পর্বসংখ্যা:১৯
লেখনীতে:প্রিয়াংশি চৌধুরী
ঘুমের আড়মোড়া ভেঙে ধীরে ধীরে চোখ মেলে কায়রাভ। জানালা খোলা থাকায় সকালের সূর্যের আলোতে ঘর আলোকিত হয়ে চোখে লাগছে। কাল রাতে ঝুম বৃষ্টির পর আর জানালা লাগানো হয়নি।কারণ, কায়রাভ তখন কায়েশীর নেশায় বুঁদ হয়ে ছিলো। পৃথিবীর সমস্ত সজ্ঞানতা ছাপিয়ে তখন সে ডুবে ছিল অন্য এক অনুভবে। পার্থিব সব বোধ তখন তার কাছে ঝাপসা হয়ে গিয়েছিলো। আচমকাই খেয়াল হলো বুকের ওপর অনাহূত এক ভার। না, অচেনা নয় বরং ভীষণ চেনা, ভীষন আপন। নরম উষ্ণতার সেই উপস্থিতি বুঝতেই ঠোঁটের কোণে অবচেতনে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে তার। চোখ খুলে সামনে তাকাতেই দেখে কায়েশী তার বুকের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অবাক করার বিষয়, মহারানী কত শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে আজ! যে নারী দিনের বেশিরভাগ সময়েই রাজরোষে টগবগ করে, সে এখন নিরুপদ্রব।
কায়রাভ অতি সন্তপর্ণে কায়েশীর হাতটা নিজের হাতে তুলে নেয়। সেই নরম, কোমল আঙুলগুলো নিজের কপালে, গালে এমনকি নিজের পুরো মুখে ছুঁইয়ে দেয়। চোখ বুজে এক স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। মুহূর্তটা সে নিজের ভেতর ধরে রাখে। কারণ, এমন সকাল বারবার আসে নি। হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই, কায়েশীকে আলতো জড়িয়ে রেখেই পাশ ফিরে বেডসাইড ড্রয়ার খুলে ফেলে। ভেতর থেকে বের করে আনে সোনার দুটো বালা। অনেকদিন আগেই কেনা হয়েছিলো কিন্তু সময় করে তা আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই আজ কায়েশীকে না জাগিয়ে ঘুমের মধ্যেই বালা দুটো তার হাতে পরিয়ে দিলো কায়রাভ।
অবিকল তখনই কায়েশীর ঘুমটা হালকা হয়। একটু নড়েচড়ে সে জেগে ওঠে। পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে কায়রাভ চট করে চোখ বুজে ফেলে ঘুমের ভান করতে থাকে। কায়েশী কায়রাভের বুক থেকে মাথা তুলে এদিক ওদিক তাকায় পিটপিট চোখে। এরপরই চোখ যায় কায়রাভের পানে। নিশ্চিন্ত হয় এই ভেবে লোকটা দিব্যি ঘুমোচ্ছে।
গা থেকে কম্ফোর্টার সরিয়ে উঠে বসে কায়েশী। বিছানা ছেড়ে নামতে গিয়েও হঠাৎ থেমে যায়। অজানা এক টানে ধীরে পাশ ফিরে আবার কায়রাভের দিকে তাকায়। তারপর নিজেকেই অবাক করে দিয়ে কায়রাভের বুকে হাত রেখে মাথা নামিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে শোয় সে। আশ্চর্যজনকভাবে আজ উঠতে আলসেমি লাগছে কায়েশীর। যে মেয়ে ঘুম ভাঙলে বিছানায় এক মুহুর্ত কাটায় না আজ তার ইচ্ছে হলো আবার ঘুমাতে। হয়তো এটাই স্বামীর ভালোবাসার উষ্ণতা, যা অদৃশ্য অথচ প্রবলভাবে অনুভুত। এই ভাবনাতেই হঠাৎ মনে পড়ে যায় কায়ানের কথা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠে সে। নটা বেজে গেছে! এখনো তো ওকে খাওয়ানো হয়নি! তৎক্ষনাৎ ধপ করে উঠে বসে কায়েশী।
আর ঠিক তখনই বিধিবাম, বিরক্ত হয়ে যায় কায়রাভ। বউটা সবেই নিজে থেকে একটু বুকে এসেছিলো আবার হঠাৎ কী হলো! অভিনয় ভুলে সে বলেই ফেলে,
“উঠলে কেন? ভালো লাগছিলো তো?”
গলা পেয়ে চমকে পেছন ফিরে তাকায় কায়েশী। তার মানে এতোক্ষণ সে জেগেই ছিলো! খানিকটা রাগ মিশিয়ে বলল,
“আপনি না ঘুমিয়ে ছিলেন?”
কায়রাভও উঠে বসে। চোখে দুষ্টু হাসি,
“না, তোমার অনেক আগেই উঠেছি।”
“তাহলে এভাবে ঘুমের অভিনয় করার মানে কী?”
কায়রাভ দু’হাত মাথার ওপর তুলে শরীর টান টান করে হেসে বলে,
“নাহলে এতো সুন্দর ফিলিংসটা পেতাম কী করে, হুঁ?”
এইরকম ইঙ্গিতপূর্ন কথায় কায়েশীর কান পর্যন্ত গরম হয়ে যায়। সে বুঝে যায়, তার সব কাণ্ডই ধরা পড়ে গেছে। লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে ওর। ই’স, কি বোকামিটাই না করলো! এখন সারাদিন জ্বালিয়ে না মারলেই হলো। এসব ভেবে লজ্জাসহ রেগে উঠে পাশ থেকে বালিশ নিয়ে ছুঁড়ে দিয়ে বলে,
“অসভ্য! নির্লজ্জ লোক! সব সময় সুযোগ খোঁজেন!”
কায়রাভ বালিশটা ক্যাচ করে ভ্রু নাচিয়ে নাচিয়ে জবাব দেয়,
“তুমি সুযোগ করে দিলে, আমি খুঁজবো না কেন? অতো সাধু নই আমি!”
আর এক মুহূর্তও সেখানে না থেকে আলনা থাকা শাড়ি টেনে নিয়ে ত্রস্ত পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে কায়েশী। এদিকে কায়রাভ আবার কায়েশীর সামনে উচ্চস্বরে সেই গা জ্বালানো হাসিটা দিচ্ছে। কায়েশী তা শুনতে পেয়ে ভাবলো এই লোকের সামনে আর এক মুহুর্ত নয়। কায়েশী এটা ভালো করেই বুঝে গেছে ওদের মধ্যে যতই সব ঠিকঠাক হোক না কেন, একে অপরের সাথে ঝগড়ার বিষয়টা কোনোদিন মিটমাট হবে না। এটা নিঃসন্দেহে পারমানেন্ট।
——————————————–
আজ সকালে কায়রা সতেজ মুড নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকেছে। ভেবেছে আজ সে নিজেই ব্রেকফাস্ট বানাবে।অগত্যা সে তার প্রিয় লুচি আর আলুর দম বানিয়ে ফেললো। কায়ানকে টিভির সামনে বসিয়ে রেখে ঝটপট এক হাতে সব সাজিয়ে ফেললো। রান্না শেষে খেয়েদেয়ে নিজেও কায়ানের পাশে বসে অগি কার্টুন দেখতে লাগলো। এই কার্টুন কায়রারও প্রিয়। ফোনটা চার্জে থাকার কারণে কায়রা ভাতিজার সাথে কার্টুন দেখতে খুব মনোযোগী। টিভিতে অগিকে ককরোচরা মারছিলো তাই কায়ান মুখ কুচকে বলল,
“পুপি! দেকেচো? ককরোচরা বালবাল অগিকে মালে! কত পচা!”
কায়ান কায়রাকে ফুপি সম্মোধন করলেও পুপি শোনা যায়। কারণ কায়ান র, ফ, খ এসব স্পষ্ট উচ্চারণ করতে পারেনা। কিন্তু বাড়ির সদস্যরা সেসব বুঝে নেয়। কায়রা প্রতিউত্তরে মাথা ঝাঁকিয়ে হেসে বলল,
“সহমত, বাচ্চা। ককরোচ তিনটে সারাজীবন অগিকে জ্বালিয়ে মারলো! সেই ছোট থেকে দেখে আসছি।”
ঠিক তখনি কায়েশী আসে ড্রয়িংরুমে। কায়ানকে কোলে নিয়ে কায়রার দিকে তাকিয়ে বলে,
“ইস, তুমিও তো না খেয়ে আছো তাইনা! এতো দেরি হলো আজ উঠতে!”
কায়রা হেসে উত্তরে বলে,
“চিল ভাবি! আজ আমি নিজেই সবার জন্য রান্না করেছি। আমার প্রিয় লুচি আর আলুর দম করেছি। আমি পেট ভরে খেলাম মাত্র। আর কায়ানকে দুধ গরম করে খাইয়ে দিয়েছি সকালেই।”
কায়েশী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে,
“আর এদিকে আমি ভাবছি ছেলেটা না খেয়ে আছে।”
কায়রা হেসে বলে,
“ভাইজান আর তুমিও তারাতাড়ি খেয়ে নাও। লুচিগুলো এখনো গরম আছে। বেশি দেরি করলে ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
কায়েশী কায়ানকে সোফায় বসিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“হু, যাচ্ছি।”
এরপর কায়েশী চলে যায়। কায়রাভ তৈরি হয়ে একেবারে নিচে নামে। খাওয়া দাওয়া শেষে কায়ানের কাছে এসে তার গালে কয়েকটা চু’মু দেয়। তারপর কায়রার দিকে তাকিয়ে বলে,
“ভার্সিটি যাবি না আজ?”
কায়রা মাথা নেড়ে উত্তর দেয়,
“না, আজ কোনো ইম্পর্টেন্ট ক্লাস নেই। গিয়ে কি করবো? তাই ভাবলাম বাসায় থাকি।”
“আচ্ছা, ট্যুর কবে তোর?”
কায়রা বলে,
“আজ রাতের গাড়ি, ভাইজান। তারপর কাল সারাদিন ঘুরোঘুরি হবে। আর কাল রাতের বাস ধরে সোজা টাংগাইল ফিরবো।”
কায়রাভ মাথা নাড়িয়ে বলে,
“আচ্ছা, সাবধানে যাবি। নিজের খেয়াল রাখবি। আমার বোধহয় রাতে ফিরতে লেট হবে, মন্ত্রনালয়ের বৈঠক আছে আজ। তাই গাজীপুর যাবো। কাবিরকে বলে দেবো, ও তোকে এগিয়ে দিয়ে আসবে। আল্লাহ হাফেজ।”
কায়রা হাসিমুখে উত্তর দেয়,
“ওকে ওকে। আল্লাহ হাফেজ।”
*****************************
বিকেলের হালকা বাতাসে জানালার ধারে গাছের পাতাগুলো ধীরে ধীরে দুলছে। রোদের মোলায়েম ছায়া কমে আসছে। জানালার পাশের নরম বিছানায় চোখ বুজে শুয়ে আছে প্রীষান। বুকের উপর উল্টো করে রাখা একটি বই। সমরেশ মজুমদারের কালবেলা বইটি। চোখে এখনো রিডিং গ্লাস রয়েছে। যা খোলার আগেই ক্লান্ত শরীরটা ঘুমে বিভোর হয়েছে। এক ঘন্টা আগেই স্কুল থেকে ছেলেমেয়েদের নামিয়ে বাড়ি ফিরেছে সে। তারপর নিজের ঘরে এসে বই হাতে নিয়েছিলো। পড়তে পড়তেই কখন যে চোখ দুটো লেগে এসেছে, সে নিজেও টের পায়নি। ঘুমটা গভীর নয় তবে এভাবেই প্রায় এক ঘন্টা কেটে গেছে।
দরজা খোলার ক্ষীণ শব্দে ঘুমটা হালকা হয়ে ভেঙে যায়। প্রিহা ঘরে ঢুকেছিলো নিঃশব্দে। ডাকেনি বাবাকে, তবু প্রীষানের চোখের পাতার নড়াচড়া দেখে বুঝে যায়, ঘুম ভেঙেছে তার। সে একটু অপরাধী গলায় বলে,
“সরি পাপা… ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম তোমার।”
প্রীষান আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে। রিডিং গ্লাসটা খুলে পাশে রাখে, বইটা সরিয়ে দিয়ে হালকা হাসে। বলল,
“না, প্রিন্সেস। ভালোই হয়েছে জাগিয়ে দিয়েছো। এখন ঘুমোলে রাতে নিশ্চিত ঘুম আসতো না।”
প্রিহা এসে বিছানায় উঠে বাবার পাশে গিয়ে গুটিসুটি মেরে বসে। কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকে। প্রীষান তাকিয়ে থাকে মেয়ের মুখের দিকে। স্বভাবসিদ্ধ ভাবে জিজ্ঞেস করে,
“প্রীভান কোথায়? স্কুল থেকে এসেই খেলতে চলে গেছে নাকি?”
“হুম।”
একটুকু থেমে যায় প্রিহা। প্রীষান ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
“মুড অফ?”
প্রিহা মাথা নাড়ে। কিন্তু চোখ দুটো অন্য কথা বলে দেয়। কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা সংকোচ। প্রীষান মেয়ের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। ভরসা দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি হয়েছে আমার প্রিন্সেসের? আমার কাছে সামান্য কথা বলতে যদি সংকোচ করো, তাহলে ভাববো এখনো তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারিনি। ”
প্রিহা তৎক্ষণাৎ বলে,
“না না, পাপা, তুমিই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। কিন্তু… কথাটা এমন যে… তোমাকে বললে তুমি রাগ করবে!”
প্রীষান শান্ত গলায় বলে,
“বলেই দেখো। পাপা কি কখনো অকারণে বকেছি? টেল মি…”
ভরসা পেয়ে আর দেরি না করে প্রিহা লম্বা করে একটা শ্বাস নেয়। তারপর চোখ বন্ধ করে নিজেকে সাহস জোগায়। এরপর এক নিশ্বাসে বলে ফেলে,
“পাপা… আই থিংক ইউ শুড গেট ম্যারিড।”
প্রীষানের হাতের বাঁধন মুহূর্তে আলগা হয়ে যায়। সে কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে মেয়ের দিকে।একেবারে নির্বাক ভঙ্গিতে। এমন দৃষ্টিতে প্রিহার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠে। তার বাবাকে সে চেনে। সহজে রাগে না, আর রাগলেও চেঁচামেচি করে না। শুধু অস্বাভাবিক রকম শান্ত হয়ে যায়, যেটা সাধারণ রাগের চেয়েও ভয়ংকর। তাই তাড়াহুড়ো করে সে বলে,
“পাপা, পাপা, শোনো! প্লিজ আমাকে ভুল বোঝো না। আমি অনেকদিন ধরে এই কথাটা ভাবছি। তাই আজ বলে ফেলেছি। এভাবে আর কতদিন…?”
প্রীষান ধীর, ঠান্ডা গলায় বলে,
“এতো বড় হয়ে গেছো যে বাবাকে বিয়ের কথায় কনভিন্স করতে চাইছো?”
প্রিহা বাবার হাত ধরে বলে,
“তুমি তো আমাকে সেই ভুলই বুঝলে! আর এই যে বললে এত বড় হয়ে গেছি বলে এসব বলছি, আমি তো কোনো খারাপ কথা বলিনি, পাপা। আমি শুধু চাই তুমি ভালো থাকো।”
একটু বিরক্ত হয়েই হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
“দিস ইজ টু মাচ!”
প্রীষানের হাত শক্ত করে ধরে রাখার চেষ্টা করে প্রিহা। প্রীষান ছাড়াতে চাইছে কিন্তু প্রিহার জেদ সহজে ছাড়তে দিচ্ছে না। সে তার পাপাকে মানানোর মিশনে নেমেছে। ঠিক তখনই দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রীতিষা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলো,
“প্রিহা ভুল কি বলেছে, ভাইয়া? তুমি শুধু শুধু রিয়েক্ট করছো!”
প্রীষান সামান্য ক্ষিপ্ত মুখে বলল,
“এই তোরা কি দল পাকিয়েছিস! কিছু মাস চুপ ছিলি, এখন আবার শুরু করেছিস!”
প্রিহা হতাশ গলায় বলে,
“তুমি বোঝো না কেন, পাপা? এমন কেন করছো! আমরা দেখছি তুমি ভালো নেই! কিন্তু জেদ কমবেই না তোমার!”
প্রীষান ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
“আমি কি বলেছি যে আমি ভালো নেই? তাহলে বাড়াবাড়ি কথা কেন হচ্ছে?”
“আমাকে বলে লাভ নেই। নানাকে কিভাবে না করবে তুমি! আমরা সবাই চাই তুমি বিয়ে করো। নানা ফোন করেছিলেন, সামনের সপ্তাহে আসছেন।”
প্রিহার কথায় প্রীষান বিস্মিত স্বরে চোখ বড় করে তাকিয়ে রইলো। বলে,
“কিহ! তোর নানা আসছে!”
প্রীতিষা বিজয়ের হাসি দিয়ে বলে,
“ইয়েস! এবার কি করবে তুমি, ভাইয়া?”
প্রীষান গভীর একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এটাই বাকি ছিলো। এদের নাহয় থামিয়ে রাখলো কিন্তু নিজের শ্বশুরকে কি বলবে! ভাগ্য করে পেয়েছিলো একখানা শ্বশুর! প্রীভানের আসার শব্দ পেয়ে শান্ত স্বরে বলে ,
“এই টপিক এখানেই ক্লোজ! প্রীভান আসছে।”
সবাই সেই মুহুর্তে চুপচাপ থাকলো। ঘরটায় তখন অদ্ভুত স্থিরতা নেমে আসে। হঠাৎ প্রীভান ঘরে ঢুকে পড়লো, হাতে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে। ক্রিকেট খেলে ঘেমে নেয়ে গেছে ছেলেটা, পোশাকে খেলাধুলার কারণে ধুলো লেগে। প্রীষান তাকে একটা তোয়ালে ছুড়ে দিলে প্রীভান সেটা ক্যাচ করে ওয়াসরুমে চলে যায়, ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে ঘরে ফিরে সে আগ্রহের সঙ্গে বলে,
“কি ব্যাপার, সবাই এত চুপচাপ?”
প্রীতিষা চঞ্চল হাসি নিয়ে বলে,
“তোর অপেক্ষাই করছিলো সবাই। দাঁড়া, আমি মিল্কশেক বানিয়েছি। নিয়ে আসি।”
প্রীভান বলে,
” মনে করে এক্সট্রা কোকো দিও, মণি। ”
এরপর প্রীভান বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
“পাপা, আজ রাতে না তোমার ট্যুর! গোছগাছ সব কমপ্লিট করেছো?”
প্রীষান মাথা নাড়িয়ে বলে,
“না, প্রিন্স। এসো দুজনে হেল্প করো। মাথা থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিল গোছগাছের ব্যাপারটা।”
প্রীভান প্রিহাকে টিজ করে বলে,
“আপু, বাসায় থেকে সারাদিন কি করো? কোনো কাজের হও নি!”
প্রিহা মুখ বাকিয়ে ভেংচি দিয়ে বলে,
“মার খাস না আমার হাতে! চল, কাজে লেগে পড়। এসেছে বড় জ্ঞান দিতে!”
প্রীষান তখন সতর্ক করে বলল,
“ঝগড়া করে না, বাচ্চারা। বি কোয়াইট। ”
এরপর সে ছোট একটি ব্যাগে কিছু শার্ট আর প্যান্ট ভরে নেয়, সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস। প্রীভান একটা পারফিউম ব্যাগে রাখে এবং বলে,
“এটাও নিয়ে যাও। এর স্মেল দারুণ।”
প্রিহা আগ্রহে চোখ বড় করে বলে,
“কয়টায় গাড়ি, পাপা? আর কবে ফিরবে?”
প্রীষান দৃঢ় স্বরে বলল,
“রাত আটটায় গাড়ি, ফিরতে ফিরতে পরশু ভোর হবে।”
প্রিহা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
“পাপা, শুনেছি জাফলং কেনাকাটার জন্য অনেক ভালো। তুমি আমার জন্য ফুল লাগানো হ্যাট এনো। আর হাতে বোনা ব্যাগও।”
প্রীভানও তাল মিলিয়ে বলল,
“আর আমার জন্য ইন্ডিয়ান চকলেটস, আর স্ন্যাকস।”
প্রীষান মাথা নাড়ায়। ঘরটায় তখন নীরবতার মধ্যে এক অদ্ভুত তৎপরতা আর পরিবারের উষ্ণতায় ভরে গেছে। ছোটদের কৌতূহল, বড়দের ভাবনা এবং আগামীর অপ্রকাশিত ঘটনার প্রতীক্ষায়। কিন্তু প্রীষানের চিন্তাভাবনা আজ অন্য জায়গায়। সে তো ভাবছে তার ডেন্জারাস শ্বশুরের কথা। তার আসার কথা শুনেই প্রীষানের পিলে চমকে গেছে। আসলে না জানি কি হয়! উফ, এসব ভেবে এখনি ঘামতে শুরু করেছে প্রীষান। বরাবরই প্রীষান তার শ্বশুর নিজাম উদ্দীনের কাছে ছেলেসম। জামাই-শ্বশুর সম্পর্ক এদের দেখলে কেও বলবে না। জীবনে প্রীষানের নিজের বাবা-মা কখনো বিয়ের জন্য প্যারা দেয় নি। কিন্তু তার শ্বশুর নিজের মেয়ের সংসারে অন্য কাওকে ঢোকাতে চায়। এর চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় পৃথিবীতে দুটি নেই।
#চলমান…….
[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। 🦋 🥀]