গল্প:স্থির নিশীথ(০৮)

লেখিকা:নাজনীন নাহার

part:08

বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর আশরাফ মির্জা বলে-‘ বেয়ান সাহেবা, আমাদের বাড়ির বউকে আমরা আজকেই নিয়ে যেতে চাই।’

আসিয়া খান যেনো এটার জন্য প্রস্তুত ছিল না তিনি মেয়েকে বিয়ে দিতে চাইলেও নিজের থেকে আলাদা করতে চায়নি কিন্তু এটা সমাজের নিয়ম বিবাহিত মেয়েদের শ্বশুর বাড়ি থাকতে হয়।

-‘এভাবে কি করে নিয়ে যাবেন,  আমরা তো আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নি নি। আজ তো শুধু বিয়ে হওয়ার কথা, আজকেই যে নিয়ে যাবেন আপনাদের বউকে সেটা আগে থেকে জানাবেন তো আমাদের। ‘

-‘আগে বললে তো বিশাল আয়োজন করতে এখন আমরা বউ নিয়ে যাই তারপর পরে যখন সবার সময় মিলানো যাবে তখন না হয় বড় অনুষ্ঠান করা যাবে।’

-‘ঠিক আছে তবে তাই হোক।’

___________________________________________

জ্যোতি বসে আছে বাসর ঘরে। তবে সে অন্য নতুন বউদের মতো ঘোমটা দিয়ে নয়, ঘোমটা ছাড়া বসে আছে। তার মনেই হচ্ছে না যে সে এখন বিবাহিত শুধুমাএ থাকার স্থানটা পরিবর্তন হয়েছে বাকি সবতো আগের মতোই আছে। জ্যোতি পুরো রুমটা ভালো করে দেখলো। রুমটা বেশ গুছানো কোনো ছেলের রুম এতোটা পরিপাটি ভাবে থাকে জ্যোতির জানা ছিল না। চারিপাশ দেখতে দেখতে জ্যোতির চোখ আটকে যায় পশ্চিম দিকের দেয়ালে, সেখানের একটা সুন্দর পোর্ট্রেটে । এই পোর্ট্রেট টা অনেক অদ্ভুত, একটা মেয়ে আছে কিন্তু তার মুখ দৃশ্যমান নয় আর ছবিটাও পুরোপুরি আঁকা শেষ হয়নি বলে মনে হয় কিন্তু এরকম অর্ধআঁকা ছবি কেনো জুলানো?জ্যোতির মনে নানান ধরনের প্রশ্ন জাগছে এরইমধ্যে রুমে কারো অস্তিত্ব অনুভব করে জ্যোতি, দেখে সামনে একজন পুরুষ দাড়িয়ে আছে জ্যোতিকে ভালেভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে পুরুষ তার চোখ জোড়া দ্বারা। আর এই পুরুষটি হলে জ্যোতির স্বামী। জ্যোতির মনে পরে এই লোকটার সাথে কিছুক্ষণ আগে তার বিয়ে হয়েছে এখন তারা স্বামী – স্ত্রী কিন্তু এই হঠাৎ হওয়া বিয়টা কি সে এতো তারাতাড়ি মেনে নিয়ে পারবে? আর তার স্বামী ও কি এটা মানতে পারবে?
জ্যোতি অন্যমনস্ক হয়ে এসব ভাবছে যখন তার ভাবনা শেষ হয় সে দেখে তার সামনে কেউ নেই এখন আর।

-‘কোই গেল ওই লোকটা?’

জ্যোতি এদিক ওদিক চোখ বুলায় দেখতে পায় না কাউকে তখনই সে বাথরুম থেকে পানির টুপ টুপ শব্দ পায়। হয়তো কেউ শাওয়ার নিচ্ছি। জ্যোতি এসে খাটে গুটিশুটি মেরে বসে।

-‘এই লোকটা আমায় আজ আবার ইগনোর করলো? দাড়াও তোমার হচ্ছে মনু।’

দরজার খোলার শব্দ পায় জ্যোতি কিন্তু ইগো দেখিয়ে সে দিকে আর তাকায় না।

জ্যোতি খুবই আস্তে করে বলে

-‘এই যে শুনুন!’

-‘ শুনছি।’

-‘আমি কারো সাথে বেড শেয়ার করতে পারিনা। তো এখন আপনি কি করবেন করেন অন্য কোথাও শুয়ে পড়ুন।’

কথাটা বলা মাএই জ্যোতি অনুভব করে তার হাতে কারো স্পর্শ, সামনে তাকিয়ে দেখে ঋভান তার হাত ধরেছে কিন্তু ঋভান তো জ্যোতির থেকে অনেক দূরে ছিল ও এখানে এলো কেমন করে। ঋভান জ্যোতির হাতটা টেনে দরজার সামনে নিয়ে যায়  দরজার সামনে ধার করায় জ্যোতিকে, ছেড়ে দেয় জ্যোতির হাত। ঋভান বিছানা থেকে একটা বালিশ নিয়ে এসে জ্যোতির হাতে ধরিয়ে দেয় জ্যোতি আশ্চর্য হয়ে দেখছে ঋভানের কাজ কর্ম। ঋভান পুনরায় জ্যোতির হাত ধরে দরজা খুলে জ্যোতিকে রুম থেকে বের করে দেয় আর বলে-‘ আমি কারো সাথে রুম শেয়ার করি না।’

কথাটা বলেই জ্যোতির মুখের উপড়ে দরজাটা বন্ধ করে দেয় জ্যোতি এখনও দাড়িয়ে আছে সেখানে।

-‘এই লোকটা সব সময় আমার থেকেও এক ধাপ উপরে থাকে। দুর এখন আমি কোথায় থাকবো?’

জ্যোতির বালিশটা নিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে থাকে তখন দেখে সামনে থেকে তার শ্বাশুড়ি ঋনা মির্জা আসছে।

-‘তোমার হাতে বালিশ কেনো?’

জ্যোতি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে তার কাছে কোনো উওর নেই সে কি করে বলবে তার স্বামী বাসর রাতে তাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছে!’

ঋনা মির্জা ঋভানের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে দরজা বন্ধ করা তিনি জ্যোতিকে বলে

-‘ কি এমন করেছে যে বাসর রাতে স্বামী  ঘর থেকে বের করে দিয়েছে?’

জ্যোতি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে এখনও।

-‘আমার সাথে আসো। ‘

জ্যোতি তার পিছু পিছু যায়। জ্যোতিকে অন্য একটা রুমে থাকতে দেয়।কিন্তু এই রুমটা ঋভানের রুমের বিপরীতে। তাই জ্যোতির একটু আসস্থী লাগছিল কিন্তু কিছু বলে না চুপচাপ রুমে প্রবেশ করে।

-‘ নিজের স্বভাব  ঠিক করো। স্বামীর ঘরে টিকে থাকা এতো সহজ নয়।’

কথাটা বলে চলে গেল ঋনা মির্জা। জ্যোতি একটা বেংচি দিয়ে বলে

-‘ ঋনা খানের নামের সাথে স্বভাবেরও  পুরো মিল আছে শুধু সে খান আর উনি মির্জা। আর বিয়ে হলেই কি সবাই সংসার করে?’

জ্যোতির কথাটা আসলে সত্য কারন এই দুনিয়ায় এমন অনেক মানুষ আছে যারা বিয়ে নামক সম্পর্কে আবদ্ধ কিন্তু কোনো দায়িত্ব পালন করে না।

চলবে…..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x