Story: Little Bird(01)

Writer:Smrity Sarker

পর্ব_1

🚫 কপি নিষিদ্ধ 🚫

 

শরতের সকাল….

জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকছে ঠান্ডা বাতাস, যেন নরম হাতের মতো ধীরে ধীরে ঘরের কোণ ছুঁয়ে যাচ্ছে। মশারির ভেতরে জমে থাকা উষ্ণতার সঙ্গে বাইরের বাতাসের ঠান্ডা একটা অদ্ভুত খেলা শুরু করেছে।

দূরে শালিক আর দোয়েলের কিচিরমিচির, যেন অদৃশ্য অ্যালার্ম বাজছে প্রকৃতির হাত ধরে। হঠাৎ মাটির উপর পড়ে থাকা শুকনো পাতায় বাতাসের খসখস শব্দে চমকে উঠল শূন্যতা।

অলস চোখ মেলতেই তার সামনে ভেসে উঠল সোনালি রোদে ঝলমল ধুলো কণা, যেন আকাশ থেকে ছোট ছোট তারা নেমে এসেছে। নিঃশ্বাস ভরে সে টেনে নিল সকালের সেই স্বচ্ছ গন্ধ-শুকনো ঘাস আর কচি রোদের মিশ্রণ।

চোখ খুলে প্রথম কয়েক সেকেন্ডে মনে হলো, সময় থেমে আছে। তারপর ধীরে ধীরে কান পেতে শোনল বাইরের কোলাহল-হল থেকে মেয়েদের হাসি,

শূন্যতা হালকা নড়েচড়ে বসল। চোখের কোণে এখনো ঘুমের আলসেমি লেগে আছে, কিন্তু শরতের সকালটা যেন তাকে পুরোপুরি জাগিয়ে তুলতে চাইছে। নরম বাতাসে পর্দা দুলছে, সোনালি রোদ এসে পড়ছে তার মুখে। ঠিক তখনই বাইরে থেকে ভেসে এল এক পরিচিত কণ্ঠস্বর-

-“শূন্যতা, তোর সাথে কে যেন দেখা করতে এসেছে। নিচে দাঁড়িয়ে আছে।”-শূন্যতার ক্লাস মেট

কণ্ঠস্বর শুনেই শূন্যতা চমকে উঠল। ঘড়ির কাঁটা তখন মাত্র সকাল সাতটা। এত সকালে আবার কে আসতে পারে তার খোঁজে? বিস্ময় আর কৌতূহল মিশে বুকের ভেতর হালকা ধকধকানি শুরু হলো।

তাড়াহুড়ো করে একটা ওড়না গলায় জড়িয়ে নিল সে। হলের লম্বা সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে অজানা শিহরণে তার ভেতরটা ভরে উঠছিল। সকালের নীরবতায় নিজের পদশব্দও যেন কানে ভেসে আসছিল অচেনা কোনো সুরের মতো।

প্রতিটি ধাপ নামার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল-

“কে হতে পারে এত সকালে?”

সেহেরিস আনায়া শূন্যতা, পরিবারের বড় মেয়ে। রংপুরের মেয়ে হলেও পড়াশোনার জন্য রাজশাহীতে থাকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সে, হলে থাকে। ছোট বোন নেহা, ক্লাস টেনে পড়ে। বাবা নাহিদুল সরকার কারমাইকেল কলেজের লেকচারার, মা তামান্না বেগম গৃহিণী-
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতেই শূন্যতা অবাক হয়ে থমকে গেল। তার খালাতো ভাই নাহিদ দাড়িয়ে আছে। লম্বা গড়ন, চোখে হালকা ক্লান্তির ছাপ, তবু ভেতরে যেন চাপা উচ্ছ্বাস লুকানো।

শূন্যতা বিস্মিত কণ্ঠে বলল-

-“আরে ভাইয়া! এত সকালে তুমি এখানে? বাসার সবাই ঠিক আছে তো?”

নাহিদ গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল-

-“হ্যাঁ, সবাই ভালো আছে। তবে তোকে কাল থেকে ফোন দিচ্ছিলাম, ধরলি না কেন?”

শূন্যতা লজ্জায়, হালকা হেসে উত্তর দিল-

-“মনে হয় ফোনটা সাইলেন্টে ছিল, খেয়ালই করিনি।”

-“আচ্ছা, বাদ দে।”

-“তুই রেডি হয়ে আয়। নানুর বাসায় যাবি। মামি তোকে নিতে পাঠালো।”

শূন্যতার কপালে ভাঁজ পড়ল।

-“হঠাৎ নানুর বাসায়? কিছু হয়েছে নাকি?”

নাহিদের চোখে তখন অদ্ভুত রহস্যমাখা ঝিলিক। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে শুধু বলল-

-“সব কথা এখন বলা যাবে না। গেলেই বুঝবি।”

শূন্যতা আর কথা না বাড়িয়ে দ্রুত রেডি হয়ে নেমে এলো। কালো থ্রিপিসে, ঠোঁটে হালকা মিউট লিপস্টিক, লম্বা চুল ফ্রান্স বেণীতে বাঁধা-দেখতে যেন অপরূপ লাগছে।
নাহিদ তাকিয়ে থেকে হেসে বলল-

-“মাশাআল্লাহ! তোকেঅনেক সুন্দর লাগছে। আমার গফ না থাকলে তোকে-ই গফ বানাতাম।”

শূন্যতা ভ্রু তুলে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল-

-“হুম, হইছে ভাইয়া। পাম দিতে হবে না। আমি ৪০ কেজি ওজনের-অর্থাৎ মোটা। তাই উড়ে যাবো না।

বুঝছ?”

নাহিদ হো হো করে হেসে উঠল-

-“তুই মোটা? হাহাহা! শূন্যতা ঠোঁট উল্টিয়ে বলল,

-“হ্যাঁ, আমি মোটা।”

নাহিদ আবার মজা করে বলল-

  1. -“ঠিক আছে বাবা, মোটা তুই। চল, এখন নানুর বাসায় পৌঁছাই।”

চলবে…..

এইটা আমার লিখা গল্প, প্রথম গল্প লিখছি যদি রেসপন্স পাই তাহলে পুরাটাই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।😌

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x