গল্প:দ্বিতীয় সূচনা (০৪)

পর্ব:০৪

রাত দুইটা৷ শীতের রাত। বাইরে ঠান্ডা হিমেল হাওয়া বইছে। এসময়টায় মনুষ্যপ্রজাতি কাঁথা, কম্বল মুড়ি দিয়ে আরামের নিদ্রায় শায়িত। কিন্তু ঘুম নেই শুধু দরিয়া ভাঙা আবৃতির দু’চোখে। কনকনে ঠান্ডার মাঝে রুমের ড্রেসিং মিররের সামনে স্থির দাঁড়িয়ে আছে সে। যেন জীবন্ত কোন মূর্তি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে আবৃতি। বুঝ হওয়ার পর থেকেই ও নিজেকে সুন্দরী হিসেবেই জেনে এসেছে লোকমুখে। বাবা মারা যাওয়ার পর মা যখন কন্যাদায়গ্রস্ততায় পতিত হলেন তখন সবাই এটা বলে মাকে স্বান্তনা দিলেন, “আর মেয়ে সুন্দরী! দেখবে যে কেউ এই মেয়েকে কিনবে।”
কিনেছে তো এক অতি বিত্তবান পরিবার ওকে কিনেছে । আবৃতির মনে পড়লো আজ থেকে পাঁচ বছর আগের কথা। তখন সবে ও ইন্টারমিডিয়েটের পরীক্ষা শেষে মেডিকেলের জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছে। আবৃতির বাবা আনিসুল খন্দকার সাহেবের খুব স্বপ্ন ছিল ওদের দু’ভাইবোনকে বড় ডাক্তার বানাবেন। বাবার সেই স্বপ্নটা নিজের মনে লালন করে আবৃতিও লেগে পড়ল পুরো দমে। কিন্তু কথায় আছেনা ভাগ্য এবং সময় সবসময় মানুষের সঙ্গ দেয়না। হঠাৎ একদিন আবৃতির বাবা স্ট্রোক করে বসলেন। তারপর হাসপাতালে মাত্র পাঁচদিন টিকতে পেরেছিলেন তিনি। মাত্র অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে মানুষটা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। বাবার মৃত্যুর পর আবৃতি ভীষণ ভেঙ্গে পড়েছিল! নাওয়া খাওয়া ভুলে একপ্রকার বিছানাশায়ী হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ সেবারে ও মেডিকেলে টিকলনা। বাবার মৃত্যু, হতাশা সব মিলিয়ে আবৃতি ভয়ানক মানসিক ট্রমায় চলে যায়। সদ্য স্বামী হারানো আবৃতির মা মেয়ের এই অবস্থায় আরো ভেঙে পড়লেন। এদিকে আশপাশের সবাই আবৃতির মাকে পরামর্শ দিল মেয়ে বিয়ে দিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। সবার পরামর্শ মেনে আবৃতির চাচা চারদিকে পাত্র খোঁজা শুরু করেন। একদিন হঠাৎ ওদের বাসায় প্রস্তাব নিয়ে আসেন আবৃতির বাবার ঘনিষ্ট বন্ধু শাফিউল ওয়াহিদ। আনিসুল সাহেবের বাল্যববন্ধু ছিলেন তিনি। তার উপর দুই বন্ধুর সম্পর্ক কতটা মজবুত সে সম্পর্কে সকলেই অবগত। ওমন আন্তরিক মানুষের প্রস্তাবে স্বাভাবিকভাবে কেউই না করেনি।
আবৃতিও তখন কোন প্রকার বাধা দেওয়ার মত অবস্থায় ছিলনা। একদম হুট করেই যেন ধ্রুবর সাথে আবৃতির বিয়েটা হয়ে যায়। বিয়ের আগে না দুজনের দেখা হয়েছে, না হয়েছে কোনরুপ কথাবার্তা। যেন একপ্রকার ঘোরের মধ্যেই আবৃতির বিয়েটা হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘোরটা ভাঙে আবৃতির বিয়ের রাতে। বাসর রাতের বাহারি ফুল সজ্জিত বিছানায় অপেক্ষা করতে করতে রাতটা ফুরিয়ে গেল। কিন্তু ধ্রুব নামক অচেনা মানুষটা আসলোনা। আবৃতি ভয়ে জুবুথুবু হয়ে শেষরাতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙে সকাল সাতটায় তার শাশুড়ীর ডাকে। আবৃতির প্রশ্নসূচক চেহারা পরখ করে ভদ্রমহিলা ইনিয়েবিনিয়ে ধ্রুবর না আসার কারণটা চেপে যান। আবৃতির কেমন অদ্ভুত লাগে ধ্রুবর ঘরের পরিবেশটা। কান্না পাচ্ছিল অচেনা অদ্ভুত এই পরিবেশে। নিজেকে কেমন একা একা লাগছিল যেন সাত কুলে ওর আপন কেউ নেই।
ধ্রুব ফিরে আসে দুপুরের একটু আগে। আবৃতি সেই প্রথম ভালো করে ধ্রুবকে দেখে। হ্যাংলা-পাতলা,লম্বাটে, ভীষণ রকম ফর্সা রঙের একটি ছেলে। পরনে বিয়ের শেরোয়ানি। দেখতে তখন ভীষণ বিধ্বস্ত লাগছিল। মনে হচ্ছিল সারা রাত এক ফোঁটাও ঘুমায়নি। ধ্রুবর শারীরিক গঠন অনুযায়ী আবৃতি বয়স অনুমান করে পঁচিশ-ছাব্বিশ হবে হয়তো। আবৃতি বেশ অবাক হয় কেননা সারারাত বাদে ঘরে ফিরলেও ধ্রুবকে কেউ কোন প্রশ্ন করলোনা। যেন সব স্বাভাবিক ওমন ভাবেই ওর শাশুড়ী বললো ফ্রেশ হয়ে আসতে। ধ্রুব একপলক কাঁচুমাচু করা আবৃতিকে দেখে নিয়ে গটগট পায়ে ঘরে ঢুকে যায়। আবৃতি কেঁপে ওঠে। কেন যেন ধ্রুবর শীতল দৃষ্টি দেখে ওর বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল। মনে মনে সন্দেহ জন্মালো কিছুতো গন্ডগোল আছে। আরেকটা বিশেষ জিনিস ও বিয়ের প্রথম দিনই খেয়াল করেছে। ওর শাশুড়ী ওকে বিশেষ পছন্দ করছেন না। কথাবার্তা কেমন ছাড়া ছাড়া বলেন। প্রয়োজন ছাড়া তো কথাই বলেননা ওর সাথে।ওর সন্দেহ পুরোপুরি সত্যি হলো সেইদিন রাতে। যখন রাত একটা নাগাদ ধ্রুব ঘরে ফিরে। আবৃতি হাসফাঁস করে কিছু বলতে নিলে ধ্রুব শীতল গলায় বলে,

— তোমার নামটা কি যেন ভুলে গিয়েছি। শোন এই বিয়েটা আমার কাছে মিনিংলেস। আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল বিয়েটা করার জন্য।

আবৃতি হতভম্ব হয়ে বলে,

— মানে?

— মানে আমি একজনকে খুব ভালবাসি। বলতে গেলে নিজের চেয়েও বেশি। তাই তোমাকে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে পসিবল না। স্যরি।

আবৃতি এক মুহুর্তের জন্য হতবাক বনে যায় এমন অদ্ভুত কথা শুনে। ওর মাথায় সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ধ্রুব আবৃতিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে ঠাশ করে দরজাটা আটকে দেয়। আবৃতি কেঁপে ওঠে সেই শব্দ শুনে।
অতীতের স্মৃতিচারণ শেষে আবৃতি বাস্তবের ফিরে আসে। ও এখনো ওর প্রতিবিম্বের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওর কেন জানি কোন অনুভূতি হচ্ছেনা। ওর তো মনে মনে তখনই জানা হয়ে গিয়েছিল ধ্রুবর সাথে ওর সংসার করা হবেনা। হয়তো দীর্ঘ পাঁচবছর ওর সংসারটা টিকেছিল যদিনা সেই রাতটা না আসতো!

–আজ সারা রাত কি বাইরেই কাটিয়ে দেবে?

ইরার ডাকে ধ্রুব চমকায়। ও এতক্ষণ বারান্দা দোলনায় বসে ছিল চুপচাপ৷

— তুমি এখনো জেগে আছো কেন? ঠান্ডা লাগবে, ঘরে যাও।

ইরা এগিয়ে এসে ধ্রুবর পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসলো। ধ্রুবর বুকে মাথা রেখে বললো,

–অনুশোচনায় ভুগছো?

ধ্রুব কিছু বললোনা। শুধু স্থির দৃষ্টিতে রাতের নিকষ কালো আঁধারিতে চেয়ে রইল। ইরা ধ্রুবর নির্লিপ্ততায় হতাশ হলো খানিকটা। বুক থেকে মাথা তুলে অস্ফুটে বললো,

–দেখ ধ্রুব যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। এখন এভাবে মন খারাপ করে বসে থেকে তো কিছু হবেনা। চলো তো ঘরে চল।

এই বলে ইরা ধ্রুবকে টেনে উঠাতে চাইল। ধ্রুব এক ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিল। তিরিক্তি মেজাজে বললো,

–ইরা প্লিজ আজ অন্তত জ্বালিয়েওনা। কিছুক্ষণ একা থাকতে দাওতো আমায়।

ধ্রুবর কথাটা শুনে ইরা বেশ আহত হলো। ধরা গলায় জিজ্ঞেস করে,

— আমি তোমাকে খুব জ্বালাই তাই না ধ্রুব?

ধ্রুবর হুশ ফিরে। রেগে গিয়ে একটু কঠোর হয়েছে বুঝতে পেরেই ইরাকে পাশে বসালো। ওর দু’গালে হাত রেখে নরম সুরে বলে,

–আ’ম স্যরি ইরা। আমার আসলে মাথা কাজ করছে না। আরশানের জন্য বুকটা পুড়ে যাচ্ছে। আমি কি করে থাকব ওকে ছাড়া!

ইরা ধ্রুবর কপালে একটা চুমু খেল। আদুরে গলায় বললো,

–কষ্ট পেয়োনা ধ্রুব। আরশান তো তোমারও ছেলে তাইনা। আবৃতি চাইলেও ওকে তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবেনা। আর তাছাড়া…

এই বলে ইরা ধ্রুবর হাতটা নিজের উঁচু পেটে রাখলো।আহ্লাদী সুরে বললো,

— আর তাছাড়া এখানেও তো আরেকজন আছে। দেখবে সে এসে গেলে তোমার আর একটুও মন খারাপ লাগবেনা। আর তো মাত্র দুটো মাস।

ধ্রুব ইরার উঁচু পেটটার দিকে তাকিয়ে রইলো একদৃষ্টিতে। স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে আজ থেকে বেশ কয়েকবছর আগের কথা। যখন ও প্রথম জানতে পারে ও বাবা হতে চলেছে। কালবৈশাখী উত্তাল ঝড় যেমন প্রকৃতিকে নাড়িয়ে দেয়, ঠিক এই খবরটাও ওর অন্তঃস্থল সেভাবেই নাড়িয়ে দিয়েছিল। কেমন অবোধের মত আবৃতির অশ্রুসিক্ত অসহায় মুখটার দিকে তাকিয়ে ছিল। মেয়েটা হয়তো ভয়ে ছিল ধ্রুব সংবাদটা কেমন ভাবে নেবে? কিন্তু ধ্রুব ভীষণরকম খুশি হয়েছিল। আবৃতির প্রতি কোন ভালোবাসা না জন্মাক। কিন্তু ওর জঠরে অবস্থান নেওয়া ধ্রুবর ছোট্ট অংশটার প্রতি ধ্রুবর আকাশস্পর্শী ভালোবাসা জন্মেছিল। হয়তো সেই প্রাণটার জন্যই আবৃতির প্রতিও ধীরে ও…..

–কি হলো তোমার? কোথায় হারিয়ে গেলে আবার?

ধ্রুব হকচকিয়ে বলে,

— কই কিছু নাতো। চলো ঘরে চলো ঘুমাবে। তোমার শরীরের কন্ডিশন এমনিতেই ভাল না।

ভালোলাগায় ইরার মনটা ছেয়ে গেল। না! ও শুধু শুধু টেনশন করছিল। তার ধ্রুব তার ছিল, তারই আছে!

.
.
.

চোখেমুখে একরাশ বিরক্তি আলমারী তন্ন তন্ন করে কিছু খুঁজে চলেছে ঐক্য। পরনে কালো স্যুট,তার উপরে ধূসর রঙা ব্লেজার। বোঝাই যাচ্ছে অফিসের জন্য বের হবে। কিন্তু সারা আলমারী খুঁজেও সেই কাঙ্খিত জিনিসটা খুঁজে না পাওয়ায় বিরক্তিটা তরতরিয়ে বাড়লো।
ঐক্য মহাবিরক্ত। ঐশি রাউন্ডের জন্য বের হয়ে গিয়েছে। নাহয় ওকে বলতো খুঁজে দিতে।বিরক্তিতে বিড়বিড়িয়ে বললো,

–ড্যাম! কোথায় ফাইলটা? এমনিতেই লেট হচ্ছে।

হঠাৎ ওর চোখ যায় আলমারীর একদম নিচের ড্রয়ারে। সেখানে দেখল সেই ফাইলটা। মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে ফাইলটা টান মারতেই নিচে আরেকটা জিনিস পড়লো। ভ্রু কুঁচকে একটু ঝুঁকে ঐক্য জিনিসটা হাতে নিতে গেলে একটা ছোট্ট কন্ঠস্বর ভেসে আসে,

— পাপা তোমার এখনো হয়নি? স্কুলের জন্য লেট হচ্ছে তো!

ঐক্য আবার দাড়িয়ে গেল। দরজার কাছটায় সাদা স্কুল ড্রেস পরিহিত ওয়াফা দাঁড়িয়ে আছে। কাঁধে পিকাচু ডিজাইনের একটা ব্যাগ। গলায় ওয়াটার বটল ঝোলানো। চুলগুলো দুটো বিনুনি করা। কেউ যেন খুব যত্ন করে বিনুনি গুলো পাকিয়ে দিয়েছে। ঐক্য মেয়েকে দেখে তারাহুরোয় বললো,

— হ্যা আম্মাজান পাপার হয়ে গেছে। চলো।

ওয়াফার দৃষ্টি যায় ঐক্যর পায়ের কাছে উল্টো হয়ে পড়ে থাকা একটা পেপারের উপর। ছোট্টো মনে কৌতুহল জন্মালো জিনিসটার প্রতি। দৌড়ে এসে হঠাৎ পেপারটা হাতে নিল। পেপারটা আসলে একটা পুরনো ছবি। ছবিটা দেখে ঐক্যর শরীরটা টলে উঠলো হঠাৎ। ছবিতে ঐক্যর সাথে একটা অল্পবয়সী রুপসী তরুণী। বোঝাই যাচ্ছে ছবিটা বেশ কয়েক বছর পুরনো। নিজের বাবাকে একটা অচেনা মেয়ের সঙ্গে ছবিতে দেখে ওয়াফা চোখ বড়বড় করে ফেললো,

— পাপা এই আন্টিটা কে? ওমা কি সুন্দর আন্টিটা!

ঐক্য ঢোক গিলে এদিকসেদিক তাকালো। নিজেকে সামলে নিয়ে ছোঁ মেরে ছবিটা ওয়াফার হাত থেকে নিয়ে নিল। ওয়াফা অবাক হয়ে বললো,

— কি হলো পাপা৷ ছবিটা নিলে কেন? আর আন্টিটা কে তোমার সাথে দেখি দেখি।

ঐক্য কি বলবে ভেবে পেলোনা৷ হাসফাঁস করে ছবিটা হাতে মুচড়িয়ে ফেললো। এই ছবিটা এখানে কিভাবে থেকে গেল? ও তো ওই ছলনাময়ীর সব স্মৃতি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তাহলে এটা কেন রয়ে গেল? ঐক্যকে আর কয়বার মারবে এই নারী? এই নারীর অন্তর পোড়ানে স্মৃতি? কেন তার পিছু ছাড়ছেনা ওই ঘৃণ্য অতীত? ঐক্য অস্থির চিত্তে নাক ঢলে। ওর আবার ড্রাগের তৃষ্ণা পেয়েছে। ও চিৎকার করে নিজের ড্রাইভারকে ডাকলো,

–সাবের, সাবের?

ঐক্যর ডাক শুনে সাবের ছুটে আসলো,

— জি স্যার।

— ওয়াফাকে সেইফলি স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসো।

ওয়াফা টলটলে দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকালো। বাবা ওকে স্কুলে দিয়ে আসবেনা? ঐক্য ওয়াফার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। ধমকে ফের সাবেরকে আদেশ করলো,

— কি হলো যাও।

ঐক্যর ধমকে ওয়াফাও কেঁপে ওঠে। টানাটানা চোখদুটো ফেটে জল বেরিয়ে আসে। ঠোঁটদুটো অভিমানে ফুলে উঠে। সাবের ওয়াফাকে কোলে তুলে নিতেই ওয়াফা নিঃশব্দে ফুঁফিয়ে উঠে। ওয়াফা যেতেই ঐক্য ছবিটাকে মেলে ধরে। মুচড়ানো ছবিতে এক বিনাশীনির নিঃখুত মুখশ্রী। যে কিনা ঐক্যকে আজ পর্যন্ত জীবন্মৃত করে রেখেছে। যাকে ভালোবেসে আজ ঐক্য দিশাহারা এক উন্মাদের ন্যায়৷ ঐক্য পকেট হাতড়ে লাইটারটা বের করে ছবির প্রান্তে লাইটারটা জ্বালিয়ে দিয়ে ছবিটা নিচে ফেলে দেয়। অল্প ক্ষণেই ছবিটাতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। ঐক্য শক্ত চিবুকে জ্বলতে থাকা আগুনের জ্বলন্ত শিখার পানে তাকিয়ে রইল। চোখের কোণে কখন দু’ফোটা অশ্রু জমলো বোধহয় টের পেলনা!

চলমান………

[ আসসালামু আলাইকুম পাঠক। অবশেষে দীর্ঘ প্যারার অবসান হয়েছে। গল্পটা পরশু দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত জার্নি করে একদম শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলাম। এবার থেকে একদিন বা দুইদিন পরপর গল্প পাবেন। আর সবাই একটু মন্তব্য করুন। গল্পটা কেমন হচ্ছে আসলে আমি বুঝতে পারছিনা। ]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments