লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা
পর্ব:১৫
মেয়েটি সম্মান জানিয়ে মাথা নিচু রেখেই বলে„“ওয়েলকাম মিসেস ম্যাম।”
রিক্তা একদফা বিস্ময় নিয়ে বলে„“মিসেস ম্যাম মানে? আর আপনারা আমার সাথে এভাবে আচরণ করছেন কেনো?”
“ম্যাম, আপনি আসবেন তা আগে বলতেন। তাহলে কিছু আয়োজন করে রাখতাম। আর স্যার তো কিছুই বলে নি আপনি আসবেন কি না।”
“আরে কিসের স্যার? কার কথা বলছেন আপনি?”
পিছন থেকে নাহিদা, শিখা, আরশি, রিফাত এসে দাঁড়ায়। রিফাত চারদিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে, তারপর বলে„“এনি প্রবলেম?”
রিক্তা ছোট করে বলে„“নো।”
কাউন্টারের মেয়েটা রিফাত এবং বাকিদের ভালোভাবে দেখে বলে„“আপনারা কারা জানি না, কিন্তু ম্যামের থেকে দূরে থাকবেন।”
মেয়েটার কথায় নাহিদা বেশ চটে যায়। রাগ নিয়ে বলে„“What… are you mad?… What are you saying? রিক্তা আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ড। ওর সাথে চলবো না চলবো সেটা আমাদের ডিসিশন, তোমার না। ওকে?”
মেয়েটি নাহিদার কথার জবাব দেয়„“সরি, এটা আমাদের অর্ডার।”
শিখা বিরক্ত হয়ে যায় তাদের কথাবার্তায়। চোখে-মুখে বিরক্তি নিয়ে বলে„“কার অর্ডার?”
“স্যারের।”
এবার আরশি মুখ খুলে„“কে তোমার স্যার?”
“রিক্তা ম্যামের হাসবেন্ড এবং আমাদের স্যার।”
রিক্তা হা হয়ে তাকিয়ে থাকে মেয়েটির দিকে। শিখা হালকা করে কেশে ওঠে। আরশি হা করে রিক্তার দিকে তাকিয়ে আছে। নাহিদা একবার রিক্তাকে দেখছে তো আরেকবার মেয়েটাকে।
রিফাত বিস্ময় নিয়ে বলে„“মানে..?”
“আপনারা বিশ্বাস করছেন না তো? আচ্ছা, আমি এখুনি প্রমাণ দিচ্ছি।”
এই বলে মেয়েটা কাউকে টেলিফোনে ফোন করে কথা বলতে থাকে।
রিক্তা কিছু বলতে চাচ্ছে, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো কথা আসছে না।
নাহিদা বিরক্ত হয়ে “বা” উচ্চারণ করে থেমে গিয়ে বলে„“ধুর! বিলই দিবো। চল তো।”
এই বলে রিক্তার হাত ধরে নিয়ে যেতে নেয়, তখন কালো পোশাকে কিছু পুরুষ এসে দাঁড়ায়। নাহিদা দাঁড়িয়ে যায়। সবাই সেদিকে তাকায়।
লোকগুলো রিক্তাকে চারপাশে ঘিরে দাঁড়িয়ে বলে„“ম্যাম, আপনি এখন সেফ। আপনার আর কোনো প্রবলেম হবে না।”
রিক্তা একটু ভিতু স্বরে বলে„“আপনারা কারা?”
“ম্যাম, আমরা আপনার গার্ড।”
“গার্ড মানে? আপনাদের তো আমি ডাকি নি?”
“ম্যাম, আমাদের স্যার পাঠিয়েছেন।”
“আপনাদের স্যার কে?”
“আপনি চিনেন তাকে।”
রিক্তা এবার আরো বেশি অবাক হয়„“চিনি মানে? নাম কি তার? থাকে কোথায়?”
“তা বলতে পারবো না। নিষেধ আছে।”
নাহিদা বিরক্ত হয়ে “বা” উচ্চারণ করে থেমে গিয়ে বলে„“আপনাদের এই স্যারটা কি ভিতু? সামনে আসতে ভয় পায়?”
“সরি, আমাদের স্যার এতো কিছু বলতে না করেছে। আর মিসেস ম্যাম, আপনি চলুন। এগিয়ে দিয়ে আসি।”
রিক্তা কিছু বলতে যাবে, তার আগেই শিখা গম্ভীর কণ্ঠে বলে„“চলুন।”
রিক্তা, আরশি, নাহিদা শিখার দিকে তাকায়। শিখা চোখের ইশারায় শান্ত হতে বলে।
রিক্তা সামনে চলতে শুরু করে। চারপাশে গার্ড, মাঝে আরশি, নাহিদা, শিখা আর সামনে রিক্তা।
রিক্তা রিফাতের থেকেও বিদায় নিতে পারলো না গার্ডদের জন্য। চারপাশের মানুষ হা হয়ে রিক্তাকে দেখছে। অনেকে রিক্তার সাথে ছবি তুলতে চায়, অটোগ্রাফ নিতে চায়। কিন্তু গার্ডদের জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না।
রিক্তা অবাক নয়নে চারপাশের মানুষ দেখছে। তার জন্য যে মানুষ এরকম করবে সে ভাবতেও পারেনি।
তার মাথা যেন কাজ করছে না। সবকিছু এলোমেলো লাগছে।
একটা প্রশ্নই বারবার মাথায় ঘুরছে— কে এই মানুষটা?
যে না সামনে আসে, না পরিচয় দেয়, অথচ তার চারপাশে অদৃশ্য ছায়ার মতো নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে।
নাহিদা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে হাঁটছে। বারবার গার্ডগুলোর দিকে কটমট করে তাকাচ্ছে।
আরশি আস্তে করে শিখাকে কনুই মেরে ফিসফিসিয়ে বলে„“তুই কিছু জানিস?”
শিখা শুকনো ঢোক গিলে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলে„“কি জানবো?”
“এই যে মিস্টার হিডেন হাজবেন্ডের কথা!”
” আমি কিভাবে জানবো? আমাকে কি বলে গেছে যে ওনি রিক্তার হাসবেন্ড ”
নাহিদা বিরক্ত গলায় বলে„“আমি কিন্তু ব্যাপারটা একদম সুবিধার মনে করছি না। কে না কে এসে বললো রিক্তা ম্যামের হাজবেন্ড! আর আমরা বিশ্বাস করে ফেলবো?”
রিক্তা চুপচাপ হাঁটছে। তার বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দ হচ্ছে। রিক্তা শুধু বড় আব্বু, আব্বু তাদের কথা ভাবছে যদি তারা এই সব জানতে পারে তাহলে আর বেড় হতেই দিবে না।
হঠাৎ সামনের একজন গার্ড কানে হাত দিয়ে কারো কথা শুনে সম্মান নিয়ে বলে„“জি স্যার।”
রিক্তা ভাবনার জগত থেকে বেড় হয় গার্ডের কথা কান খাড়া করে শুনতে থাকে ।
গার্ডটা ফোন নামিয়ে রিক্তার দিকে তাকিয়ে বলে„“ম্যাম, স্যার বলেছে আপনাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিতে।”
নাহিদা সাথে সাথে বলে উঠে„“উনি কি রাষ্ট্রপতি নাকি? এতো নিরাপত্তা কেন?”
গার্ড কোনো উত্তর দিলো না।
বাইরে বের হতেই একটা কালো গাড়ি এসে তাদের সামনে থামে।গাড়িটা এতটাই চকচকে যে চারপাশের সবাই তাকিয়ে আছে।ড্রাইভার দ্রুত নেমে দরজা খুলে দেয়।
„“ম্যাম, প্লিজ।”
রিক্তা দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে বলে „“আমি কোথাও যাবো না।”
গার্ড শান্ত স্বরে বলে„“ম্যাম, স্যার রাগ করবে।”
রিক্তা এবার রেগে যায়। চোখ-মুখ লাল করে বলে„“আপনাদের স্যার রাগ করলে আমার কিছু যায় আসে না। আগে উনাকে সামনে আসতে বলেন!”
চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
নাহিদা ফিসফিস করে বলে„“বাহ! এটাই তো আমার বান্ধবী! তার আসল রুপ বেড় হয় গেছে ”
শিখা ঠোঁট কামড়েদাঁড়িয়ে আছে। নাহিদার কথায় হাসিও পাচ্ছে আবার ভয়ও লাগছে।
হঠাৎ রিক্তার ফোনটা ভাইব্রেট করে ওঠে।সবাইয়ের নজর ফোনের দিকে যায়।
স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে—
Unknown Number
রিক্তার বুক কেঁপে ওঠে।
ধীরে ধীরে ফোনটা কানে ধরে„“হ্যালো…”
চলবে…….