Story:Snigdhokothar Premopakan(10)

কলমেঃআফসানা শোভা

পর্ব:১০

[ভাল লাগলে শেয়ার করার অনুরোধ।❤️]

বেলা বারোটা। প্রভাকর ধরনীকে তীব্র আলোকরশ্মিতে ঝলসে দিচ্ছে! এমন কাঠফাটা অস্থির গরমে রুম অন্ধকার করে এসির পাওয়ার কমিয়ে গায়ে কাঁথা জড়িয়ে কেউ ভসভস করে ঘুমুচ্ছে এটা চূড়ান্ত অস্বাভাবিক বৈকি। কিন্তু এই অস্বাভাবিক কার্য সাধন করে বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে কথা। এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকে ও নিয়মিত বেলা অব্ধি ঘুমায়। কখনো বারোটা, কখনোবা দুপুর একটা। এই সময়টায় বাড়িতে ভূমিকম্প হলেও ওর ঘুম ভাঙ্গবেনা। অথবা কেউ আগবাড়িয়ে ওকে  জাগানোর দুঃসাহসও করে না। এর পেছনে অবশ্য জনাব অহিদুল হকের আস্কারাই মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। ওনার কড়া সাবধানী বার্তা, তার আদরের কন্যার ঘুমে যাতে কেউ ব্যাঘাত ঘটানোর দুঃসাহস না করে। ওনার আদরের কন্যাটি দীর্ঘ দু’মাস রাত জেগে এইচএসসি-তে  জিপিএ-ফাইব অর্জন করেছে, তাই ওই দু’মাসের ঘুমের ঘাটতি এখন রোজ রোজ বারোটা অব্দি ঘুমিয়ে পুষে নেবে।

হঠাৎ বালিশের নিচে থাকা সেলফোনটা ব্রিফ ব্রিফ শব্দ তুলে কেঁপে উঠে। বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে কথা হাতড়ে হাতড়ে বালিশের নিচ থেকে ফোনটা বের করে। রিসিভ করে কানে ধরে ঘুম জড়ানো গলায় বলে উঠে,

– হ্যালো।

মেয়েটির ঘুমকাতুরে গলা ওপাশের ব্যক্তিটিকে এক মুহুর্তের জন্য এমনভাবে থমকে দিল যে বিপরীতে কি কথা বলবে তাই ভুলে বসলো সে। ওপাশের ব্যাক্তিটির নিরবতায় ঘুম কাতুরে কথা বিরক্তিতিতে চিড়বিড়িয়ে উঠে। দাঁত খিচে গমগমে গলায় বললো,

– এই কোন শালা রে?  কথা না বললে কল কেন দিয়েছিস?

ওপাশে খুকখুক কাশির শব্দ শোনা গেল। কথা তিতিবিরক্ত হয়ে ফোন কাটবে এমন সময় শোনা গেল কারো ইতস্তত গলা,

-কথা  আমি স্নিগ্ধ।

এই মূহুর্তে অপ্রত্যাশিত কিন্তু সবসময়ের কথার হৃদয়ে প্রত্যাশিত পুরুষালী গলাটা কথাকে চূড়ান্ত হতবাক করে দেয়। নিমিষে ধ্বক করে উঠে বুকটা। চোখের ঘুম ঘুম ভাব কোথায় ছুটে পালালো। তড়াক করে লাফ মেরে উঠে বসে চোখ কচলে ফোনে তাকায়। আননোন নাম্বার। কানে ভুল শুনলো কি? নিশ্চিত হতে কথা ছটফটিয়ে শুধাল,

– কে বললেন?

স্নিগ্ধ কানে ফোন ঠেকিয়ে নিজের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। স্থির দৃষ্টি তাক করা সোজাসুজি বিপরীত পশ্চিমের দিকের বারান্দাটায়। যেটা কথার রুমের বারান্দা বরাবর অবস্থিত। সেদিকেই তাকিয়েই ক্ষীণ কন্ঠে ফের বলে উঠল,

– আমি স্নিগ্ধ শাহরিয়ার।

কথা যেন ভিমড়ি খেল। জিভে শব্দগুলো আটকে গেল,

– ভাই..ভাইয়া আপনি এত সকালে?

স্নিগ্ধ হকচকিয়ে উঠে। এক পলক বিভ্রান্ত নজর কব্জিতে থাকা ঘড়িতে বুলিয়ে চোখ কপালে তুলে বললো,

– এত সকাল? সকাল কোথায়? অলরেডি দুপুর একটা বাজতে চললো।

কথা জিভ কাটে মনে মনে। নিদারুণ লজ্জায় লাল হয় মেঁদুর গালদুটো। ঈষৎ গলা খাকারি দিয়ে বললো,

– ওই আরকি।

একহাতে কানে ফোন ধরে কথা আরেক হাতে বিছানার চাদর খুঁটছে। চোখেমুখে প্রেমিকার ন্যায় উপচে পড়া লজ্জার ছড়াছড়ি। যেন সদ্য প্রেমে পড়া প্রেমিকা তার প্রেমিকের সাথে প্রেমময় ফোনালাপে মগ্ন। ওদিকে স্নিগ্ধ বারান্দার এমাথা থেকে ওমাথা পায়চারি করছে। ভীষণ উত্তেজনার সহিত কথাকে ফোন করে বসলেও এখন যুতসই কোন কথা খুঁজে পাচ্ছেনা। আদতে আসল কথাখানা মুখ ফুটে উচ্চারণ করতে পারছেনা। এদিকে স্নিগ্ধর মৌনতায় কথার বিশেষ কিছু যায় আসছেনা। ও একইভাবে কানে ফোনটা ধরে নখ দিয়ে বিছানা খুঁটছে। মাঝে মাঝে ঠোঁট এলিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। অনেকক্ষণ পর হঠাৎ স্নিগ্ধ নিরবতা বিদীর্ণ করে অস্ফুটস্বরে বলে উঠে,

– কথা?

– হুম।

– তোমার সাথে কিছু জরুরী কথা ছিল।

স্নিগ্ধর কন্ঠে কিছু একটা ছিল। কথার বুকটা ফের একবার ধ্বক করে উঠে। ঢোক গিলে বহুকষ্টে বলে উঠে,

– ব..ব.লুন।

– ফোনে নয়।

– তাহলে?

স্নিগ্ধ আমতাআমতা করে বললো,

– যদি তোমার কোন সমস্যা না হয়, আজ বিকেলে টাউন হলের পাশে লেক পার্কে দেখা করতে পারবে?

কথার হৃদয় ছলকে উঠে। প্রবল উত্তেজনার তোড়ে এসির নিচেও দরদরিয়ে ঘামছে সে। সেই সাথে বাড়ছে নিঃশ্বাসের গতিবেগ। তবুও নিজের শব্দ নালির উপর অত্যাধিক জোর খাটিয়ে শুধুমাত্র তিনটে শব্দ উচ্চারণ করল,

– পারব।

বর্তমান….

অতীতের সেই সুমিষ্ট স্মৃতিচারণে আনমনেই স্নিগ্ধর ঠোঁটে ক্ষীণ হাসির রেখা ফুটে উঠে। আবিষ্ট দৃষ্টি নিবদ্ধ এখনো কথার টলটলে মাখন রঙা কপোলে।

সেইদিন লেক পার্কে স্নিগ্ধ একটা টকটকে লাল গোলাপ হাতে কথার সমীপে নিজের ভালোবাসা নিবেদন করেছিল।  সামান্য একটা গোলাপ পেয়ে মেয়েটার চোখজোড়া ছলছল করে উঠেছিল। সেদিন দু’জনের মাঝে বিশেষ বাক্য বিনিময় হয়নি। অন্য সবার মতো স্নিগ্ধ হাঁটু মুড়ে কথাকে আই লাভ ইউ বলেনি। আসলে দরকার পড়েনি। কেননা দু’’জনের চোখের ভাষাই দুজনকে ভালোবাসার নীরব স্বীকারোক্তি দিয়েছিল। এইতো এরপর বাকি তিন তিনটে বছর ওরা উত্তাল তরঙ্গের ন্যায় উন্মত্ত থেকেছে একে অপরের মাঝে। নিজেদের মাঝে এতটাই বিভোর ছিল যে আগেপিছের কোন প্রতিবন্ধকতা ওদের ভালোবাসার আগে কখনো কড়া নাড়েনি। তারপর একদিন একটা বিধ্বংসী ঝড় এলো, সেই ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে গেল! সেই সাথে বিলীন হয়ে গেল স্নিগ্ধ কথার প্রেমোপাখ্যান!

স্নিগ্ধ নির্নিমেষ স্থবির হয়ে জমে আছে নিজের জায়গায়। একটা অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় ওর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। ইচ্ছে করছে সবকিছু শেষ করে দিতে। ওর সামনে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে পড়ে থাকা মেয়েটিকেও শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে, এরপর নিজেকে। ব্যস হয়তো এরপর এই কলিজা ছেঁড়া যন্ত্রণা থেকে ও মু্ক্তি পেয়ে যাবে। এভাবে কত সময় কাটলো স্নিগ্ধ জানেনা। হঠাৎ মেঝে থেকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল।

.

– কি ব্যাপার মিস অনন্যা এতক্ষণ কি করছেন স্যারের কেবিনে?

স্নিগ্ধর কেবিনের বন্ধ দরজার দিকে চেয়ে তৌফিক বিরবিরিয়ে বললো। অফিসের সকল কর্মচারী নিজেদের কাজের মাঝে ডুবে। এর মাঝে কথা যে স্নিগ্ধর কেবিনে এতক্ষণ ধরে রয়েছে তা নিয়ে কারো ভাবান্তর নেই। শুধুমাত্র তৌফিক ছাড়া। ছেলেটা সামনে ফাইল নিয়ে চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে আছে কেবিনের বন্ধ দরজার পানে। হঠাৎ ওর সকল অস্থিরতাকে দূরীকরণ করে স্নিগ্ধর কেবিনের দরজা খট করে খুলে গেল। তৌফিক আটকে রাখা দম ছাড়ার ফুরসত টুকুও পেলনা এর আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত একটা দৃশ্যে ওর শীরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। স্নিগ্ধর কোলে অচেতন কথা। তৌফিক উদ্বিগ্নতার সাথে উঠে দাঁড়াল। মুখ ফুটে অস্ফুটে কিছু বলবে এর আগেই স্নিগ্ধ গটগট পায়ে কথাকে নিয়ে সামনে থেকে চলে গেল। যাওয়ার আগে দারাজ গলায় ম্যানেজারকে অফিসের দায়িত্ব দিয়ে গেল। অফিসের সব কর্মচারী এক মূহুর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে গোলগোল চোখে তাকিয়ে রইল। শেষে ম্যানেজার সবাইকে কষে ধমকে উঠল। তৌফিক এখনো হতবিহ্বল হয়ে স্নিগ্ধর গমন পথে চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুরো বিষয়টা ওর নিকট অস্বাভাবিক ঠেকল।

এলিভেটর যোগে নিচে নেমে স্নিগ্ধ নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। চাবি দিয়ে কারের লক খুলে কথাকে সাবধানে সিটে হেলান দিয়ে শুইয়ে দিল। তারপর পাশের সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিল। প্রায় আধঘন্টা ড্রাইভিং শেষে স্নিগ্ধর গাড়িটা থামলো বনানীর একটা বিলাশবহুল এপার্টমেন্টের সামনে। গাড়ি থেকে নেমে স্নিগ্ধ কথাকে ফের কোলে তুলে নেয়। এই এপার্টমেন্টের সাত তলার একটি ফ্ল্যাট স্নিগ্ধর। যদিও এখানে তেমন আসা হয়না স্নিগ্ধর। নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের সামনে এসে স্নিগ্ধ পকেট থেকে চাবিটা বের করে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। দিনের বেলাতেও গোটা ফ্ল্যাটে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত। স্নিগ্ধ একটা ক্লান্ত শ্বাস ছেড়ে কথাকে নিয়ে সোজা বেডরুমে ঢুকে বেডে শুইয়ে দেয়। তারপর কোমরে দু’হাত রেখে বড়বড় করে কয়েকটা নিঃশ্বাস নিয়ে রুমের সবগুলো জানালা খুলে দেয়। ওর চোখেমুখে চিন্তার চাপ, কপালে চিন্তার বলিরেখা ফুটে আছে। ঘামে জবজবে হয়ে সাদা শার্টটা বুকের সাথে মিশে আছে।

এতক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও কথার জ্ঞান ফিরছেনা কেন? এই ভয়টা যেন স্নিগ্ধকে ভালোভাবে ঝেঁকে ধরেছে। ব্যস্ত হাতে পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে পরিচিত ডাক্তারের নাম্বারে কল করল। ডাক্তার জানাল তার পৌঁছাতে একটু সময় লাগবে। ফোন রেখে স্নিগ্ধ ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে কথার মাথার পাশে বসল। মেয়েটা নিজেও ঘেমে-নেয়ে একাকার। স্নিগ্ধ জড়তা হীন হাত বাড়িয়ে আলগোছে কথার গলা থেকে ওরনাটা খুলে পাশে রাখল। বেডসাইড স্ট্যান্ড থেকে কয়েকটা টিস্যু নিয়ে নরম হাতে কথার গাল,গলার ঘামটুকু মুছে দিল। কথার ভারী নিঃশ্বাস স্নিগ্ধর হাতে আছড়ে পড়ছে। এর মাঝে পুরো ফ্ল্যাট কেঁপে উঠে কলিং বেলের শব্দে। স্নিগ্ধ ব্যস্ত হাতে কম্পোর্টারটা কথার গলা পর্যন্ত টেনে দিল। তারপর শার্টের আস্তিন গুটাতে গুটাতে  বড় বড় পা ফেলে হলরুমের দিকে এগিয়ে গেল।

প্রবীণ গোছের ডাক্তার সাদিকুর রহমান অনেকক্ষণ ধরে কথাকে নিরীক্ষণ করলেন। কান থেকে স্টেথোস্কোপটা খুলে নাকের উপর পড়ে থাকা চশমাটা ঠেলে একপলক টেনশনে দরদর করে ঘামতে থাকা স্নিগ্ধকে দেখলেন। মনে ব্যাপক কৌতুহলে কয়েকটা প্রশ্ন উদয় হলেও নিজের প্রফেশনালিজমের বাহিরে গিয়ে অযাচিত প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন। নীরবতা ভঙ্গ করে গুরুগম্ভীর কন্ঠে শুধালেন,

-প্যাশেন্ট আপনার কি হয়?

স্নিগ্ধ ঢোক গিলে ক্ষীণ স্বরে বললো,

– ওয়াইফ।

– উনি তো নরমালি সেন্সলেস হননি।

– মানে?

– মানে আপনার স্ত্রীর একটু আগে প্যানিক অ্যাটাক এসেছিল।

-প্যানিক এটাক!

-জি। এই সমস্যাটা কবে থেকে?

স্নিগ্ধ ভাষাহীন হয়ে ফ্যালফ্যাল করে ডাক্তারের বয়স্ক বুদ্ধিদীপ্ত মুখটায় চেয়ে থাকে। ডাক্তার মৃদু বিরক্তিকর গলায় বললো,

– কি হলো? ওনার শারীরিক কান্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে এই সমস্যা অনেক আগে থেকেই আছে। পাস্টে কোনরূপ ট্রমা পেয়েছিলেন উনি? অথবা মারাত্মক কোন শক?

স্নিগ্ধ সামান্য টলে উঠল। কি বলছেন উনি এসব? কি হয়েছে কথার? ডাক্তার পূর্বের ন্যায় জিজ্ঞেস করলেন,

– কোন ট্রিটমেন্ট নেননি পূর্বে?

স্নিগ্ধ একটা শুকনো ঢোক গিলে উপরনিচ মাথা নাড়ায়। ডাক্তার সাদিকুরের ললাটে কয়েকটা ভাঁজ পড়ে। তিনি ভ্রু কুঁচকে বললেন,

– অদ্ভুত। আপনার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত “প্যানিক ডিসওর্ডার” রোগে আক্রান্ত। আর আপনি জানেনইনা তার এই প্রবলেমটা ঠিক কবে থেকে? আপনার উচিত ছিল ওনাকে নিয়ে আরো আগেই একজন সাইকিয়াট্রিস্ট শরণাপন্ন হওয়ার।

স্নিগ্ধ বাকরুদ্ধ হয়ে নিজের জায়গায় বরফের মতো জমে গেল। ওর চোখদুটো হঠাৎ ঘোলাটে হয়ে উঠল। চোখের সামনে কথার রুগ্ন, পরিশ্রান্ত মুখটা নিমিষে ঝাপসা হয়ে গেল। ডাক্তার সাদিকুর আর বেশি কথা বাড়ালেন না। কথার হাতে ক্যানুলা ফিটিং করে একটা স্যালাইন সেট করে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন অতিসত্বর কথাকে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে  কনসাল্ট করার জন্য । ডাক্তার চলে গেলেও স্নিগ্ধ নিজের জায়গায় মূর্তির মতন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল। এই ছয় বছরে ওর অগোচরে ঠিক কি কি ঘটেছে কথার সাথে? এতবছর পর হঠাৎ কথাকে সামনে দেখে এতগুলো দিন মনের মধ্যে হাজার প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খেলেও স্নিগ্ধ নিজের জেদে অটল থেকে কথার সম্পর্কে কোনপ্রকার খোঁজখবর নেয়নি। কিন্তু এখন প্রবল অপরাধবোধে ওর শ্বাসরোধ হয়ে আসছে। স্নিগ্ধ দপ করে কথার সামনে হাঁটুগেড়ে বসল। কথার ভগ্নপ্রায় মুখটা দেখে ওর চোখজোড়া ছলছল করে উঠল। ও জানে কথা ওকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। কিন্তু মেয়েটা হয়তো কোনদিন জানবেনা স্নিগ্ধ এখনো এই মেয়েটাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। এই মেয়েটার বিরহে এখনো স্নিগ্ধর রাতদিন কাটে। মেয়েটাকে নিজের জীবন থেকে ছুঁড়ে ফেলে চলে আসলেও নিজের হৃদয় থেকে বিন্দুমাত্র সরাতে পারেনি। এইতো এখনো এই হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দন স্পন্দিত হয় মেয়েটির নামে। স্নিগ্ধ টলমল চোখে তাকিয়ে নিজের বুকের বাম পাশে হাত ঘষে। যেন এখানে ভীষণ যন্ত্রণা অনুভব হচ্ছে ওর।

হঠাৎ কিছু একটা মনে করে স্নিগ্ধ নিজের ফোনটা হাতে নিল। কল লিস্ট ঘেটে কাঙ্ক্ষিত নাম্বারটায় ডায়াল করে কানে ঠেকায় ফোনটা। অনতিবিলম্বে ফোনটা রিসিভ হয়। ওপাশের ব্যাক্তিটির উদ্দেশ্য স্নিগ্ধ রাশভারী গলায় বলে উঠে,

– আমার একজনের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন লাগবে। এবং আজকের মধ্যেই যেভাবেই হোক। গট ইট।

#চলমান….

(ইবুক প্রচার-
– কথাকে কেন বিয়ে করতে চাস?

– ভালোবাসি তাই।

স্নিগ্ধ অকপটে বললো। অভিক শব্দ করে হেসে বলে,

– ভালোবাসা কাকে বলে আদোও তুই বুঝিস?

– জানিনা। ভালবাসার থিওরিটা হয়তো আমার সাথে যায়না। কিন্তু আমি ভালবাসা বলতে কথাকেই বুঝি। এন্ড ইটস ট্রু এজ ডেলাইট।

অভিক খানিক দমে গেল এবার৷ বললো দারাজ গলায়,

– দেখ স্নিগ্ধ, লাইফে হাজারটা মেয়ে নিয়ে খেলেছিস। তোর যে স্বভাব, আমি কোন ভরসায় তোর হাতে কথাকে তুলে দেব?

স্নিগ্ধ জানতো অভিক ওকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেই। এটা স্বাভাবিক।

– আমি জানি অভিক। আমি যেরকম স্বভাবের ছিলাম, তোর আমাকে বিশ্বাস না করাটাই নরমাল। কিন্তু প্লিজ অভিক আমাকে জাস্ট একটা সুযোগ দিয়ে দেখ,কথা দিচ্ছি আমার কাছে কথা নিরাপদ থাকবে।

অভিক থম ধরা মুখে চেয়ে রইল স্নিগ্ধর অস্থির মুখটায়। স্নিগ্ধ ফের উদ্বেলিত গলায় বললো,

– আমি তোকে গ্যারান্টি দিচ্ছি অভিক। আই উইল বি আ বেস্ট হাসবেন্ড এভার। তুই একবার আমাকে সুযোগ দিয়ে দেখ।

– ঠিক আছে, তোকে বিশ্বাস করলাম। কিন্তু জেনে রাখ, যদি কোনদিন তোর কারণে আমার বোনের চোখে পানি আসে সেদিনই তুই ওকে হারাবি চিরদিনের মতো। কিপ দিস ইন মাইন্ড। গট ইট?

0 0 votes
Article Rating
Loading spinner
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x