লেখিকা:আরিফা বিনতে মায়া
পর্ব:০৫
ভোরের আলোটা তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। রাতের শেষ নীরবতা ভেঙে দূরে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি বাতাসকে পবিত্র করে তুলেছিল। সেই সুরের রেশ কাটতে না কাটতেই আকাশের এক কোণে লাজুক রোদ্দুর উঁকি দিল। শিশিরভেজা ঘাসে আলো পড়তেই মনে হলো, পৃথিবী যেন নতুন করে হাসছে।
তেমনি আজকের সকালটা শাহজাদীর জীবনে নতুন অধ্যায় সুচনা হবে। ফজরের নামাজ শেষ করে কুরআন তেলোয়াত করে, জানালার দিকে তাকিয়ে সকালের মিষ্টি হাওয়া উপভোগ করল।
তবে শাহজাদী নিজেকে ছাড়া বর্তমানে এখন আর কিছুই ভাবছে না।
তাই প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিয়ে নিজে ঠিক করল, সে এখন নিচে নেমে বাড়ির সবার জন্য চা বানাবে। তাই যে ভাবার সেই কাজ,কোন কিছু না ভেবে সোজা নিচে চলে গেল।
যখন শাহজাদী নিচে নামল, তখন মারুফা সিকান্দার তাকে দেখে এগিয়ে এসে বলল”
— কিরে আম্মু, এতো সকাল সকাল উঠে পড়েছিস যে,পারলে তো আরেকটু ঘুমিয়ে নিতি। কত ধগোল গিয়েছে তোর উপরে।
তখনই শাহজাদী মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে মারুফা সিকান্দারকে জড়িয়ে ধরে বলল”
— জানো আম্মুজান, আজ কতদিন হয়ে গেলো আব্বুজান কে নিজের হাতে চা করে খাওয়াই না। তাই ভাবলাম আজকের চা নাস্তা সব আমি করবো। তোমার আজকে ছুটি।”
— ধুর পাগলী বলা লাগবে কেন? তোর আব্বুজানকে তুই করে খাওয়াবি। আমি কি তোর সৎ নাকি?
— না…তুমি কেন আমার সৎ হতে যাবে। তুমি তো আমার ভালো আম্মু। এই মিষ্টি সকালে আমি আর মন খারাপ করতে চাই না। চল দুইজন একসাথে মিলে সবার জন্য নাস্তা বানাই।”
এই বলে মারুফা সিকান্দার আর শাহজাদী রান্না করে চলে গেলো। শাহজাদী তার আব্বুর পছন্দের নাস্তা হালুয়া রুটি, বোনের পছন্দের গরুর মাংস পরোটা, আর নিজের জন্য সবজি রুটি। আর বাড়ির সকলের জন্য চা বানিয়ে নিলো।শুধু মারুফা সিকান্দার হাতে হাতে কাটা কুটিতে সাহায্য করল। কোন কিছুতেই হাত লাগাতে দেই নি শাহজাদী
তালহা সিকান্দার ঘুম থেকে উঠে ড্রইয়িং রুমে বসে হাতে পেপার নিয়ে মারুফা সিকান্দার কে ডাকতে শুরু করল”
— কই তাহেরের আম্মু, আমার সকালের চা কই?
আদৌ কি এই বুড়োর কপালে চা জুটবে কি না সন্দেহ।”
— এইযে নিন আব্বুজান চা, তোমার মেয়ের হাতের স্পেশাল।
হঠাৎ পরিচিত কন্ঠ শুনে চমকে পেপারখানা সরিয়ে দেখতে পেলো শাহজাদী তার সামনে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।আর মুখটা কত নিষ্পাপ দেখা যাচ্ছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে না মেয়েটার কোন কষ্ট আছে। নিজের নিষ্পাপ মেয়েটাকে কি করলো নিজেকে বাচানোর জন্য..
আর ভাবতে পারলো না। অজান্তেই চোখ ভিজে উঠল। কোন রকম নিজেকে ঠিক করে শাহজাদীর হাত থেকে চায়ের কাপ নিয়ে নিজের মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলল”
— কিরে তুই এতো সকালে উঠে আমার জন্য চা করলি যে, তোর তো এখন বিশ্রাম নেওয়ার উচিত।
তা না করে সকাল সকাল রান্না ঘরে যে!”
— আব্বুজান আমি কি পারি নাহ তোমায় একটু নিজের হাতে চা করে খাওয়াতে।
—- পারিস তো। তবুও তোর উপর…
— আব্বুজান আর একটা কথাও না। এখন বলো চা টা কেমন হয়েছে।
চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুক নিয়ে বলল”
— আহ কি শান্তি? মনে হলো অমৃত খাচ্ছি। “
— তাই বুঝি আব্বু! আমাদেরকে একা ফেলে অমৃত খাচ্ছ। এইটা কিন্তু ঠিক না।”
সবাই এমন হঠাৎ কন্ঠ স্বর শুনে অবাক হয়ে বাড়ির মেন দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল, তাদের বাড়ির দুই ছেলে মেহেদী আর তাহের সিকান্দার দাড়িয়ে আছে। দুই ভাই সব মাএ ট্রুর থেকে ফেরল। যখন বড় বোনের কথা শুনল, তখন আর বেশি দেরি করে নি। সোজা চলে এসেছে বোনের টানে।
— ভাইয়ূ, তোরা।”
— হুমম আপুনি, তোর আদরের দুই ভাই তোর টানে জুটে এসেছে।
এই বলে মেহেদী ও তাহের দুই জন মিলে শাহজাদী কে জড়িয়ে ধরল। “
তখনই ঘুম ঘুম কন্ঠে আইশু সেখানে উপস্থিত হলো, আর বলল”
— ভালোই তো, এ নাকি আমার ভাই? অথচ দেখ এখানে নিজের পেটের বোন দাড়িয়ে আছে। তোদের চোখে পড়ে না। যদি আমি শশুর বাড়িও যাই এরা খবর নেওয়া তো দূর আমি যদি ওখানে কোমায়ও থাকি এদের কিছু যায় আসে না। সবগুলো স্বার্থপর, থাকবোই না।”
এই বলে সোজা উপরে উঠে যেতে নিলে পিছনে মেহেদী একটু জোরেই বলল”
— তাহের ভাই, কে জানি বলেছিল কি আনতে? সে কি চায় তার জিনিস রাস্তায় ফকির মিসকিন কে দান করে দিবো।
আসলে আজকাল ফকির মিসকিনের অভাব নাই। আমি এক কাজ করি দিয়ে আসি।”
— এই খবরদার, কুমড়ো পটাশ। তুই যদি আমার জিনিসে হাত দিছিস তো, তোর কুমড়ো কেটে আমি মুখের ফেসপ্যাক বানাবো, বলে দিলাম।”
— আসছে আমার, তেতুল গাছের পেত্নী। তুই আমায় কেটে ফেসপ্যাক বানাবি আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো। তোর এই পেত্নী মার্কা চেহারার ছবি তুলে পুরো সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করে দিবো।তখন দেখবি কেমন লাগে।”
মেহেদী আইশুকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটা বলল”
মারুফা সিকান্দার ওদের কে থামানোর উদ্দেশ্য করে বলল”
— চুপ করবি তোরা, কি শুরু করে দিয়েছিস কি হ্যা। তোদের জ্বালায় তো বেলা ফুরালো বলে।
তোর বড় বোন সবার জন্য কত কিছু বানালো,তোদের কি খুদা পায় নি।
আইশু— পেয়েছে তো অনেক খুদা লেগেছে। কি কি করেছে আপি সেইটা তো বল?”
— ওইটা টেবিলে গিয়ে খেতে বসলে দেখবি। আগে নিজেকে পরিপাটি করে আয়। “
—আম্মু……
— কোন কথা নয়, যেইটা বলছি সেইটা। আর বাকিদের কেও কি সেম কথা বলতে হবে নাকি, জলদি যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। আর শাহজাদী আম্মু তুই আমার সাথে আয়।”
এই বলে আবার পুনরায় রান্না ঘরে চলে গেল। আর আইশু, সে তো মুখ বোতা করে দুই ভাইয়ের দিকে ত্যাড়া করে তাকিয়ে হুমকির স্বরে বলল”
— তোরা আজকে যেইটা আপির সামনে করেছিস না, কোনদিন ভুলবো না। সামনে থেকে শুধু কোথাও যাওয়ার জন্য আমায় ধরো না। তখন দেখবি কেমন মজা দেখাই।”
এই বলে সোজা উপরে চলে গেলো, আর মেহেদী, তাহের একে-অপরের দিকে তাকিয়ে হুট করে হেসে দিলো। আর অস্ফুটস্বরে মেহেদী বলল”
— পাগলী একটা।
চল ভাই তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নেই, না হলে টেবিলের সিন মিস করবো, আই মিন মজার খাবার মিস করবো।”
— হুম, চল।”
এই বলে দুই ভাই নিজেদের রুমে চলে গেলো।
———————————————-☘️
শিকদার বাড়ি……
শিকদার বাড়ির রান্না ঘরে বেশ দুমদাম লেগেছে। আজ প্রায় একবছর পর রান্না ঘরে ডুকেছে হাফছা শিকদার। তবে রান্না করতে নয়, বরং সব তদারকি করতে। কারন নতুন বউকে দিয়ে রান্না করিয়ে এই বাড়ির ঐতিহ্যের নিয়ম পালন করবে।
বেশ খুশিতে সব একা হাতে সামলাচ্ছে। শুধু এখন অপেক্ষার পালা নিজের ছেলে ও নতুন বউয়ের আশা।
তখন উপর থেকে বুরূজ আর তানিয়া একসাথে নিচে নেমে আসলো। তাদের কে হাফছা শিকারদারের বুকটা ভরে উঠল, তখন রান্না ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ছেলের সামনে গিয়ে বলল”
— শুভ সকাল কলিজার টুকরা, সব ঠিক আছে তো। এতো সকালে কই যান।”
— মা, আমার এখন বের হতে হবে। পরে এসে খাবো। আমার হাতে সময় নেই, তোমরা থাকো।
“এই বলে কোন রকম নিজের মাকে এড়িয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলেন।
আর হাফসা বেগম একটু অবাক হলেও পরে কোন রকম নিজেকে ঠিক করে। অতঃপর নতুন বউয়ের সামনে গিয়ে কিছু বলতে নিলে লক্ষ্য করে নতুন বউয়ের চুল ভেজা নেই, চুল শুকনো।
তাই কোন রকম সংকোচ না করে অবাক সুরে বলল”
— একি মা তোমার চুল ভেজা না যে, নাকি ভুল করে ফরজ গোসল করতে ভুলে গেছো।”
তানিয়া আশ্চর্য না হয়ে বিনা দ্বিধায় শাশুড়ীর মুখে উপর কড়া জবাব দিয়ে বলল”
— কিসের ফরজ গোসল মা, যেখানে আপনার ছেলে আমাকে ছুয়ে পর্যন্ত দেখে নি।সেখানে সাদ সকালে গোসল ঘরে ভেজা চুল নিয়ে পুরো বাড়িতে ঘুরিয়ে দেখানোর কোন মানে আছে। তাই শাওয়ার না নিয়ে নিচে চলে আসলাম।”
— মানে…?
— মানেটা আপনার ছেলে মা, হয়তো প্রথম ওয়াইফ কে দেখতে পারিনি বলে আফসোসে আমাকে ছুয়ে দেখে নি। কে জানি ভবিষ্যতে ছুয়ে দেখবে কিনা সন্দেহ ?”
এই বলে সোজা রান্না ঘরে চলে গেলো।
আর হাফছা শিকদার মুখটাকে বেজার করে নিজের রুমে চলে গেলো।
তানিয়া রান্না ঘরে গিয়ে সোজা ফাতেমাকে জিজ্ঞেস করল”
— আচ্ছা ফাতেমা আফা, তোমাদের আগের ভাবি মানে যে আমার আগে ছিলো। সে কেমন ছিলো? একটু বলবে পিল্জ।
তখনই হামিদা মাঝখান থেকে এসে বলল”
— কেন জানতে চাচ্ছেন তার বিষয়ে?
— না এমনি, বললে কি কোন সমস্যা?
— না সমস্যা নেই। তবে না জানাই আপনার জন্য মঙ্গল। সামনে নিজেই বুঝে নিবেন।এখন আপাতত বাড়ির কাজে মন দিন।
— ঠিকাছে না বললে আমার কোন সমস্যা নেই।
আমারটা আমি দেখে নিবো।
এই বলে রান্না ঘর থেকে চলে গেলো। আর বাকিরা যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে গেলো।
★
সিকান্দারের বাড়ির ড্রইয়িং রুমে বসে আছে তালহা সিকান্দার ও তার তিন ছেলে মেয়ে সহ। তাদের সবার মুখ ভার হয়ে আছে। কারন কিছুক্ষণ আগে তাদের বাড়িতে হাফসা শিকদার ও সাদ্দাম শিকদার এসেছে।
সবাই কোন রকম চুপ করে ওনাদের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে।
তখন আইশু সাহস করে বলল”
— তো মিসেস দর্জাল মহিলা, হঠাৎ এই বাড়িতে কি?
হাফছা শিকদার তার পাল্টা জবাব দিয়ে বলল”
— ও মাগো মা… কি মেয়েরে বাবাহ, কিভাবে বড়দের কে সম্মান করে কথা বলতে হয় তা জানো নাকি, তোমাকে কি তোমার মা- বাবাহ শিক্ষা দেই নি। বজ্জাত মেয়ে মানুষ কোথাকার!”
— না আমার বাবা মা শিক্ষা দেই নি বলে তো আমি তাদের ঘরে বজ্জাত হয়েছি।
তো আপনার মা-বাবাহ মনে হয় আপনাকে শিক্ষা দেই নি বলে তাদের ঘরে দর্জাল হয়েছেন বুঝি।
— মুখ সামলে কথা বলো। যতবড় মুখ নয় ততবড় কথা।
— আমার মুখ তো ছোটই আছে দর্জাল মহিলা , কবে বড় মুখ নিয়ে বললাম। বরং আপনার মুখ বেশি বড় , এই মুখ দিয়ে যেকোন সময় যে কাউকে গিলে খেয়ে নিতে পারবেন।
তাই তো আমার বোনটাকে গিলে খেয়ে নিতে চেয়েছেন। আল্লাহ সময় মতো রক্ষা করেছে।
না হলে কি যে হতো। ”
এই বলে উপরে দুইহাত তুলে হাজার শুকরিয়া করল।”
আচ্ছা করে হাফছা শিকদার উচিত জবাব পেয়েছে বলে আর কিছু না বলে সোজা তালহা সিকান্দারে সামনে একটা ব্যাগ নিয়ে সেই ব্যাগের চেন খুলে দিয়ে বলল”
— এখানে প্রায় পনের লক্ষ্য টাকা আছে। জানেন তো হুট করে সব হয়ে গেছে। আপনার মেয়ে কে এতোদিন নিজের মেয়ের মতো করে রেখেছি।
ওর তো নিজের প্রাপ্য আছে। তাই আর কি সামন্য এইটুকু!”
এই সমস্ত দেখে আইশু এতক্ষণ নিজের রাগকে সংকোচে রেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতি দেখে ধৈর্য বাদ ভেঙে জোরে চিৎকার করে বলল'”
— এই যে দর্জাল মহিলা, আমার বোনকে কি সস্তা পেয়ে়ছেন। সামন্য কয়েকটা টাকা গরম দেখান। আমি যদি আপির জায়গায় হতাম না তাহলে আমি আইশু কি জিনিস বুঝিয়ে দিতাম। “
তাহের— কিরে কি করছিস শান্ত হো।
— তুই আমাকে শান্ত হতে বলছিস ভাইয়ূ। চোখে কি দেখতে পারিস না ওনারা সেদিনের মতো আজকেও টাকার গরম দেখাচ্ছে।
এই যে দর্জাল মহিলা, এখুনি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন। আই সে গেড আউট।”
— এতোবড় সাহস তোমার, তুমি হাফছা শিকদারের সাথে এমন উচু আওয়াজে কথা বলছ।
তুমি যদি আমার মেয়ে হতে না, এখুনি তোমার গন্ঠনালী চেপে ধরতাম। “
” ও তাই বুঝি মিসেস হাফছা শিকদার। ”
পেছন থেকে শাহজাদী বাড়ির দরজা দিয়ে ডুকতে ডুকতে বলল কথাটা ।
আর বাড়ির সবাই মেন দরজার দিকে নজর দিলো। গায়ে তার ধূসর রঙের সুতি থ্রি-পীজ, মাথায় ধূসর রঙের ওড়না টেনে গোমটা দেওয়া। মুখে মিস্টি হাসি থাকলেও, চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে ভিষণ রেগে আছে।হাফছা শিকদার আজকে বেশ লক্ষ্য করে দেখল শাহজাদীর দিকে। তবে কথাই আছে না,
°°°শয়তানের মনে যতই
শয়তানী থাকুক না কেন
তাদের চোখে কখনোই
ভালো কিছু পড়বে না।°°
তেমনি হাফছা শিকদার এখন নিজের কাজে ব্যস্ত।
অতপর শাহজাদীর দিকে উদ্দেশ্য করে বলল”
—অবশেষে তোমার দেখা পেলাম। এই নাও ধর এখানে তোমার প্রাপ্য প্রাপ্য টাকা ১৫ লক্ষ আছে। যেইটা সারাজীবন খেয়ে কেটে দিন চলে যাবে।
শুধু শুধু তো আর তোমায় আমরা কষ্ট দিতে চাই না। তাই এইটুকু আমার দোয়া মনে করে নিয়ে নাও।”
শাহজাদী কোন কথা না বলে চুপ চাপ করে কিছুসময় হাফছা শিকদারের দিকে তাকিয়ে রইল। অতঃপর আস্তে ধীরে সামরে এগিয়ো কিছু না ভেবে টাকার ব্যাগ টা হাতে তুলে নিলো। এতে করে সিকান্দার বাড়ির সবাই অবাক,বিশেষ করে আইশু। সে তো ভাবতে পারে নি তার বোন টাকার ব্যাগটা হাতে তুলে নিভে।
আর হাফছা শিকদার তো মনে মনে খুশি।অবশেষে তার কু-বুদ্ধি কাজে দিলো।
এরপরে শাহজাদী টাকার ব্যাগটা হাতে নিলো। ওখান থেকে এক বান্ডিল টাকা হাতে নিয়ে এপিট ওপিট করে দেখতে লাগলো। এতেই যেন হাফছা শিকদার আরো বেশি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো। তার এই খুশি বেশি সময় ঠিকলো না। কারন তার এই খুশিতে এক বালতি পানি ঢেলে দিলো শাহজাদী। টাকার ব্যাগটা নিজের হাত থেকে ছেড়ে দিলো। অতপর নিজের অপর হাত থেকে কেরোসিন তেল নিয়ে টাকার ব্যাগের উপর ডালতে শুরু করল। অতপর হাতে লাইটার নিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। আর টাকার উপরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করল।আর শাহজাদীর চোখ ছিল জলন্ত অগ্নিময়। পারছে না সব কিছু ধ্বংস করে নিতে।
বাড়ির সবাই বুঝতে পেরেছে আজকে শাহজাদী বেশ ক্ষেপেছে। তাকে থামানোর সাধ্য কারোর নেই।আর আইশু সে তো বেশ খুশি তার বোনের এই কাজ থেকে মনে মনে বলল আইশু”
— বেশ হয়েছে আপি, দে আগুন ধরিয়ে দে।আমি তোর জায়গায় হলে তো, এতক্ষণে মিসেস দর্জাল মহিলার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিতাম।আর আমার কলিজাটা শান্তি হতো।
তখন ওর ভাবনার মাঝখানে হাফছা শিকদার চিৎকার দিয়ে বলল”
— এইটা কি করলে তুমি? এতো গুলো টাকা কেন তুমি পুড়িয়ে দিয়েছো। ওগুলো তোমাকে দয়া করার জন্য দেই নি, তোমার দেনমোহর টাকা ছিলো।
— তো কি?
হাফছা শিকদার নিজেকে আর স্থীর না রাখতে পেরে বলে দিলো”
— এতোগুলা টাকা পুড়ালি কেন মুখপুড়ি? চোখে কি কোন দিন টাকা দেখেছিস কি? তোর বাপ – মা এমনেও তোকে কিছু শিখাইনি। নিজের মায়ের কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। আবার চেটাং চেটাং কথা।
এমন কথা শুনে নিজেকে স্থীর রাখতে না পেরে সেই জলন্ত আগুনের ছাইয়ের উপর হেটে হেটে একদম হাফছা শিকদারের সামনে ধীরে সুরে বলল”
— আমার টাকা আমি কি করব না করব সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব ব্যাপার। প্রয়োজন পড়লে এই ছাইগুলো শরবত করে খাওয়াবো। তবুও কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।
আর আমার পিতা-মাতা আমাকে যথেষ্ট শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে। আপনার হয়তো কোন কমতি আছে, তাই তো শিক্ষার অভাব।
অন্যের মেয়েকে নিজের মেয়ে মনে না করে। নিজের মেয়েকে গন্ঠনালী চেপে ধরে শিখাবেন, কিভাবে বড়দের সাথে সম্মান সহিত কথা বলতে হয়।
— ভদ্রভাবে কথা বল।
— আপনি নিজে ভদ্রভাবে কথা বলুন মিসেস হাফছা শিকদার। এইটা আপনার বাড়ি নয়,আর আমি আপনার ছেলের বউ না যে মুখে যা বলবেন, সহ্য করে নিবো। তো সো লিমিটেড থাকুন।
আমি শাহজাদী সিকান্দার কি জিনিস, তা কিন্তু কড়ায় গন্ঠায় বুঝিয়ে দিতে পারি।
আইশু, তাহের, মেহেদী, মারুফা সিকান্দার সবাই অবাক শাহজাদ এমন রূপের সাথে পরিচয় হয়ে।
তারা ভাবতেই পারেনি, নিজের অপমানের এমন উচিত জবাব দিবে।অতপর…….
চলবে……