গল্প: জ্বীনের সাথে সংসার(০৩)


লেখক:রাকিবুর রহমান আতিক

পর্ব:০৩



রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মৌমিতা আর নাবিলা ঘুমাতে গেলো। ওরা দুজনেই একই বিছানায় ঘুমায়। শুয়ে শুয়ে দুজনেই কিছুক্ষণ মোবাইল হাতে নিয়ে ফেইসবুকে ঘাটাঘাটি করলো। মৌমিতা একটি ছেলের সাথে চ্যাট করছে। ছেলেটির নাম সামির। পরিচয় ফেইসবুক থেকেই। মৌমিতার সাথে ভালোই সম্পর্ক হয়ে উঠেছে সামিরের। আজ প্রায় দুইমাস যাবত তাঁদের কথা হয়। প্রতি রাতে কথা না হলে তাঁদের দিনটাই যেনো মাটি। নাবিলাও তার ফোন নিয়ে শুয়ে আছে৷ তবে ফেইসবুকে নয়, সে আছে ইউটিউবে। সারাদিন রাত সে ইউটিউবে এটা ওটা দেখে। বিশেষ করে ফানি ভিডিও আর ভুতের ছবি তার বেশি প্রিয়। আজও সে ভুতের ছবি দেখছিলো, ছবিতে ভুতের চরিত্রে একজনের নীল চোখ দেখে তার সিফাতের কথা মনে পড়ে গেলো। সে মৌমিতাকে বলল_ এই শুনছিস?? মৌমিতা চ্যাটিং করতে করতে বলল হুম, বল।


বলছি কাল একবার মাদরাসায় যাবো।
মৌমিতা বড় বড় চোখে নাবিলার দিকে তাকিয়ে বলল কী মাদরাসায় যাবি, তর মাথায় কী ভুত চাপছে নাকী রে?
_ কেনো বলতো?? কেনো মানে কী, আজকে তো কী কান্ড ঘটলো ভুলে গেছিস। ভাগ্যিস তর কিছু হয় নি, না হলে বাবা আমাকে মেরেই ফেলতো৷


_ হয় নি তো কিছু, তাহলে এতো চিন্তা করছিস কেনো? তাই বলে কালকে আবার যাবি??
আসলে হয়েছে কী, আজকে তো ফুলের সাথে ছবি উঠাই হয় নি, তাই যেতে চাচ্ছিলাম। আচ্ছা পরে দেখা যাবে এখন শুয়ে পর তো।


নাবিলার সাথে কথা শেষ করে মৌমিতা একটি সেলফি তুলল।


নাবিলা দেখে বলল কী রে এই ঘুমানোর সময় সেলফি তুলছিস যে??


আরে, সামির চেয়েছে, তাই সেলফি নিলাম, তাকে দেয়ার জন্য।


নাবিলা বালিশটা সোজা করে বালিশে পিঠ লাগিয়ে নীল চোখের ভুতটাকে দেখতে লাগলো আর সিফাতের কথা ভাবতে লাগলো৷


কিছুক্ষণ পরেই দেখলো মৌমিতা তার গায়ের টিশার্ট খুলে সেলফি নিচ্ছে, এটা দেখে সে টান দিয়ে মৌমিতার হাত থেকে মোবাইল এনে দেখলো ছেলেটি মৌমিতার কাছে তার নগ্ন বুকের ছবি চেয়েছে।


নাবিলা মৌমিতার ফোন থেকে ছবি ডিলিট করে বলল তুই এই ছেলেটিকে দেখেছিস কখনো? না,
কতদিনের পরিচয়?


_ এই দুইমাস হলো। দুইমাসে কতোবার তুই এমন ছবি তাকে দিয়েছিস?


_ না এর আগে সে চায় নি, আজকেই চেয়েছে? চাইলো আর দিয়ে দিবি!!! এটা কেমন কথা?


আমি তো তাকে ভালোবাসি, তাকে বিয়ে করবো, তাহলে ছবি দিলে সমস্যা কী?? _ দেখ মৌমিতা, তুই ধর্ম কর্ম আমার থেকে ভালো বুঝিস।

তুই তো নামায পড়িস, তাহলে এই কাজে সায় দিলি কীভাবে।

এরপর নাবিলা মৌমিতাকে ঢাকায় তার বান্ধবীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা বললযে এমনভাবেই বিশ্বাস করে বয়ফ্রেন্ডকে নিজে গোসল করার ভিডিও দিয়েছিলো, কোনো কারণে তাঁদের ব্রেকআপ হয়ে যায়, তখনি ছেলেটা মেয়ের ভিডিও ফেইসবুক, ইউটিউব সহ অনেক জায়গায় ভাইরাল করে দেয়। লজ্জায় অপমানে মেয়েটি গলায় দঁড়ি দিয়েছিলো। তার পরিবার মানুষের কানাঘোসায় সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি। অন্যত্র চলে গিয়েছিলো।


নাবিলার কাছে সব শুনে মৌমিতা বলল_ ধন্যবাদ তোকে৷ অনেক বড় ভুলের হাত থেকে আজ আমাকে বাঁচিয়ে দিলি। মৌমিতা আবার ফোন হাতে নিয়ে দেখলো ছেলেটি মেসেজ করেই যাচ্ছে_ এই কী হলো, একটা ছবি দাও না, আমরা তো স্বামী স্ত্রীর মতোই।


মৌমিতা রিপ্লে দিলো আগে বিয়ে হোক পরে যা ইচ্ছা দেখে নিও, এরপর যদি কোনোদিন আমার কাছে এমন ছবি চাও, তাহলে সেদিনই আমাদের সম্পর্কের শেষ দিন হবে৷ মৌমিতার এমন রিপ্লে পেয়ে ছেলেটি মেসেন্জারে রাগান্বীত ইমুজি দিয়ে বলল ছবি না দিলে আমিই রিলেশন শেষ করে দিবো৷


নাবিলা মেসেজটি দেখে বলল দেখলি তো, সে তোকে নয়, তোর শরীর চায়, এর সাথে সম্পর্ক রাখিস না৷
মৌমিতা সামিরের মেসেজের কোনো রিপ্লে দিলো না৷

সামির আরো কয়েকবার মৌমিতাকে মেসেজ দিয়ে যখন রিপ্লে পায় নি তখন তাকে ব্লক করে দিলো।


সামির যখন মৌমিতাকে ব্লক করলো মৌমিতার বুকের ভেতর কেমন একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। নাবিলাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো মৌমিতা।


নাবিলা শান্তনা দিয়ে বলল কার জন্য কাঁদছিস, ওই ছেলেটার জন্য কাঁদিস না৷ তাকে ভুলে যেতে পারলেই তর জন্য ভালো৷


মৌমিতা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল তুই ঠিক বলেছিস, তাকে ভুলে যাবো, সত্যিই ভুলে যাবো। এরপর মৌমিতা তার টিশার্টটি গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো৷ নাবিলাও বালিশে মাথা লাগিয়ে শুয়ে পড়লো।

চলবে………

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x