিম বাদে চারজনই উঠে দাড়ায় মীরার সাথে যাবে বলে। মাহতিম ঘাসের উপর থেকে নিজের এপ্রোন নিয়ে ওদেরকে রেখেই ক্লাসের দিকে পা বাড়ায়।  মীরা নিজের বোনের দিকে তাকিয়ে বলে – তুইও যা তোর পেয়ারা দোস্ত চলে যাচ্ছে।

– হাহ্ আমি নীরা ওকে।  আমি এত পড়তে পারব না। ওর সাথে গেলে এখনই বই নিয়ে আমাকে পড়তে বসিয়ে দিবে।

ওর কথা শুনে বাকি চারজন একসাথে হেসে ওঠে।  আজকে কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান। যদিও এরা ভেবেছিল এরা কেউ এটেন্ড করবে না এই অনুষ্ঠান।  তবে ওদের ম্যাম ওদেরকে বলল – সময়মতো চলে আসবে।  ওই ম্যামকে এরা মায়ের নজরে দেখে তাই না চাইতেও অনুষ্ঠানে এটেন্ড করেছে সবাই।  টিচাররা নবীনদেরকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা বলছে।
মাহতিম এখানেও বই পড়ছে।  মীরা আর নীরা বসে বসে গল্প করছে। ওদের সাথে আছে ওদের গ্রুপের বাকি তিনজন ছেলেও। সেই পড়ুয়া দুজনের মধ্যে একজন ফোনে গেম খেলছে আর আরেকজন ছবি তোলাতে ব্যাস্ত। যেই ছেলেটা ছবি তুলছে ওর নাম শাহরিয়ার আর্য আর যেই ছেলেটা গেইম খেলছে ওর নাম মুগ্ধ সায়ন্ত। আর আরেকটা যে ছেলে আছে ও একজনের সাথে কথা বলছে ওর নাম প্রিয়ম চৌধুরী। হঠাৎই সব লাইট অফ হয়ে যায়।  সবাই আশেপাশে তাকাতে থাকে। তখনই স্টেজে নীল দিগন্তে গানের টিউন শুনে সবাই স্টেজের দিকে নজর দিলো।  লাইট জ্বলে উঠেছে।  একটা মেয়ে গানের তালে নাচছে। মেয়েটার পড়নে নীল রংয়ের একটা শাড়ি।  সাথে সাদা রংয়ের ব্লাউজ।  চুলগুলো বেনী করা।  বেনীটা কোমড় ছেড়ে নিচে নেমেছে।  মুখে হালকা মেকাপ করা।  ঠোঁট নুড কালারের লিপস্টিক। চোখে কাজল। কানে ঝুমকা আর গলায় ঝুমকার সাথে ম্যাচ করে গয়না। গানের তালে তালে নাচছে মেয়েটা।

মাহতিম মীরাকে বলে ওঠে – এই মীরা শোন

– হুম বল

– মেয়েটা কে রে?

– আমি কি জানি?  নিউ স্টুডেন্ট মেইবি

– আমার একটা হেল্প করবি?

– এখন বলিস না মেয়েটার ইনফরমেশন বের করে দিতে তাহলে আমি অষ্টম আশ্চর্যের মুখোমুখি হয়ে এখনই মরে যাব

– ওর ইনফরমেশন বের করে দে।  প্লিজ

– তুই না নারী বিদ্বেষী!  তুই ওর ইনফরমেশন দিয়ে কি করবি?

– মেয়েটাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে

– Are you serious

– I’m damn serious.  একেই তদের ভাবি বানাবো

মীরা বাকি চারজনের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে গাইস মাহতিমের বউকে পেয়ে গেছি

আর্য খুশি হয়ে বলে ওঠে  – who is that unlucky girl

নীরা বলে ওঠে –  ওমা তাই নাকি!

প্রিয়ম আর মুগ্ধ একসাথে চিল্লিয়ে বলে ওঠে – কি ?

মাহতিম  ধীরকন্ঠে বলে ওঠে – তোরা না পারলে আমি নিজেই করে নেবো

সবাই একসাথে বলে ওঠে – আরে দোস্ত চিল আমরা পারবো তো বের করতে ওকে, ওর বাপ দাদার চৌদ্দগুষ্টির সবার হিস্ট্রি বের করে ফেলব

– সবারটা লাগবেনা শুধু ওরটা হলেই হবে

মাহতিম স্টেজের দিকে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা নাই।  মাহতিম চারিদিকে তাকিয়ে মেয়েটাকে খুজতে থাকে। মাহতিম উঠে চলে যায়।  বাকিরা মাহতিমের পিছনে না গিয়ে মেয়েটার খোঁজ করতে বের হয়।  নিরা মিরা সব মেয়েদেরকে জিজ্ঞেস করতে থাকে মেয়েটার ব্যাপারে।  আর্য আর মুখ তো সব ছেলেদেরকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে।  প্রিয়ম চলে যায় টিচারদের কে জিজ্ঞেস করতে ।

চলবে………….

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x