পর্ব: ১০
জঙ্গলের গভীরে দাঁড়িয়ে আছে একটি পোড়াবাড়ি। সময়ের নির্মম স্পর্শে যার দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়েছে, জানালার কাঁচ ফেটে ছড়িয়ে আছে বিষণ্ণতার মতো, আর চারপাশে মাকড়সার জাল যেন নিঃশব্দে বুনে চলেছে পরিত্যক্ততার ইতিহাস। বাতাসে মিশে আছে পচা কাঠ আর ভেজা মাটির তীব্র গন্ধ, যা প্রতিটি নিঃশ্বাসে এনে দেয় এক অদ্ভুত শীতলতা। দূর থেকে ভেসে আসছে অজানা পশুপাখির ডাক কখনো তীক্ষ্ণ, কখনো গভীর গম্ভীর—শুনে মনে হয় এই জঙ্গল যেম নিজস্ব এক রহস্যময় ভাষায় কথা বলছে।
এই নিস্তব্ধ, ভয়ার্ত পরিবেশের মাঝেই বাড়ির এক কোণে, ভাঙা একটি চেয়ারে বসে আছে লিলি। কিছুক্ষণ আগেই সে উপলব্ধি করেছে সে কিডন্যাপ হয়েছে। অথচ বিষয়টা তার কাছে ঠিক মিলছে না। টিভিতে সে যতবার কিডন্যাপিং দেখেছে, সেখানে তো হাত-পা-মুখ বেঁধে রাখা হয়। কিন্তু তাকে তো কিছুই করা হয়নি! বরং এক অদ্ভুত ‘ভি আই পি ট্রিটমেন্ট’ দেওয়া হচ্ছে। অথচ সে তো কোনো ভি আই পি নয়—তার চৌদ্দ গুষ্টিতে কেউ ভি আই পি আছে বলেও মনে হয় না।
এই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে সামান্য সাহস সঞ্চয় করে সামনে বসে ক্যারাম খেলায় মগ্ন দুই ছেলেকে উদ্দেশ করে বলল,
—“ভাইয়া।”
কিন্তু ছেলেদুটো খেলায় এতটাই ডুবে ছিল যে লিলির কণ্ঠ তাদের কানে পৌঁছালই না। কৌতূহলী হয়ে লিলি একটু এগিয়ে গেল। কাছে গিয়ে দেখল, তাদের মধ্যে একজন যে তাকে মিথ্যে বলে গাড়িতে উঠিয়েছিল। সে বারবার হেরে যাচ্ছে। লিলির ভালোই ক্যারাম খেলতে পারে; বাবার সঙ্গে প্রায়ই খেলত। তাই সে হেরে যাওয়া ছেলেটিকে বলল,
—“আরে ওদিক থেকে বাকা করে মারুন।”
এবার দুজনেই ঘুরে তাকাল লিলির দিকে। জিতে যাওয়া ছেলেটি, যার নাম রহিম, কিছুটা বিরক্ত গলায় বলল,
—“এই কাশেম এইডারে বান্দোস নাই ক্যান? তোরে না কইলাম এইডারে বাইন্দা রাখতে।”
কাশেম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
—“দেহেন ভাই মাইয়াগো গায়ে হাত দেওয়ার পলিসি আমার নাই। আর ওই যতক্ষণ আমার আন্ডারে আছে ততক্ষণ ওর গায়ে কেউ হাত দিবেন না। আম্মায় আমারে কইছিল কাশেম আর যাই করস মাইয়াগো গায়ে কখনো হাত দিবি না। তর মা বোইনের গায়ে কেউ হাত দিলে তোর ভাল লাগবো? তাই আমি এই পলিসি বানাইছি।”
কাশেমের দীর্ঘ বক্তৃতায় রহিম কিছুটা থেমে গেল। এমনিতেই সাদিদের বউকে তুলে এনে তার মনে ভয় কাজ করছে। কখন কী হয়ে যায়! এদিকে কথাগুলো শুনে লিলি বুঝে ফেলল। এই ছেলেগুলো অন্তত তার ক্ষতি করবে না। তাই সাহস একটু বেড়ে গেল। সে আবার বলল,
—“ভাইয়া আমি যেভাবে বললাম ও ভাবে চাল দিয়ে দেখুন?”
কাশেম আবার তাকাল তার দিকে। লিলি চোখের ইশারায় চাল দেওয়ার নির্দেশ দিল। কাশেম তার কথা মতো চাল দিতেই—এই প্রথম সে রহিমের বিপরীতে জিতে গেল। রহিম সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,
—“হইব না হইব না তুই ওই মাইয়ার কথা শুনছোস।”
কাশেম প্রতিবাদ করল,
—“তো কি হইছে ওই তো আর আমার চাল দিয়া দেয় নাই।”
লিলিও সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,
—“ঠিক কথা আমি তো ওনার চাল দেই নি। উনি নিজের হাত দিয়ে চেলেছে।”
কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর লিলিই বসে গেল রহিমের সঙ্গে একদান খেলতে। যেখানে তার ভয় পেয়ে কাঁদার কথা ছিল, সেখানে সে ক্যারামের প্রতিটি দানে জিতে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। সত্যিই কি আজব এক কিডন্যাপিং!
খেলার মাঝপথে হঠাৎ ভেসে এলো এক বিকট শব্দ। সবাই থেমে গেল। বিশাল কাঠের ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকছে সাদিদ—তার পেছনে আরিফ, হাসান, আর সঙ্গে অনেকগুলো গার্ড। বাইরে পাহারায় থাকা ছেলেগুলো মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। শুভ্র পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে সাদিদ এগিয়ে এসে সামনে দৃশ্যটা দেখে থমকে গেল। তার হ্যাজেল রঙের চোখে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত দৃষ্টি। যেই মেয়েকে নিয়ে সে এতক্ষণ উদ্বিগ্ন ছিল সেই মেয়েই কিনা নির্ভয়ে বসে ছেলেগুলোর সাথে ক্যারাম খেলছে!
এদিকে মাটিতে ছেলেদের পড়ে থাকতে দেখে লিলি উঠে দৌড়ে গেল সাদিদের কাছে। উৎফুল্ল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
—“আপনি কি ঢিসুম ঢিসুম করে ছেলেগুলো কে মেরেছেন? আপনি মারামারিও পারেন?”
তার প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই সাদিদের শক্ত হাতের চড় এসে পড়ল তার গালে। জীবনের প্রথম চড় খেয়ে মুহূর্তেই দুনিয়া ঘুরে উঠল লিলির। বিস্ময় কাটার আগেই সাদিদ তার বাহু শক্ত করে চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল,
—“এই তোমার কি কমনসেন্স নেই? মাথার মধ্যে কি গোবর ভড়া।”
এই অবস্থাতেও লিলি গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে, মুখ ফুলিয়ে বলল,
—“লিলির মাথায় গোবর ভড়া না লিলি অনেক বুদ্ধিমতী।”
সাদিদ বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েকে নিয়ে সে কোথায় যাবে! একটা চড় খেয়েও এর বোধশক্তি ঠিক জায়গায় আসেনি! গলায় বিরক্তির সুর এনে বলল,
—“হ্যাঁ এতোটাই বুদ্ধিমতী যে সুরসুর করে অচেনা অজানা মানুষের সাথে চলে এসেছে।”
লিলি মিনমিন করে উত্তর দিল,
—“আমার কি দোষ ওরাই তো বলল আপনি নাকি ওদের পাঠিয়েছেন?”
সাদিদ আবার কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই আরিফ এসে তাকে থামাল। এদিকে কাশেম আর রহিমকে ইতিমধ্যে বেঁধে ফেলা হয়েছে। আরিফ বলল,
—“ছোট মানুষ একটা ভুল করেছে তাই বলে তুই ওর গায়ে হাত তুলবি। সুন্দর করে বুঝি…”
সাদিদ রাগী চোখে তাকাতেই আরিফ থেমে গেল। মুহূর্তেই সুর বদলে বলল,
—“সাদি তো ঠিকই বলেছে লিলি এমন অচেনা মানুষের সাথে কেউ চলে আসে?”
চড় খেয়ে লিলির গাল এখনও ব্যাথায় টনটন করছে। তার ওপর এত বকা শুনে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল,
—“আপনারা সবাই খারাপ আমি শাশুড়ী আম্মুর কাছে আপনাদের নামে নালিশ দেব।”
সাদিদ তার হাত শক্ত করে ধরে বাইরে এগোতে এগোতে বলল,
—“সাথে নিজের করা বোকামির কথাও বলো।”
লিলি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে বলল,
—“ইস ছাড়ুন লাগছে আমার। আরে ওদেরকে কেন বেধেছেন? ওরা অনেক ভালো হয়তো বাধ্য হয়ে আমাকে কিডন্যাপ করেছিল। কিছুটাকা দিয়ে ছেড়ে দিন। জানেন ওরা আমায় ভি আই পি দের মতো ট্রিট করেছে। হাত পাও বাধেনি। আর…”
—“জাস্ট শাট আপ।”
সাদিদের বজ্রনিনাদে লিলির সাথে বাকিরাও স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে, হঠাৎ করেই বাইরে থেকে ছুটে এলো একটি গুলি। যেটা সোজা গিয়ে বিদ্ধ হলো কাশেমের হাতে। আতঙ্কভরা এক আর্তচিৎকার ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। মুহূর্তেই পরিবেশের আবহ বদলে গেল। লিলি ভয়ে কেঁপে উঠে ঝট করে জড়িয়ে ধরল সাদিদকে। সাদিদও এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে নিজের আড়ালে টেনে নিল, আর দ্রুত বের করল নিজের লাইসেন্সকৃত পিস্তল।
যে ব্যক্তি গুলি করেছিল, সে লিলিকে সাদিদের বাহুতে আশ্রয় নিতে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে এলো সে। লিলির বাহু চেপে ধরার আগেই সাদিদ তার হাত শক্ত করে আটকে দিল। দু’জনের চোখাচোখি হতেই যেন সময় এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। অদ্ভুত, গভীর এক দৃষ্টিতে সাদিদের দিকে তাকিয়ে রইল ইহরান। হ্যাঁ, কাশেমকে গুলি করা ব্যক্তি আর কেউ নয়, ইহরানই। তার সঙ্গে এসেছে একদল লোক দেখতে গার্ড হলেও আচরণে তারা গুন্ডা চেয়ে কম নয়।
লিলি তখনও ভয়ে সাদিদের বুকে মুখ লুকিয়ে আছে। সেই দৃশ্য দেখে রাগে হিসহিসিয়ে উঠল ইহরান,
—“Come to me, Blueberry.”
এই অদ্ভুত সম্বোধন শুনে সাদিদের পাশাপাশি লিলিও চমকে উঠল। ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল সে লোকটার দিকে।
—“আরে আপনি তো সেই।”
সাদিদ শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
—“ওকে চেন তুমি?”
তার কণ্ঠের এই অস্বাভাবিক শান্ত ভাব লিলিকে আরও বিচলিত করল। কিছুটা থেমে গিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল,
—“ওই ভার্সিটির প্রথম দিন উনি আমাকে বাসায় পৌছে দিয়েছিলেন।”
সাদিদ ঠোঁটে হালকা বিদ্রূপের রেখা ফুটিয়ে বলল,
—“মানে অচেনা মানুষের সাথে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তোমার আগে থেকেই আছে?”
এই শান্ত সুরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ঝড়টা লিলি স্পষ্ট টের পেল। ঠিক তখনই ইহরান লিলির হাত ধরে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল লিলি,
—“এই কি করছেন? আমার হাত ধরছেন কেন আপনি?”
ইহরান গভীর কণ্ঠে বলল,
—“Don’t you remember me, Blueberry?”
সাদিদের দৃষ্টি নেমে এলো তাদের জোড়া লাগা হাতে। মুহূর্তেই তার মনে ভেসে উঠল কিছু তিক্ত স্মৃতি। যে স্মৃতির পুনরাবৃত্তি সে আর ঘটতে দিতে চায় না। এবার তার ভেতরের দখলদার সত্তা জেগে উঠল প্রবলভাবে। যে লিলিকে সে বউ বলে মেনে নেয়নি, সেই লিলিকেই উপরই আজ নিজের অধিকার দাবি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হাত তুলে এক ঘুসি বসাল ইহরানের মুখে। গর্জে উঠল,
—“How dare you touch her, bastard!”
ইহরান টলে গেলেও থামল না। ঠোঁটের কোণে জমে ওঠা র/ক্ত মুছে সেও পাল্টা ঘুসি মারল সাদিদকে।
—“How dare you come between us! She is my love!”
আরিফ এগিয়ে আসতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই সাদিদ আরেকটি ঘুসি মারল ইহরানের নাক বরাবর,
—“She is my wife.”
সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে আরিফ, এমনকি লিলিও প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। কিন্তু ইহরান আবার আক্রমণ করতে এগিয়ে আসতেই লিলি দৌড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল দুজনের মাঝখানে। থেমে গেল ইহরান।মারামারিতে সাদিদের ঠোঁটের কোণ কেটে গেছে। সেখানে জমে আছে র/ক্ত। সেটা দেখে লিলির ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। এতক্ষণ যে মানুষটাকে ভয় পাচ্ছিল, সেই ইহরানের দিকেই এবার সাহস করে ঘুরে দাঁড়াল সে। ভেজা চোখ নিয়ে কঠিন কণ্ঠে বলল,
—“আপনার সমস্যা কি? এমন করছেন কেন? সেদিন আপনি আমায় সাহায্য করেছিলেন জন্য কি মাথা কিনে নিয়েছেন? ওনাকে আঘাত করলেন কোন সাহসে?”
ইহরান কিছুটা আহত স্বরে আবার শুধাল,
—“ Don’t you remember me, Blueberry?”
—“আপ……”
লিলি কিছু বলতে যাচ্ছিল তার আগেই সাদিদ তাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো। ঠান্ডা, কঠিন কণ্ঠে ইহরানকে সতর্ক করে বলল,
—“Stay away from her.”
এরপর প্রায় জোর করেই লিলিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল গাড়ির দিকে। তাদের পেছন পেছন বেরিয়ে এলো আরিফ, হাসান আর গার্ডরা। পেছনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠল ইহরান,
—“Why can’t you remember me, Blueberry? Why?”
ইহরানের অসহায়তা আর উন্মাদন কন্ঠে শুনে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এসে বলল,
—“Sir… are you okay?”
ইহরান অস্থির, প্রায় পাগলাটে ভঙ্গিতে বলে উঠল,
—“How can I be okay? তুই দেখলি ব্লুবেরি ওর জন্য কতটা ডেস্পারেট হয়ে গেছিল। আমারও তো এখানে আঘাত লেগেছে। কই ওতো সেটা দেখল না। কেন দেখল না বল কেন দেখল না? Ahh…I just… can’t take this!”
এদিকে সাদিদের গাড়ি লিলিকে নিয়ে অনেকটা দূরে এগিয়ে গেছে। তবে সেই জায়গাতে এখনো দারিয়ে আছে আরিফ আর হাসান। আরিফ এখনো যেন এক ধরনের ঘোরের মধ্যে আছে।লিলি এই গোপন প্রেমিক আবার আসল কোথা থেকে?
হাসান সাদিদের চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,
—“ভাইয়ের কপালটা এমন কেন? আগে প্রেমিকার পেছনে একজন লেগেছিল। এখন বউয়ের পেছনে লেগেছে।”
আরিফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
—“একটু ভুল বললি ব্যাটা। আগের কাহিনীর সাথে এই কাহিনীর আকাশ পাতাল পার্থক্য। এবার মেয়েটা সাদিদের বউ। দেখলি না কি বলল। আর লিলি কখনোই ওই মেয়ের মতো নয়।”
———
ফুল স্পিডে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাদিদ। চারপাশের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতির সাথে। সিটের সঙ্গে একদম লেগে বসে আছে লিলি ঠোঁট কাঁপিয়ে দোয়া-দরুদ পড়ছে সে। মনে হচ্ছে, এই বুঝি তার প্রাণপাখি ফুরুত হয়ে যাবে। তবে সাদিদের এসবে খেয়াল কোথায়? তার ভেতরে তো জমে আছে অন্য এক আগুন।
অনেকটা সময় পর, একেবারে ফাঁকা রাস্তায় এসে হঠাৎ জোরে ব্রেক কষল সে। আকস্মিক ধাক্কায় লিলি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও সিটবেল্ট তাকে রক্ষা করল। গাড়ি থামিয়ে স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে মাথা নিচু করে রইল সাদিদ। তার শ্বাস ভারী হয়ে আসছে, কাঁধ ওঠানামা করছে ধীরে ধীরে। যেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার শেষ চেষ্টা করছে সে।
তার এই অবস্থা দেখে লিলি কিছুটা দ্বিধা নিয়েই বলল,
—“আপনি ঠিক আছেন?”
মুহূর্তেই সাদিদের শক্তপোক্ত হাত এসে চেপে ধরল লিলির গাল। তার চোখ-মুখে জমে আছে রাগ। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
—“তোকে আলাদা ভেবেছিলাম… তবে তোরা সবাই এক। কে হয় ওই ছেলেটা তোর?”