লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
পার্ট : ১১
***** মাহি পিছন পিরে দেখে আরিয়ান দোড়াতে দোড়াতে এইদিকে আসতেছে,,, একটা কুকুর তাড়া করছে আরিয়ানকে এইটা মাহিদের কুকুর,,,, আরিয়ান এসেই মাহিকে দরে কুকুরের সামনে দাড় করিয়ে দিলো কুকুর নিজের মালিক কে দেখে আবার নিজের জায়গাই পিরে গেলো
– এই কি করছেন কি আমাকে দরলেন কেন? বেয়াদ্দব লোক
– এই বাদর সুনো আমাকে একদম বেয়াদব বলবেনা আমি যথেষ্ট ভদ্র ফ্যামিলির সন্তান,,,
– সেটাতো দেখতেই পেলাম,,
– এই কুকুর টার দোষ সব এইটা আমাকে তাড়া করছে ঐ কারনে আমি তোমাকে দরছি,,,
– আপনাদের দুই ভাইয়ের মাথায় সমুস্যা আছে,,, একজন তো আমার বান্ধবীর হাত টানাটানি করে আরেক জন আমার বাহু দরে,,, এই বলে হনহনিয়ে মাহি ঘরের দিকে চলে যাই,,,
*** অয়ন বাড়িতে ডুকতে না ডুকতে সবায় এসে তাকে গিরে দরলো অয়ন ভ্রু কুচকে সব পর্যবেক্ষন করতেছে তাকে কেন গিরে দরছে,,,
– কি হয়েছে সবার? এইভাবে পথ আটকে দারায়চো কেন?
তখনি তার কাকি বলে উঠলো দারাও বুঝবে,, আগে মিষ্টি খাও রুপা চৌধুরী একটা মিষ্টি নিয়ে অয়ন এর মুখে দিছে,,,
– এইবার বলো কি ব্যাপার তোমাদের
অয়ন এর দাদু আলিয়া চৌধুরী বলে উঠলো বড় দাদুভাই এখন যে বিয়ের সময় হয়েছে বিয়েতো করতে হবে আর আমি কবে তোমার ছেলে মেয়ের মুখ দেখবো যদি হায়াত না থাকে তাই তোমার বিয়ে ঠিক করছি ফাইজা আম্মার সাথে,,,
– ওকে আমি বিয়ে করবো,, হুম,, আমার বিয়ের বয়স হয়েছে আমার ক্লাসমেট দেরতো দুইতিনটা বাচ্চা ও আছে, ইনশাআল্লাহ আমার বাচ্চা কাচ্চার মুখ খুব তাড়াতাড়ি দেখবে দাদু চিন্তা করোনা,,, এই বলে অয়ন রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো,,
অয়ন রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে কাউকে ফোন করে বলতেছে,,, ছোট ভাই আমার বিয়ে আপনাকে কিন্তু আসতে হবে,,,
– কি বলতেছেন ভাই প্লিজ আপনি আমার সাথে একটু দোখা করবেন?
– ওকে ফাইন সন্ধায় আমার অফিসে দেখা করবেন ছোট ভাই,,,,,,
,,,,,এই বলে ফোন রেখে দিলো অয়ন,,
*** ফাইজাতো মহা খুশি অয়ন এর সাথে তার বিয়ে সে মনের আনন্দে শপিং করতেছে হঠাৎ হাতে টান পরাই সে দেখতে পেলো তানজিম তার হাত শক্ত করে ধরে আছে,,,
– কি সমুস্যা ফাইজা তোমার বিয়ে অয়ন চৌধুরীর সাথে? তুমি না বলছিলা আমাকে ভালোবাসো? এই তোমার ভালোবাসা? তানজিম এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে থামলো,,,,
– ছাড়ো বলছি সবাই দেখতেছে,,,
– দেখুক
– রিলেশন করলেই ভালোবাসা হয়ে যাইনা জাইনা,, আর হ্যা আমি অয়ন ভাইকে ভালোবাসি,,, আমাকে আর ডিস্টার্ব করবেনা,,,,
– দুই বছর রিলেশন তোমার কাছে মূল্যহিন মনে হয়,,, কেন এমন করলা,,, আমাকে যেহেতু তোমার পছন্দ না তাহলে কেনো আমার সাথে মিথ্যা অভিনয় করলে,,, তানজিম এর চোখ থেকে দুপোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো নিছে,,,
তানজিম আর ফাইজা দুই বছরের রিলেশন প্রথমে ফাইজা এ তাসজিম কে প্রস্তাব দিয়ে ছিলো সে নাকি ওকে ভালোবাসে যখনি জানতে পারে অয়ন চৌধুরীর সাথে তার বিয়ে আরো আগ থেকে ঠিক আছে তখন সে তানজিম এর সাথে ব্রেকাপ করে পেলে,,,,,,
– শুন তানজিম তুমি আমার যোগ্য নয়,,
– এইটা তোমার আমাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে মনে ছিলোনা,, দেখবে ফাইজা তুমি গুরে পিরে আমার কাছেই আসবে আমার সাথে যেটা হয়েছে তোমার সাথেও হবে তখন তুমি বুঝবে আমার ঠিক কতটা কষ্ট হয়ে ছিলো,,,, এই বলে তানজিম চোখের পানি মুছতে মুছতে শপিং মল থেকে বেরিয়ে গেলো,,,,,
**** আজকে শ্রাবণী কালো বোরকা আর হিজাব পরে আসছে প্রতিদিনতো সাদা হিজাব পরে আসে দুই বান্ধবী সেম সেম পরে আসছে,,,, শ্রাবণী ইচ্ছে করে পরে আসছে যেনো অয়ন তাকে না চিন্তে পারে বোকাতো জানেওনা তারা দুই বান্ধবি ছাড়া কেউ বোরকা পরে আসেনা সব সময়,,,
তারা কলেজ শেষ করে একটু হাটতেছে আজকে কলেজ একটু আগেই ছুটি দিয়েদিছে স্যার দের কি মিটিং আছে,,,,
– সো সুইট মাই ডেইজি,,,, শব্দটা কানে আসতেই শ্রাবণীর বুকের বিতর মোছট দিয়ে উঠলো এই অসভ্য লোক চিনে পেলছে? শ্রাবণী মাহি না শোনার বান করে সামনের দিকে হাটা দরল,,,
– দেখলি বান্ধবী তোরে বলছিনা চিনে পেলবে
– দূর আগে রিকশা দাড় করা ভাবছিলাম একটু গুরবো কিন্তু অসভ্য টা সেটাও হতে দিলোনা,,,
শ্রাবণী আর মাহি রিকশায় উঠতেই যাবে তখনি একটা শব্দ বেসে এলো,,,,
“””” পালাবে কোথায় মিস ডেইজি অয়ন চৌধুরীর থেকে পালানো এত সহজ নয়,,,, গুরেপিরে তোমার শেষ ঠাই হবে অসভ্য লোকটার বুকে,,,,,
শ্রাবণীর বুকের ভিতর তীব্র ব্যাথা অনুভব হলো হইতো সে অয়ন এর কাথার মানে কিছুটা বুঝতে পারছে,,,,
শ্রাবণী মনে মনে আওড়ালো আমার জিবনে রিফাত ভাই ছাড়া কারো জায়গা নেই ওই মানুষটা বিহিন আমার মৃত্যু কবুল এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরছে সে নিজেও টের পাইনি,,,,
“””” 🌿 চলবে,,,,, ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏
🌸🌸🌸🌸🌸