গল্প: দ্বিতীয় সূচনা (২১)

পর্বঃ২১

লেখনীতেঃআফসানা শোভা

[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।⛔]

বর্তমান………

একটা মানুষ মৃত্যুযন্ত্রণা বোধহয় তখনই হয় যখন সে হাজার চাইলেও নিজের অভ্যন্তরের চাপা কষ্টগুলো বুকে চেপে গুমরে গুমরে মরে৷ যেই যন্ত্রণা গুলো পৃথিবীর কোন বিকল্প কিংবা সান্ত্বনায়ও লাঘব করা দুঃষ্কর। নারীজীবন কেন এত কষ্টের? কেন একজন পুরুষ এত সহজে একজন নারীর আত্মসম্মান, তার ভালবাসাকে এভাবে গুঁড়িয়ে দেয়?কি পায় সে? আরেকটা নারী শরীর?

আবৃতি যতই এই সমাজের সামনে নিজেকে শক্ত রাখুক না কেন দিনশেষে কষ্টে ওর বুকটা ফেটে যায়। যে কষ্টগুলো অদেখা। যার কোন পরিমাপ করা যায়না।
ওর জীবনটা ওর সাথে এমন পরিহাস কেন করলো? কি দোষ ছিল তার? কেউ কি বলবে তার অন্যায়টা কি ছিল?
দিনশেষে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ও কার কাছে পাবে?

হঠাৎ পুরাতন মেহগনি কাঠের দরজাটা ক্যাট করে আওয়াজ হলো। নিশ্চয়ই কেউ রুমে প্রবেশ করছে। তড়িঘড়ি করে নিজের চোখের বহমান বারিধারা ব্যস্ত হাতে মুছে নেয় সে। তার হৃদয় ভাঙার হাহাকার সে কাউকে দেখাতে নারাজ। কি হবে দেখিয়ে? সামান্য সহানুভূতি কি ভেঙে খান খান হয়ে যাওয়া আবৃতিকে ফের জোড়া লাগাতে পারবে?

দরজা খুলে আহান বিড়াল পায়ে ডুকলো। ওর আজ নাইট ডিউটি ছিল মেডিসিন প্লেচমেন্টে৷ কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ ঐশীর ফোনে আহান চমকে উঠে৷ এই মেয়ে পরশুর পর থেকেই ওকে এড়িয়ে চলছে। আগের মতো এটা ওটা বুঝে নেওয়ার বাহানায় আসেনা ওর কেবিনে। কিন্তু আজ হঠাৎ ঐশীর কল দেখে হতবুদ্ধি বনে যায় সে। মানে সোজা ফোন! এতটাও আশা করেনি আহান। একপ্রকার ঘোরেই সে ঐশীর ফোন রিসিভ করে। কিন্তু ওকে চমকে দিয়ে ঐশী থমথমে সুরে বিকেলের রেস্টুরেন্টের সব ঘটনা বৃত্তান্ত খুলে বলে। সব শুনে আহান স্তব্ধ হয়ে যায়৷ ওকে কোন সাড়া দিতে না দেখে ঐশী দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেবল একটা কথাই বলেছিল,

— আবৃতি আপু নিডস ইউ স্যার। প্লিজ স্টে উইথ হার। সি রিয়েলি নিডস সামওয়ান।

তারপর আর আহান আর কিছু না ভেবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ইমারজেন্সি ছুটি চাইলো। কিন্তু হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ডায়ারিয়া রোগীর আধিক্য থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে রাত একটা অবধি রোগী দেখে তারপর আসতে হয়েছে৷ হাসপাতালে কোন রেজিস্ট্রার ডাক্তার এত রাতে থাকেন না। তারা রাত দশটার পরেই চলে যান। এই মুমূর্ষু রোগীদের ছেড়ে আসা তার নীতি বিরুদ্ধ বলেই আহান আসতে পারেনি।

আহান  ধীর পায়ে এগোলো। আবৃতি চোখের পানি মুছে সতর্ক ভঙ্গিতে চাইল। কে হতে পারে? বাড়িতে তো শুধুমাত্র সে,মা আর আরশান। মা তো প্রতিদিনকার মতো ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে। তাহলে?

–কে?

আহান অবাক হলোনা৷ যেন আবৃতির এই গভীর রাতেও জাগ্রত থাকা স্বাভাবিক।

— আমি আবৃতি।

আবৃতির পিলে চমকে উঠে নিজের ভাইকে দেখে। আজ তো ওর নাইট ডিউটি ছিল। আবৃতির ভাবনার মধ্যেই আহান এগিয়ে এসে ঘরের ডিম লাইটটা জ্বালালো। সেই আলোয় ঈষৎ আলোকিত হয়ে উঠলো এতক্ষণের অন্ধকারচ্ছন্ন শুনশান কক্ষটা। আহানের চুল বেয়ে টপটপ করে পানি ঝড়ছে। মনে হচ্ছে গোসল করে মাথাটাও মোছে নি৷

আবৃতি দাঁড়িয়ে গিয়ে অবাক গলায় বললো,

— তুই? তোর না ডিউটি ছিল আজ রাতে?

— হ্যাঁ ছুটি নিয়েছি।

— কিন্তু কেন?

আহান টেবিল থাকা টিস্যু বক্স থেকে একটা টিস্যু নিল। আবৃতি অবাক চোখে দেখছে আহানের কর্মকান্ড। আহান চুপচাপ টিস্যুটা আবৃতির দিকে বাড়িয়ে ধরে শান্ত স্বরে বললো,

–আমি শুনেছি খন্দকার বাড়ির অন্দরে আজ সারা রাত বসে একটা পেত্নী কেঁদেকুটে নাকের পানি, চোখের পানি এক করে ফেলছে। তাই পেত্নীটাকে টিস্যু এগিয়ে দিতে আমার অবিলম্বে আসতে হলো৷ নিন পেত্মীরাণী টিস্যু খানা গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করুন৷

আবৃতি চোখ মুখ কুঁচকে টিস্যুটা নিয়ে বললো,

— তোকে কে বলেছিল আমি কাঁদছিলাম আজিব?

– চালান জিন খবর পাঠিয়েছিল।

আবৃতি মুখ ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকালো। আহান ওকে পরখ করে অস্ফুটে জিজ্ঞেস করে বসলো,

— আজ ধ্রুবর সাথে তোর দেখা হয়েছিল না?

আবৃতি স্থবির চোখে আহানকে দেখে। হতবাক গলায় বললো,

— তোকে কে বলেছে?

— যেই বলুক। রাস্কেলটা তোকে কিছু বলেছে বল আমাকে?

আবৃতি থমথমে মুখে বললো,

— না৷ আমি তার কোন কথা শোনার জন্য তো বসে থাকেনি।

আবৃতির বুঝে আসছেনা আহানকে কে জানাল ঘটনাটা? আবৃতির ফ্যাকাসে চোখমুখ দেখে আহান গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। চোখের পানিগুলো শুকিয়ে চিটচিটে হয়ে আছে মুখটা। টুইনরা নাকি একে অপরের দুঃখ, সুখ অনুভব করতে পারে। যাকে বলা হয় টুইন ট্যালিপ্যাথি। যদিও এটা পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। আচ্ছা তার বোনটার জন্য তার যে বুক ছিঁড়ে যাচ্ছে। ঠিক এরূপ যন্ত্রণাই কি তার বোন অনুভব করছে নাকি আরো বেশি? কি করবে আহান? কি করলে তার বোনটার যন্ত্রণা লাঘব হবে? কিভাবে ওর হারানো সবকিছু ও ফিরিয়ে দিতে পারবে?

— কিরে তুই এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ভাত খেয়েছিস? নাকি বেড়ে দেব?

— না ক্যান্টিন থেকে আটটায় খেয়ে নিয়েছি।

— আচ্ছা যা ঘুমিয়ে পড়।

— হ্যাঁ আমি ঘুমিয়ে পড়ি আর তুই আবার আয়োজন করে কাঁদতে বসে পড়।

আবৃতি উদাস গলায় বললো,

— না আর কাঁদবো না। কি হবে কেঁদে। শুধু কেঁদেই যদি মানুষ যন্ত্রণা ভুলে যেতে পারতো তাহলে তো হতোই।

আহান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,

— একটু পর ফজর আজান দিয়ে দেবে এখন আর ঘুমিয়ে কাজ নেই। চল না আবৃতি আমরা বারান্দায় বসি একটু।

আবৃতি জানে আহান ওকে কম্পোর্ট ফিল করাতে চাইছে। আজীবন তার পেছনে লাগা আহানের সাথে এই আহানের কোন মিল নেই। এই আহান আবৃতির দুই ঘন্টার ছোট হয়েও ওর বড় ভাই হওয়ার চেষ্টায় সর্বদা সচেষ্ট। আবৃতি আরশানের গায়ে কাঁথাটা ভাল করে জড়িয়ে দিয়ে বললো,

— আচ্ছা চল।

বারান্দায় বসতেই আহান সোজা আবৃতির কোলে শুয়ে পড়লো। এটা ওর পুরনো অভ্যস। আগে যখন মেডিকেলে প্রস্তুতির সময়টায় দুই ভাইবোন গ্রুপ স্টাডি করতো তখন এভাবেই আহান ওর কোলে শুয়ে পড়তো। আবৃতি নিজের শালটা টেনে আহানকে জড়িয়ে দিল।

— আবৃতি?

— হুম।

আহান ওর কোল ছেড়ে উঠলো। নরম সুরে সহদোরাকে বললো,

— মনের কষ্ট এভাবে চেপে রাখতে রাখতে দমবন্ধ হয়ে
মরে যাবি তুই।

আবৃতির চোখজোড়া টলমল করে উঠে। ধরা গলায় হাহাকার করে বললো,

–আহান? আমি তোকে একটু জড়িয়ে ধরে কাঁদি?

আবৃতির কন্ঠে আকুতি। আহানের চোখ উপচে কান্নারা ঠেলে বের হলো। পুরুষ মানুষের নাকি কান্না পায়না৷ তাহলে তারা আহানকে দেখে কি বলবে? আহান কান্না গিলে দুহাত প্রসারিত করে দিল। নিরবে আহ্বান জানাল
আহানের বুকটা ভিজিয়ে দেওয়ার। আবৃতি ঝাপিয়ে পড়ে আহানের পেতে রাখা বুকে। আহানের টি শার্টটা খামচে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। আজ যেন আবৃতির সকল সংযমের বাঁধ ভেঙ্গেছে। যেই মেয়ে নিজের তালাকের দিনও একফোঁটা অশ্রু ঝরায়নি। আজ সেই মেয়ে নিজেকে উজার করে কাঁদছে। আহান নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকে রাখার প্রয়াসে। আবৃতি ফোঁপাতে ফোপাঁতে বললো,

— আ…মার কি দোষ ছিল ভাই? ধ্রু..ব আমার সাথে এমনটা কেন করলো? নাই ভালবাসুক আমায়। একটু কি  আমার প্রতি ওর কোনদিন মায়াও জন্মায়নি।

আহান বোনকে জড়িয়ে ধরে পৃথিবীর নিকষ কালো অন্ধকারের পানে চায়। বিমর্ষ গলায় বললো,

–একজন পুরুষ হয়ে বলছি এই জগতের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী পুরুষ! ভাগ্যক্রমে তাদের ভালবাসা পেলে নারী জীবন স্বর্গ সমতুল্য! আর ধোঁকা পেলে তখন সেই নারীর জীবন জাহান্নামের সদৃশ!

— আমিই কেন?

আহান স্তব্ধ হয়ে যায়। দিতে পারেনা বোনের এই প্রশ্নের উত্তর। এই প্রশ্ন যে তার নিজেরও। তার বোনটাই কেন?

কোন উত্তর নেই!




দীপ্ত ল্যাপটপটা শব্দ করে বেডসাইড টেবিলে রাখলো। সোনিয়া সেই যে দরজা খুলতে গেল আর যেন ফিরে আসার নামই নেই৷ কম্বল ছেড়ে উঠতেও ইচ্ছে করছেনা।
করছেটা কি এই মেয়ে? নিশ্চয়ই ভাইয়া এসেছে। দীপ্তর আজকাল এই বাড়িতে মনই টিকতে চায়না৷ রাতে বাড়িতে ফিরে আসলেই কেমন মনমরা লাগে ওর। যেন কোন মৃত বাড়িয়ে চলে এসেছে৷ আগের মতো সকাল এই বাড়িয়ে এখন হৈ হুল্লোড় চোখে পড়েনা। আরশানের নিষ্পাপ খিলখিল হাসির শব্দ শোনা যায়না৷ আদুরে সুরে কেউ তার কাছে চকলেটের আবদার করেনা। জুমার দিনে ওই আরশান নামক বাচ্চাটা হাত ধরে মসজিদে যায়না।
সন্ধায় এখন আর সবার পছন্দের পাকোড়া আর মালাই চায়ের আসর বসেনা৷ মাত্র একমাসেই যেন বাড়িটা মৃত্যুপুরিতে রুপান্তরিত হয়েছে। সবাই যে যার মতো ঘরে পড়ে থাকে। দীপ্তর মনে পড়েনা শেষবার কবে ওরা সবাই একসাথে বসে খাবার খেয়েছিল। আবৃতি যাওয়ার সাথে সাথে যেন এই বাড়ির সুখ গুলোও নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। এসব ভেবে দীপ্ত দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কোথায় ভেবেছিল আজ সোনিয়ার সাথে একটু একান্ত সময় কাটাবে। মেয়েটা না বললেও ও বোঝে সোনিয়ার এই বাড়িতে মন টিকতে চায়না। হঠাৎ খট করে দরজা খোলার শব্দে সামনে তাকিয়ে বিরক্ত মিশ্রিত গলায় বললো,

— এত দেরী হলো ক….

সোনিয়ার পেছনে ইরাকে দেখে দীপ্ত নিজের কথা গিলে নিল। তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে দাড়িয়ে বললো,

— আপনি?

দীপ্ত ইরাকে কখনো ভাবি বলে সম্বোধন করেনি। যেখানে আবৃতিকে ভাবি ডেকে এসেছে।সেখানে  ইরার অযাচিত প্রবেশে সম্পর্কে বদলে দীপ্ত এখনো অভ্যস্থ হতে পারেনি। আবার হতে পারে তার ইচ্ছাও নেই।

— দীপ্ত ইরা ভাবি আজ আমার সাথে থাকবে। তুমি প্লিজ গেস্ট রুমে যাও৷

দীপ্ত অবুঝ চোখে তাকিয়ে আছে৷ সোনিয়া চোখের ইশারায় কিছু বললো। দীপ্ত বুঝতে পেরে আর কোন কথা বললোনা। নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে নিরবে প্রস্থান করলো।

— ভাবি আসুন আপনি এবার ঘুমিয়ে পড়ুন।

ইরা বাধ্যের ন্যায় একপাশে শুয়ে পড়লো। সোনিয়া ওর গায়ে কম্পোর্টারটা জড়িয়ে দিল।

— তুমিও প্লিজ আমার সাথে শোও। আমার গা কাঁপছে।

সোনিয়া বিনা বাক্য ব্যায়ে ইরার পাশে শুয়ে পড়লো।

— ঘুমান ভাবি। কাল আপনাকে আমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব৷

সোনিয়া চিন্তিত মুখে পাশ ফিরে বেডসাইড ল্যাম্পটা নেভাল। ওর মনে অশনী শঙ্কা জাগছে। মনে হচ্ছে সামনে কোন বিশাল ঝড় আসতে চলেছে।

.

ধ্রুব ঘরে ফিরে ফ্রেশ না হয়েই একটা নাম্বারে বারবার ডায়াল করছে। কেন করছে ও নিজেও জানেনা। শুধু জানে হেলায় হারানো প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে এই মুহুর্তে কথা না বলতে পারলে ওর মনটা হালকা হবেনা। হঠাৎ ফোনটা রিসিভ হতেই ধ্রুব ব্যাকুল স্বরে বললো,

— আ…বৃতি শুনছো?

অপরপাশে থমথমে প্রতিত্তোর,

— আমি আহান।

ধ্রুব চমকে উঠে বললো,

— আহান তুমি? আবৃতি কোথায়?

আহান একপলক বিছানায় নিদ্রায় শায়িত নিজের বোনের ভঙ্গুর চেহারায় চাইলো। তখন কাঁদতে কাঁদতে আহানের বুকেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। আহান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

— ধ্রুব ওয়াহিদ এত রাতে নিজের প্রাক্তন স্ত্রীকে কল দেওয়া কেন প্রয়োজন মনে করলেন? নাকি প্রাক্তনের পিছু নেওয়া আপনার জন্মগত দোষ।

— আহান!

— একদম চিৎকার করবেন না। গলার ঠাঁট আমারও আছে। আই ওয়ার্ন ইউ আমার বোনের জীবনে আর কোনপ্রকার হস্তক্ষেপ করবার দুঃসাহস দেখাবেন না৷

ধ্রুব অবাক হলো আহানের ক্ষীপ্ততায়। এই ছেলেটা না ওকে একসময় বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতো?ঢোক গিলে বললো,

— আহান আমার আবৃতির সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।

— আমার বোনের সাথে আপনার লিগ্যালি তালাক হয়েছে। এখন আপনি আমাকে এই কথাটা বলুন একজন মানুষ তার প্রাক্তনের সাথে কি গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকতে পারে? তাও এত রাতে? আরশানের বিষয়ে কোন কথা হলে আপনি আমাকে বলুন৷ নতুবা ফোন রাখুন৷

– আমার আবৃতির সাথেই কথা আছে।

– স্যরি ও আপনার সাথে কোন কথা বলতে চায়না সেটা আপনিও জানেন।

এই বলে খট করে লাইনটা কেটে গেল।

— আহান প্লিজ আমার কথা….

ধপাস করে কাউচে বসে পড়লো। হতাশায় মাথার চুল খামচে ধরলো। কি করবে ও?

— এখন খুব অনুশোচনা হচ্ছে তাইনারে ভাইয়া।

ধ্রুব হতবাক চোখে সামনে তাকায়৷ টাউজারের পকেটে এক হাত গুঁজে দীপ্ত সামনে এসে দাড়ালো। ধ্রুব এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে বললো,

— কি বলতে চাইছিস?

— কেন নিজের হাতে নিজের সাজানো গোছানো সংসারটা তছনছ করলি ভাই?

ধ্রুবর চোখ ছলছল করে উঠে। এই প্রশ্নের কোন কৈফিয়ত ও চাইলেও কাউকে দিতে পারবেনা। দুনিয়ার সবাই মনে করে বিবাহিত স্ত্রী থাকা স্বত্তেও ও গোপনে নিজের প্রাক্তনকে বিয়ে করেছে। কিন্তু ও যে বাধ্য হয়েছিল এর কৈফিয়ত ও কিভাবে দেবে সবাইকে?

ধ্রুবকে নিরুত্তর দেখে দীপ্ত রূঢ়ভাবে বললো,

— ভাইয়া আমি না তোকে ঠিক বুঝতে পারিনা। একবার ইরার জন্য আবৃতি ভাবিকে পায়ে ঠেলে দিলি। এখন আবার আবৃতি ভাবির জন্য ইরাকে কষ্ট দিচ্ছিস। তুই আসলে চাস টা কি একটু বলবি?

ধ্রুব বিড়বিড় করে বললো,

— জানিনা

দীপ্ত হতাশ নিঃশ্বাস ফেললো। জানত ধ্রুবর জবাব এরকম কিছুই হবে। জীবন নামক গোলাকার শৃঙ্খলের জালে একদিন সবাইকে আটকাতে হবে। তোমার আজকের কর্মফল দুইদিন বা দুইবছর পর হলেও তোমায় ভুগতে হবে। যেমনটা এখন ভুগছে তার ভাই।

— ভাইয়া যা করে ফেলেছিস করেছিস। এখন আবৃতি ভাব..আই মিন আবৃতি তোর অতীত। আর ইরা তোর বর্তমান। তাই অতীতকে ঘাঁটিয়ে বর্তমান নষ্ট করার কোন মানেই হয়না৷ সব ভুলে নিজের জীবনে এগোতে হবে তেকে। তোর এক সন্তান আর তার মায়ের প্রতি তুই অবিচার করেছিস। এবার আরেক সন্তান আর তাকে স্বীয় গর্ভে বহনকারী মাকে রেহাই দে। প্লিজ!

চলমান…..

(আগামী পর্ব থেকে গল্প ঐক্য আবৃতির পরিনয়ের দিকে এগোবে। ❤️ সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন আশা করি। 🙂)
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x