গল্প:অন্তরের স্পর্শ(০৫)

লেখিকা:আয়াত বিনতে নূর পর্ব:০৫ 🚫অনুমতি ছাড়া দয়া করে কপি করবেন না🚫 বেশি বেশি রেসপন্স করবেন🤍🤍 রিহানের বাইক এসে থামে শেখ বাড়ির বিশাল লোহার গেটের সামনে। ব্রেকের শব্দে চারপাশের নীরবতা খানিকটা কেঁপে ওঠে। বাইকের পেছনে বসে থাকা তানভীকা তখনও অন্যমনস্ক—চোখ দুটো শূন্যে স্থির, যেন অনেক দূরের কোনো চিন্তায় আটকে আছে। রিহান হালকা বিরক্ত কণ্ঠে বলল— “কি … Read more

গল্প:অমৃত্যু তোকে চাই (০৫)

লেখিকা:রাহি চৌধুরী তোহা   পর্ব :০৫     রিয়া বিদায় বেলা কান্না করছে।রিয়া সোহেল আহামেদ কে জরিয়ে দরে ফুপিয়ে বলে „“   আব্বু আমি যেতে চাই না।আমি তো আপনাদের বুকেই থাকতে চাই.……” সোহেল আহামেদ কান্না ভরা কন্ঠে বলে „“ তুই তোর জায়গায়ই থাকবি মা সারা জীবন।” রিক্তা রিতু মনির আহমেদের বুকের সঙ্গে লেপ্টে হাউমাউ করে কান্না … Read more

গল্প: অপেক্ষার প্রহর (০৮)

লেখিকা:ফাতেমা তুজ নৌশি   পর্ব:০৮     রেহান উবু হয়ে শুয়ে বই পড়ছিল। ওমন সময় ঘরে প্রবেশ করল রুহি। তাকে দেখে হুড়মুড়িয়ে উঠল রেহান। রুহি ঠোঁট টিপে হাসল। “তোমায় বলেছি না, এভাবে যখন তখন রুমে আসবে না।” “আসলে কী হয়?” “অনেক কিছু।” “সেই অনেক কিছুটাই তো জানতে চাচ্ছি।” “জানা লাগবে না।” “তাহলে তো আমি আসবই।” … Read more

গল্প: অপেক্ষার প্রহর (০৭)

লেখিকা:ফাতেমা তুজ নৌশি   পর্ব:০৭     পুরো সময় নীরবতা চলেছে। ইয়াজ গাড়িটা হঠাৎ করেই থামিয়ে দিল। তারপর ইশারা করল রেহানকে। রেহান পেছনে তাকিয়ে দেখল বাইরে দৃষ্টি দিয়ে আছে শিমাত। মেয়েটার চোখে মুখে ক্ষুধার যন্ত্রণা। খাবার আনতে গেল রেহান। লুকিং গ্লাসে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে। চোখ মুখ ফুলে গিয়েছে। তবে শান্ত নির্মল চেহারা। ইয়াজ দৃষ্টি অবনত … Read more

গল্প: অপেক্ষার প্রহর (০৬)

লেখিকা:ফাতেমা তুজ নৌশি পর্ব:০৬ বিচার বসেছিল। সেই বিচারে শিমাতকে হারতে হলো। তার বোন তার দিকে আঙুল তুলেছে। মনসুর নিজে থেকে স্বীকার করেছে। বিলকিস যদিও নীরবতা পালন করেছেন তবে তিনি যে শিমাতের পক্ষে নন তা ছিল নিশ্চিত। বিচারে ঠিক হলো শিমাতের সাথে মনসুরের বিয়ে দেওয়া হবে। আর বিনির ক্ষতি করতে চাওয়ার অপরাধে এক লক্ষ টাকা জরিমানা … Read more

গল্প – চলো না আজ এ রূপকথা তোমাকে শোনাই (০৯)

লেখনীতে:প্রিয়াংশি চৌধুরী     পর্ব:০৯   কায়ানকে জাপটে ধরে নিজের খসখসে পুরু ঠোঁ’ট দাবিয়ে বেশ কয়েকটা চু’মু খেয়ে ছাড়লো কাবির। অনেকদিন পর দেখা হলো বাচ্চাটার সাথে। চু’মু তো খেতেই হবে! এরপর এক ঝটকায় কায়ানকে নিজের কাঁধে তুলে নিলো। কায়ানের তো চাচ্চুর কাঁধে ওঠা বেশ পছন্দ। তাই খিলখিল করে হাসলো সে, অতি আনন্দে। কাবির সেভাবেই কায়রাভকে … Read more

গল্প: চলো না আজ এ রূপকথা তোমাকে শোনাই(০৮)

লেখনীতে:প্রিয়াংশি চৌধুরী

 

পর্ব :০৮

 

প্রীতিষা তাকিয়ে দেখল, সামনে থাকা নারীটির কোলে বছর তিনেকের ছোট্ট ছেলে শিশু। শিশুর ছোট হাত দুটো মায়ের গলায় জড়িয়ে, চোখে কৌতূহল আর নির্ভেজাল আনন্দ নিয়ে দোকানের লাইটিং দেখছে সে। আর না বললেই নয়, সামনে থাকা নারীটিও অত্যন্ত সুন্দরী। যাকে বলে অনাবিল সৌন্দর্যের প্রকাশ্য রুপ। শাড়ী পরার ভঙ্গিটাও অতি নিখুঁত, মার্জিত। ফর্সা পাতলা গড়নের শরীরে কমলা রঙের শাড়ীটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। সেই নারীটিও প্রীতিষার দিকে তাকাল এবং হালকা বিজয়ের হাসি খেলল চোখে। মৃদু, কোমল কণ্ঠে মিষ্টি হেসে বলল,
“একটু যে দেরি করে ফেললে তুমি!”

—————————–

সেই নারীটি আর কেউ নয়, কায়েশী ছিল। বিকেলের সময় ছেলেটা বায়না ধরেছিল, স্ট্রবেরি জুস খাবে। বাড়িতে নানান রকম জুস রাখা থাকে বটে, কিন্তু কালই সব শেষ হয়ে গেছে। উপায় না দেখে কায়েশী ছেলেকে সঙ্গে করেই বেরিয়ে পড়লো।

তাছাড়া কায়ানের স্বভাবই এমন, মাকে ছাড়া সে কোথাও যেতে চায় না। তাই অন্য কারও হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কায়েশী নিজেই কায়ানকে নিয়ে মলে গেল। স্ট্রবেরি জুস তো নিলোই, সঙ্গে আরও দু-এক রকম জুস আগেভাগেই কিনে রাখল। ছেলেটার ছোট হাতে এক বোতল স্ট্রবেরি জুস ধরিয়ে দিয়ে তাকে কোলে নিয়ে নিউমার্কেটের দিকে যায়। অনেকদিন পর নিজে সামান্য কেনাকাটায় মন দিল। এটা, সেটা দেখতে থাকে। দেখতে দেখতে দোকানের এক কোণে ঝুলে থাকা কাচের বাক্সের নীল গাজরা চুড়িগুলোর দিকে কায়েশীর চোখ আটকে যায়। আলোয় ঝলমল করা নীল রঙটা তার মন ছুঁয়ে গেল হুট করেই। ক্ষণিক দ্বিধার পর, না ভেবেই চুড়িগুলো তুলে নিল সে। কিছু রঙ, কিছু মুহূর্ত, নিজের জন্য রেখে দিল। সময় হয়ে উঠে না নিজেকে খুশি করার। না চাইতেও সংসারে ব্যস্ততায় দিন ফুরোয়।

প্রীতিষা ঠোঁট উল্টে ভারাক্রান্ত মনে চুড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। চোখের মলিনতায় স্পষ্ট, ওগুলো পাওয়ার আশা সে মন থেকে মুছে ফেলেছে। তবু নারীটির কথার জবাবে কণ্ঠে কোনো অভিযোগ আনল না। শান্ত, সংযত স্বরে শুধু বলল,
“কোনো সমস্যা নেই। আপনি আগে নিয়েছেন, তাই অগ্রাধিকারও আপনারই।”

কায়েশী হালকা হেসে চুড়ির বাক্সটা প্রীতিষার নিকট এগিয়ে দিয়ে বলল,
“চুড়ি জিনিসটা পছন্দ করে না, এমন মেয়ে খুব কম’ই আছে। তোমার চোখ বলছে এইগুলো তোমার কতটা পছন্দ হয়েছিলো! তুমি নিতে পারো। আমার তো চুড়ি খুব একটা পরা হয় না, নিয়ে’ই বা কি করবো বলো? সাজগোজ ছেড়ে দিয়েছি বহুদিন হলো।”

শেষ কথাটা মলিন হেসে বলল কায়েশী। প্রীতিষা ভদ্রতার আড়ালে সামান্য অস্বস্তি লুকিয়ে রেখে বলল,
“আপনি মাশাল্লাহ দেখতে অনেক সুন্দর। সাজগোজের প্রয়োজন নেই। আর, আপনি রাখুন চুড়িগুলো। আমি অন্য কিছু দেখছি।”

কিন্তু কায়েশী আর আপত্তি মানল না। জোর করেই প্রীতিষার হাতে বাক্সটা গুঁজে দিয়ে হাসিমুখে বলল,
“আর ফরমালিটিস করো না, মেয়ে। ছোট মানুষ ছোটোর মতোই থাকো। এগুলো তুমি’ই নাও।”

আর না বলতে পারল না প্রীতিষা। এমনিতেই চুড়িগুলো চোখে লেগে থাকার মতো, লোভ সামলানো দায়। এতক্ষণে যতটুকু ভদ্রতা দেখানো যায়, দেখিয়েছে। এবার নিয়ে নিলেই বা ক্ষতি কী! হালকা হেসে বলল,
“অনেক ধন্যবাদ, আপু।”

তারপর পাশে কায়েশীর কোলে থাকা বাবুটার গালে আদর করে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“এই যে কিউট বাবু, নাম কী তোমার?”

কায়ান জুস খাওয়া থামিয়ে আধো আধো গলায় গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল,
“কায়ান তাজপিন কান?”

প্রীতিষা তার অস্পষ্ট বুলি বুঝতে না পেরে একটু হকচকিয়ে বলল,
“কি খান?”

কায়েশী হেসে নরম স্বরে পরিষ্কার করে বলল,
“ওর পুরো নাম কায়ান তাজফিন খান।”

প্রীতিষা আবারও হেসে উঠল,
“ওহ, সুন্দর নাম! আসো কোলে নিই।”

কায়ানকে কোলে নেওয়ার জন্য কায়েশী হাত বাড়াতেই ছোট্ট কায়ান আরও জোরে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল। স্পষ্ট বোঝা গেল, সে যাবে না কোলে। কায়েশী হালকা হাসি নিয়ে বলল,
“ও আসলে অচেনা কারো কোলে যেতে চায় না।”

প্রীতিষা মৃদু হেসে কায়ানের গালে চুমু দিয়ে বলল,
“কোনো সমস্যা নেই। একেক বাচ্চা একেক রকম হয়।”

কিছুক্ষণ নীরবতার পর কায়েশী জিজ্ঞেস করল,
“তোমাদের বাসা কোথায়?”

“চৌধুরি পাড়ায়। আর আপনারা?”

“আমরা থানা পাড়ায় থাকি।”

“ওহ, আচ্ছা। ওখানে একবার গিয়েছিলাম আমি, আমার এক বন্ধুর বাসায়।”

কায়েশী নরম গলায় বলল,
“তাহলে আমাদের বাড়িতেও এসো একদিন। এখন আমাকে একটু ওই দিকটায় যেতে হবে, কিছু ফল কিনব। তোমরা কেনাকাটা সেরে নাও। আল্লাহ হাফেজ।”

“আচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ।”

কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে যেতেই কায়েশী ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল। প্রীতিষা চুড়ি কিনে নিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখল, প্রীভান তখনও ফোনের পর্দায় ডুবে আছে। বিরক্তির ছোঁয়া দিয়ে ফোন কেড়ে নিয়ে সে বলল,
“প্রীভ! ফোনটা রাখ। সারাদিন গেমস আর গেমস!”

প্রীভান মাথা চুলকে খানিক লজ্জা নিয়ে বলল,
“আচ্ছা, আর খেলব না। কেনাকাটাও তো হয়ে গেছে, এবার বাসায় চলি।”

প্রীতিষা হাসিমুখে বলল,
“চল।”
—————————————

এবার দু’জনে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ভিড়ের স্রোতে মিশে গেল, দিনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে সঙ্গে নিয়েই। তবে এক বিপত্তি ঘটে। হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ এক শক্ত, পুরুষালী বাহুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রীতিষা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিলেও বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। ঠিক তখনই অপর পাশ থেকে কাউকে না দেখেই এক কর্কশ গলা চেঁচিয়ে উঠল,
“এই কেরা রে? দিনের বেলায় কানার মতো রাস্তায় হাঁটতাছে? আর একটু হইলেই ধাক্কাদুক্কা দিয়া ফালায় দিছিলো আমারে!”

পরিচিত পুরুষালী গলার স্বর কানে যেতেই প্রীতিষা চমকে সামনে তাকাল। চোখের সামনে কাবির দাঁড়িয়ে। মুহূর্তেই বিরক্তির মুখটা বদলে গিয়ে আনন্দ দেখা দিল। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠল,
“এইটা! আমি, প্রীতিষা!”

এবার কাবিরও ভালো করে তাকাল সামনে। প্রীতিষাকে চিনে এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল, তারপর সেই চেনা কর্কশ সুরে বলল,
“যেদিকেই যাই, খালি তুমারেই পাই! কাহিনি কি?

প্রীতিষা এক পা এগিয়ে এসে হাসিমুখে বলল,
“আমি কীভাবে বলব? আমি তো কেনাকাটা করতে এসেছিলাম। এই যে…”

হাতে ধরা ব্যাগটা একটু তুলে দেখাল সে। কাবির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
“আসলেই কেনাকাটা করতে আইছিলা, নাকি আমারে স্টক করো? হুঁ!”

এই কথায় প্রীতিষা চমকে উঠল। স্টক করা! সে কখন কাবিরকে অনুসরণ করল? সবই তো কাকতালীয়। চোখে রাগ দেখিয়ে সে বলল,
“আপনার সঙ্গে দেখা হওয়াটা কাকতালীয়। এতে আমার কোনো হাত নেই! আর তা ছাড়া এই একই প্রশ্ন তো আমিও আপনাকে করতে পারি?”

কাবির সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত তুলে আত্মপক্ষ সমর্থনের ভঙ্গি করে বলল,
“আমার চরিত্র এই এলাকার সবাই ভালো কইরাই জানে। গুন্ডা, মাস্তান যা খুশি কইতে পারবো সবাই, কিন্তু কোনোদিন কইতে পারবো না যে কোনো মেয়ে মানুষ ঘটিত কাহিনিতে আমি জড়াইছি! ফুলের মতো পবিত্র আমার চরিত্র!”

বহু গর্বের সাথে কথাটা বলল কাবির। কথাটাও একশত ভাগ সত্য। তবে প্রীতিষা স্বভাবসুলভ মুখ বাঁকালো। কাবির আবার গম্ভীর ভঙ্গিতে সন্দিহান নজরে বলল,
“কিন্তু তোমারে আমার ইদানীং ঠিক লাগতাছে না। সেদিন চায়ের দোকানের কাহিনি নিয়েও ডাউট লাগছে! আমি কিন্তু এই বয়স পার কইরা আইছি, তোমার ভাব-গতিক ঠিকঠাক নাই!”

প্রীতিষা আঘাতপ্রাপ্ত চোখে তাকিয়ে রইল কাবিরের দিকে। তার কান্না পেলো এইবার। লোকটা তাকে সন্দেহ করছে? হ্যাঁ, সে পছন্দ করে কাবিরকে তার মানে কি সে খারাপ মেয়ে?এ কেমন কথা! প্রীতিষার চোখ না চাইতেও ভিজে এলো এসব ভেবে। আর হাঁটার শক্তি পেলো না সে। তাই প্রীতিষা কাবিরকে পাশ কাটিয়ে চোখ মুছে সামনের একটা চেয়ারে বসে পড়ে। মাথা নিচু করে মৃদু কান্না জুড়ে দেয়। তার সত্যি কান্না পাচ্ছে, লোকটা কিভাবে এই কথা বললো তাকে! এদিকে এমন দৃশ্য দেখে কাবির মুহূর্তেই ভড়কে যায়। মেয়েটা তাই বলে কাঁদবে বাচ্চাদের মতো! অসহায় চোখে সে তাকায় প্রীভানের দিকে। এ কি মুসিবত! প্রীভান নিজেও যেন পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বিস্ময়ে বাকরুদ্ধভাবে। বিরক্তি আর অস্বস্তির মিশ্র সুরে কাবির হঠাৎ বলে ওঠে,
“এই ব্যা’টা! সামলা তোর ফুপুরে। কী শুরু করছে ক তো! রাগের মাথায় কইয়া ফালাইছি, বুজিনাই!”

প্রীভানের বলার মতো কিছুই থাকে না। সে শুধু ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে প্রীতিষার চেয়ার ঘেঁষে। আর প্রীতিষা ঠোঁট উল্টে চোখে আগুন জ্বেলে চেঁচিয়ে ওঠে,
” হ্যাঁ! আমার ভাব-গতির ঠিক নেই! আমি আপনাকে জ্বালাই, বিরক্ত করি! আর কখনো আপনার সামনে আসবো না। আপনি যান এখান থেকে। এক্ষুনি যান বলছি! এখনো দাঁড়িয়ে কেন?”

এরুপ চেঁচামেচিতে প্রীতিষার নিজেরই রাগ আরও ঘনীভূত হয়। ভরা মার্কেটের এক কোণে যেন অজান্তেই সে সার্কাস বানিয়ে ফেলেছে ঘটনাটাকে। যদিও চারপাশের মানুষ যার যার কাজে ব্যস্ত,কেউই তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। অত:পর এক মুহূর্তে ঘাড়ত্যাড়া কাবির নিজের ভুলটা বুঝতে পারে। সত্যি মেয়েটাকে একটু বেশি বলে ফেলেছে, যা তার উচিত হয়নি। তাই পরক্ষণেই অহংকার গিলে মাটিতে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে সে, দুই কান দু’হাত দিয়ে চেপে ধরে প্রথমবারের ন্যায় কোনো নারীর সামনে। যা তার স্বভাবের বিপরীত। কাবির স্বপ্নেও ভাবেনি কখনো তাকে এহেন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। তাও কোনো মেয়ের কাছে পরাজিত হয়ে। অবশেষে প্রথম অভিজ্ঞতায় কাবির নত হলো। অবশ্য এই আচরণ কাবিরের স্বভাববিরুদ্ধ হলেও তার নিজের যে সায় ছিলো না এইটা বলা যাবেনা। কারণ সায় না থাকলে কারও ক্ষমতা নেই কাবিরকে নত করানোর। সত্যি এটাই, ঐ কাজল রাঙা কান্নারত চোখদুটি মুহুর্তেই কাবিরের হৃদয়ভাগে প্রহার করেছে। তাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে নরম গলায় বলে,
“আইচ্ছা, সরি। আসলে দোষটা আমারই আছিলো। ওইভাবে তোমারে বলা উচিত হয় নাই। এই সরি কইতাছি তো… কান্না থামাও!”

প্রীতিষা আবারও বিস্মিত হয়। চোখ অবিশ্বাসে বড় হয়ে যায়, কি দেখছে সে? ঘাড়ত্যাড়া কাবির কি সত্যিই স্যারেন্ডার করেছে? কিভাবে সম্ভব! সে কি ভুল দেখছে নাকি এটি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে? অবশেষে কিছুক্ষণের জন্য স্থির হয়ে কাবিরের দিকে তাকিয়ে রইল। কিছু ভেবে নীরবতা ভেঙে ভেবে বলল,
“থাক থাক, আর সরি বলতে হবে না। কারণ আপনার সরি আমি একসেপ্ট করবো না এভাবে!”

কাবির তার চেনা কর্কশ সুরে বলল,
“এইগুলা কি কথা! তাহলে কেমনে করবা?”

প্রীতিষা বুদ্ধি খাটিয়ে মুখে হালকা হাসি রেখে চোখে  ঝিলিক দিয়ে বলল,
“আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। তাহলেই সরি একসেপ্ট হবে।”

কাবির ছোট ছোট চোখে তাকালো। এই মেয়ে আসলে কি চায়! প্রীতিষা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ধীরস্বরে বলল,
“এভাবে তাকানোর মানে কি? না করলে নাই? চলে যান তাহলে। জোর করছি নাকি, আজব!”

কাবির মাথা হেলিয়ে ডান হাত বাড়িয়ে বলল,
“নাও, ফ্রেন্ডশিপও করলাম।”

প্রীতিষা মুহূর্তেই হেসে নিজের হাত বাড়িয়ে বন্ধুত্বের বন্ধন মজবুত করল। কিছুক্ষণ পর কাবির উঠে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে বলল,
“কি আশ্চ’র্য দিন আইলো! সব অসম্ভব কেমনে সম্ভব হইতাছে? আমার নীতিবিরুদ্ধ কাজ করতাছো সব! কি করলা তুমি আমারে!”

প্রীতিষা নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে হেলেদুলে যেতে যেতে দুষ্টু স্বরেই বলল,
“জা’দু করেছি! জা’দু!”

প্রীতিষা আর কোনো কথা না বলে প্রীভানকে নিয়ে নিজেদের বাড়ির দিকে হাঁটতে থাকল। প্রীভানও কোনো প্রশ্ন করেনি আর। কাবির তখনও স্থির হয়ে প্রীতিষার যাওয়া দেখতে থাকে। যাওয়ার আগে প্রীতিষা অজান্তেই নিজের ওরনাটা সামান্য উঁচু করে ভালো করে জড়িয়ে নিচ্ছিলো, হঠাৎ তা বাতাসে উড়ে গিয়ে কাবিরের মাথা ঢেকে মুখ ছুঁয়ে যায়। কাবির না চাইতেও আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল। ওরনা ধীরে ধীরে সরে গেলে কাবির চোখ খুলে প্রীতিষার যাওয়ার পানে আবার তাকিয়ে রইল, অপলকভাবে। কি অদ্ভুত ব্যাপার নাহ! কাবিরের ঠোঁটের কোণে হাসি দেখা গেলো বোধহয়। যা অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত। কিছু তো একটা হচ্ছে কাবিরের! ভয়ংকর কিছু, মারাত্মক কিছু! সে নিজেও অবাক হয়ে বিরবির করে আওড়ায়,
“কাবির রে! তুই বোধহয় ফাইসা’ই গেলি!”

*******************

এদিকে কায়েশীকে নিতে কায়রাভ চলে এসেছিল মার্কেটে। কায়রাভ কখনো ঘরে বসে থাকার মানুষ নয়, শরীরের যাইহোক না কেন। আর বউ নিয়ে তার এমনিতেই চিন্তার শেষ নেই। তাই নিউমার্কেটে গিয়ে  কায়রাভ কায়েশী আর বাবুকে আনতে যায়। আসার পথে নিউমার্কেট থেকে বেরোনোর মুহূর্তে কায়রাভের চোখে পড়ল কাবিরের কিছু দৃশ্য। কাবির তখনো সেখানে স্থির দাঁড়িয়ে, তার মুহূর্তটাই ওখানেই থমকে ছিলো। কায়রাভ এগিয়ে গিয়ে কাবিরের কাঁধে হালকা হাত রাখল। কাবির পেছন ঘুরল। কায়রাভ দুষ্টু হেসে বলল,
“কি ভাই! এইসব কি দেখালি! তোকে তো এটলিস্ট ভালো মনে করেছিলাম!”

কাবির ভ্রু কুচকে বলল,
“আমি তো ভালোই!”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, জানি। আমারই তো ভাই, তুই আর কত ভালো হবি? তা মেয়েটা কে? “

কায়রাভ কৌতুহলী হেসে জিজ্ঞেস করল। কাবির বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে উত্তর দিল,
“ভাইজান! তুমি কি ভাবতাছো আমি প্রেম-পিরিতি করি ওর লগে! তওবা, তওবা! ওই মেয়া আমার বান্ধবী লাগে!”

কায়রাভ চমকে বলল,
“কিহ! বান্ধবীর জন্য কানে ধরলি, তাও আবার সিনেমাটিক কাহিনি ঘটিয়ে! বলদা মনে হয় আমারে! তোরে চিনি না আমি!”

কাবির শরীর দুলিয়ে জোরে হেসে বলল,
“নাহ, বলদা ভাবমু ক্যান, বলদা হইলে কি আর রাজনীতি করতে পারতা। যাইহোক, এখন কি অবস্থা শরীরের?”

“ভালোই। তুই সেদিন আমাকে রেখে চলে এলি কেন? আর আমার সাথে দেখা করিস না কতদিন? “

কায়রাভ জিজ্ঞেস করল সরাসরি। কাবির হেসে বলল,
“তোমার কিছু হইতো না ভাইজান, আমি জানি। আর কাজকাম থাকে, সময় হইয়া ওঠে না।”

কায়রাভ হেসে বলল,
“রাখ, তোর অজুহাত। এইযে, তোর ভাবী… তুই আদৌ চিনিস তো তোর ভাবীকে? মনে আছে তো! কি আশ্চর্যের বিষয়, নিজের ছোট ভাইকে বলতে হচ্ছে ভাবীকে চিনিস তো! অবশ্য সব তোর বাউন্ডুলে স্বভাবের জন্য! “

কাবির একবার কায়রাভের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কায়েশীর দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে বলল,
“ভাবীরে আমি চিনি। ভালো কইরাই চিনি।”

“জীবনে তো কথাও বলিস না ঠিকমতো।”

কায়রাভ স্বাভাবিক ভাবেই বলল এ কথা। কাবির বাঁকা হেসে বলল,
“নাহ, ভাবীর সাথে কথা কওয়ার ইচ্ছা নাই। “

“মানে?”
কায়রাভ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল। কাবির রহস্যময় হেসে বলে,
“সত্য কথাডা শুনতে পারবা তো?”

কায়েশীর বুক ধ’ক করে উঠল আচমকা। ভয়ার্ত চোখে তাকাল সে কাবিরের দিকে। এইসব কথার মানেটা কি? কায়রাভ উৎসুক হয়ে সন্দিহান চোখে বলল,
“বল, কি সত্য?”

কাবির ঘাড় বাকিয়ে কায়েশীর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
“সত্যটা হইলো, ভাবীরে আমার পছন্দ হয় নাই। শুরু থেকেই। কিন্তু ভাইজান, তোমার ছাওরে বহুত পছন্দ, জানোইতো!”

এই বলে কাবির এগিয়ে গেল কায়েশীর দিকে। এদিকে কায়েশী স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কায়রাভ তার ভাইয়ের কথা মজা ভেবে হেসে উড়িয়ে দেয়। কারণ, জানে কাবির কেমন স্বভাবের মানুষ! আর হতবাক হওয়া কায়েশীর কোল থেকে কাবির কায়ানকে কোলে নিয়ে তার গালে দুটো চু’মু খেল। কায়ান এতে হেসে উঠে। কারণ, সে তার চাচ্চুকে ভালোভাবেই চেনে। তাই গলা জড়িয়ে ধরল কাবিরের। মাঝে মাঝে কায়রাভ কায়ানকে নিয়ে যায় কাবিরের কাছে। তাই কাবির তার অচেনা নয়, বরং আপনজন’ই।

চলমান…….

[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। 🦋 🥀]

Read more

গল্প: ‌ইশক এ মামনু (০৩)

Written by- Ibn Imtiaj পর্ব:০৩ ————— মেয়ে হওয়ার কারণে সাদা একটা কাপড় দিয়ে আবৃত দেহটা । কিন্তু কেটে যাওয়া মুখ দেখেও চিনতে আমার একদম সমস্যা হয়নি। আমি নিজের ভেতরে রাগ চেপে রেখে তার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললাম, “তোর স্ত্রীর দেহ এখানে। আর তুই কিনা আমকে ডেকে এনেছিস ম্যাম মারা গেছে বলে?” নিজের স্ত্রীর প্রতি … Read more

গল্প : রূপকথা (১০)

লেখিকা:নাদিয়া ফেরদৌসী   পর্বঃ১০     সকাল সাতটার দিকে তানিশার  ঘুম ভেঙ্গে গেলো নাজমুল মর্তুজার চেচামেচিতে। তানিশা চোখমুখ কুঁচকে দরজার পানে তাকাল। বিরক্তে তার মুখ দিয়ে চ সূচক শব্দ বের হয়ে আসলো। পাশে ঘুমানো মাইশার দিকে তাকিয়ে বিরবির করলো। দরজাটা ঘুমানোর আগে মাইশা ভালো করে লাগায়নি। তাই নাজমুল মর্তুজা ফাদিন ফাহিমকে ফজরের নামাজ কাজা করায় … Read more

গল্প:মাই বিলাভড সানফ্লাওয়া (১০)

লেখা- আসফিয়া রহমান পর্ব:১০ অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস। ক্লাস শেষ। বিকেলের নরম রোদ গায়ে মেখে অর্ণব আর সাফিন ক্যাম্পাসের ফুটপাথ ধরে হাঁটছিল। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউবা নোট নিয়ে ব্যস্ত। সাফিনের মনোযোগ পুরোপুরি অর্ণবের দিকে। সাফিন অর্ণবের কাঁধে একটা চাপড় দিয়ে বলল, “কিরে মামা! মেয়ে দেখতে … Read more