Writer:Smrity Sarker
পর্ব:০2
🚫 কপি নিষিদ্ধ 🚫
শূন্যতা হেসে কাঁধ নেড়ে নাহিদের সাথে গাড়িতে উঠে বসল।
শূন্যতার নানু বাসা রাজশাহীতেই। ওর হল থেকে যেতে প্রায় ৩০ মিনিট লাগে।
গাড়ি থেকে নামতেই শূন্যতা এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল। অবাক হয়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখল-পুরো বাসাটা যেন উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে।
এ যেন তার কাজিনদের মিলনমেলা-ছোটরা হইচই করতে করতে দৌড়াদৌড়ি করছে। পরিচিত মুখগুলো একসাথে দেখে শূন্যতার বুক ভরে উঠল আনন্দে। যেন অনেকদিন পর ফিরে পেল আপনজনদের সেই উষ্ণতা, সেই নির্ভরতার আবহ। মুহূর্তেই ক্লান্তি, অবসাদ সব মিলিয়ে গিয়ে ভেতরটা ভরে উঠল প্রশান্তিতে।
সকলের আসার কারণ একটাই-দীর্ঘ সাত বছর পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছে চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে রাইদ চৌধুরী। পরিবারের গর্ব, সবার প্রিয়, সবার ভরসা। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, ভদ্র আর দায়িত্বশীল রাইদ আজ একজন সফল কার্ডিওলোজিস্ট।
চৌধুরী পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মুখে তার নাম উচ্চারিত হয় গর্বের সঙ্গে। খালা-খালু, মামা-মামি থেকে শুরু করে ছোট কাজিনরা পর্যন্ত রাইদকে যেন হিরো হিসেবেই দেখে। আর আজ এতদিন পর তাকে একনজর দেখার জন্য, তার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করার জন্য, একসাথে হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য সবাই একত্রিত হয়েছে।
বাড়ির আঙিনা জুড়ে তাই উৎসবের আমেজ। আলো, সাজসজ্জা, অতিথিদের কোলাহল-সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে যেন রাইদের ফিরে আসাতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে চৌধুরী ভিলা।
কিন্তু শূন্যতা জানেই না, যে রাইদ ফিরেছে। যদি জানত, তবে কোনোভাবেই আসত না। কারণ তার ভেতরে অদৃশ্য এক ভয় জমে আছে-রাইদের জন্য।
ঘরে ঢুকতেই মামনি (মামি) শূন্যতাকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল– “আরে আমার মামনি যে! কেমন আছিস? আসতে কোনো সমস্যা হলো না তো? এতো দেরি হলো কেন?”
শূন্যতা দৌড়ে গিয়ে মামনির বুকে মুখ গুঁজে দিল। পরিচিত সেই উষ্ণতা, সেই নিরাপত্তার ঘ্রাণে তার বুকটা হঠাৎ করেই হালকা হয়ে গেল। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, অপেক্ষা, সবকিছু যেন মিলিয়ে গেল এক মুহূর্তে।
-“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি মামনি। কোনো সমস্যা হয়নি। তুমি কেমন আছো?” শূন্যতার কণ্ঠে মিশে ছিল আনন্দ আর স্বস্তি।
মামনি দু’হাত দিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন, চোখে চিকচিক করছে অশ্রুর ঝিলিক। এই মানুষটা শূন্যতাকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন। কোনোদিন বুঝতে দেননি যে সে এই সংসারের নয়। তার যত্ন, ভালোবাসা, মমতা-সবকিছুতেই ছিলো নিখুঁত মাতৃত্বের ছায়া।
শূন্যতা জানে, মামনির কাছে সে শুধু ভাগ্নি নয়, ঠিক নিজের মেয়ের মতোই। তাই তো তাকে দেখলেই মামনির চোখ ভরে ওঠে ভালোবাসায়, বুক ভরে ওঠে মমতায়।
মৃদু হাসি দিয়ে মামনি বললেন-
-“আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো। যা মা, আগে ফ্রেশ হয়ে নে, পরে গল্প করবো। নদী, ওকে নিয়ে যা রুমে।”
শূন্যতা ভ্রু কুঁচকে বলল-
-“মামনি, আমি একাই চলে যাবো। কাউকে লাগবে না।”
এই বলে সে নদীর দিকে তাকিয়ে মুখ ভ্যাংচি কাটল, তারপর রুমের দিকে হাঁটতে লাগল।
মামনি মৃদু হেসে বললেন-
-“তোদের মাঝে আবার ঝগড়া লেগেছে?”
নদী বিরক্ত গলায় বলল-
-“আরে মামনি, সে কথা আর বলো না। গতপরশু সামান্য বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারপর থেকে আর কথা বলে না, সব জায়গা থেকে ব্লক মেরে দিয়েছে। কন্টাক্ট নাম্বারটাও ব্লক করেছে। তাই ওকে বলতে পারিনি যে রাইদ ভাইয়া আসছে। ভালোই হয়েছে, আগে জানলে আসতোই না।”
মামনি হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রান্নাঘরের দিকে গেলেন-
নদী, নাহিদের ছোট বোন। নদী আর শূন্যতা অনেক ভালো বন্ধু, ক্লাস ৮ থেকে একসাথে পড়ছে। তাদের বন্ধুত্ব গভীর।
-মজার, রোমাঞ্চকর আর একে অপরকে বোঝার ক্ষমতায় ভরা। নদী এখন DU-তে পড়ছে, শূন্যতা ও DU-তে চান্স পেয়েছিল, কিন্তু কোনো এক কারণে ঢাকা শহরকে সহ্য করতে না পারায় সে RU-তে ভর্তি হয়েছে।
রুমে ঢুকে নদী লক্ষ্য করল, শূন্যতা নেই। হয়তো ওয়াশরুমে। শূন্যতার ব্যাগ থেকে ফোন বের করে সব ব্লক খুলে আবার রেখে দিলো।
কিছুক্ষণ পরে শূন্যতা ফ্রেশ হয়ে বের হলো। নদীকে দেখেও না দেখার ভান করছে।
হঠাৎ নদী পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল-
-“আমার ভুল হয়েছে, বেবি। রাগ করিস না, সোনা। দেখ, আমি কান ধরছি। প্লিজ রাগ করিস না। তুই কথা না বললে আমার একদম ভালো লাগে না, খুব কষ্ট হয়।”
শূন্যতা গম্ভীর গলায় বলল-
-“সর এখান থেকে। নাটক করিস না। যখন ওইভাবে বলছিলি তখন মনে ছিল না? আমার সামনে আসবি না, একদম আসবি না।”
নদী কাতর স্বরে বলল-
-“বেবি, এমন করে বলিস না। আমার ভুল হয়েছে বললাম তো। আসলে ভাইয়া বকা দিয়েছিল, সেই রাগটা তোর উপর ঝাড়ছিলাম। আর কোনোদিন এমন হবে না। সরি, সরি, হাজার বার সরি।”
শূন্যতা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল-
-“হুম, হইছে। ছাড় এখন।”
চলবে….
ফার্স্ট গল্প লিখছি জানি না কেমন হচ্ছে। যদি আপনাদের ভালো লাগে রেসপন্স করবেন। 🌸🌸🌸