লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
পার্ট : ০২
****** অয়ন নিচে নামতেই দেখলো তার দাদি (আলিয়া চৌধুরী) ফাইজাকে নিয়ে বসে আছে,,, ফাইজা তার আব্বুর বন্ধুর একমাত্র মেয়ে,, অয়ন তার মায়ের উদ্দেশ্য বলে উঠলো আম্মু আমার জন্য খাবার তৈরি কর আমি আসতেছি, এবলে অয়ন বাহিরে বাগানের দিকে যেতে নিলে ফাইজা এসে তার পথ আটকে দাড়ায়,,
– কোথায় যাচ্ছ অয়ন ভাই,,
– সেটা ও কি তোমার জানতে হবে?
– না মানে আমার সাথে কথা বলার জন্য তোমার কাছে একটু সময় হবে?
– জাস্ট টু মিনিট কি বলবে বলো
– এমন ভাবে না একান্ত ভাবে
অয়ন বিরক্তি নিয়ে বাগানের উদ্দেশ্য চলেগেল ফাইজা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে অয়নের পানে,,
ফাইজা মামনি এই দিকে আসো -,,
– জি দাদুমনি আসছি,,
তাসনুবা ফাইজার কাছে এসে ফাইজাকে নিয়ে তার রুমে চলেগেল,,
,,একটা মেয়ে আরিয়ানের গড়ির কাচ ভেঙ্গে পেলছে,,
– এই বাদর গাড়ির কাচ কেন বাঙ্গলে?
– তো কি করবো দেখে গাড়ি চালাতে পারেন না দেখেতো মনে হচ্ছে চোখ দুটো ঠিক আছে তা গাড়ি চালানোর সময় দেখে চালালে হয়,
– তোমার মুখ বন্ধ করো মনে হচ্ছে মেশিন ইসট্রাট দিছে,
– যাহ পাগল ছাগল এর সাথে কথা বলে সুধু সুধু টাইম নষ্ট করতেছি
– কিহ আমি পাগল? ছাগল? বাদর মেয়ে,,
আরিয়ান আর কথা বাড়ালো না, গাড়ি নিয়ে নিজের গন্তব্যে রওনা দিল,,
আরিয়ান গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো গাড়ি ইসট্রাট দিবে এমন সময় মাহি সামনে চলে আসলো মাহির গায়ের সাথে একটু বাড়ি লাগার কারনে সে গাড়ির পাশের কাচ বেঙ্গে দিছে,,,
-উমহ নিজেকে কি মনে করে আমার গায়ের উপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাবে আমি কিছু করবো না,,,, আবার আমাকে বলে বাদর,,,
****রিফাত শোন? হুম বল,,
– আমার মনে হয় শ্রাবণী মেয়েটা তোকে পছন্দ করে
– যানি আমি অনেক আগ থেকে পছন্দ করে,,
– তুই পছন্দ করলে বলেদে
– না এখন নয় সঠিক সময় হোক, উনি যদি আমাকে সত্যি লাভ করে তাহলে অপেক্ষা করবে,,,
– ওতো মেয়ে মানুষ যদি ফ্যামিলি থেকে বিয়ে দিয়ে দেয়, তখন চাইলে ও পাবিনা সত্যি কারের একজন মানুষ হারায় পেলবি,,,
– তানজিম জাবি আমার সাথে,,
– যাবো,, কোথায় সেটা বল
– কলেজের পিছনে কৃষ্ণচুরা ফুল গাছের নিছে ওই খানে মিনি কে নিয়ে যেতে বলছে,,,,,,
*** নতুন একটা দিনের সূচনা,, আজকেও অনেকটা মেঘলা আকাশ শ্রাবনী মাহি ক্লাসে বসে আছে,, তাদের ক্লাস টিচার সালাউদ্দীন স্যার একটা বার্তা দিলেন,, নবর্বষ উপলক্ষে উনুষ্ঠান হবে প্রদান অতীথি হিসেবে থাকবে নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর পেন্সিপাল স্যার চেয়ারম্যান মাহিন চৌধুরী তার ছেলে অয়ন চৌধুরী,,
শ্রাবনীর মনে পড়লো কালকে তো অয়ন চৌধুরীর সাথে তার দেখা হয়েছে৷,,, পরশু দিন অনুষ্ঠান হবে,,,
-বান্ধবী তুই কালকে বললি না অয়ন চৌধুরীর কথা আচ্ছা আসলে দেখবো কেমন সবাইতো প্রসংশা করে,, দেখবোনি কেমন,,,
-আচ্ছা দেখিশ
স্যার ক্লাস থেকে চলে গেছে,, ক্লাস শেষ করে শ্রাবণী কৃষ্ণচুরা ফুল গাছের কাছে এসে দেখতে পেলো রিফাত আর তানজিম দাড়িয়ে আছে, শ্রাবনী রিফাত এর হাত থেকে মিনিকে নিয়ে একটু আদর করে দিলো,,,
– ধন্যবাদ আপনাকে মিনিকে নিয়ে আসার জন্য,, -it’s ok,,,
রিফাত শ্রাবণীকে বলল,,
-শুনেন শ্রাবনী,, আমি আপনাকে বুজি, আপনি মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেন পরেরটা পরে দেখা যাবে,,,
শ্রাবণীর কথার মানে না বুঝতে পেরে,, রিফাতের মুখের পানে তাকিয়ে আছে,,
– আচ্ছা আমরা এখন আসি,
শ্রাবণী মাথা নাড়িয়ে রিফাতের হাতে মিনিকে দিয়ে দিছে,, মাহি এতক্ষণ শ্রাবণীর পাশেই ছিল,, তানজিম ও ছিল রিফাতের পাশে তানজিম রিফাতের ভাইয়ের থেকে কনো অংশে কম নয়,,,
হঠাৎ মাহির চোখ গেল রিফাত দাড়িয়ে কথা বলতেছে আরিয়ানের সাথে,,,
-বান্ধবী দেখ কালকে এই পাগলটার গাড়ির কাচ বেঙ্গে দিছি আমি,,
এর মধ্যে আরিয়ান এর দৃষ্টি গেল শ্রাবণীর পিচনে দাড়িয়ে থাকা মাহির দিকে মাহি যতটা সম্ভব ততটা নিজেকে আড়াল করে রেখেছে,,,
আরিয়ান উচ্চ সরে বলে উঠলো,,
-এই বাদর আমি দেখে পেলছি বেরিয়ে আসো
আরিয়ান রিফাতদের বড় ভাই বলে কুশল বিনিময় করলো,,,
আরিয়ান রিফাতদের সাথে কথা শেষ করে
মাহিদের দিকে এগিয়ে আসছে,,,,
-এই বাদর বের হও, আমি কি ভাগ নাকি ভাল্লুক যে লুকাচ্ছ,,,
– এই একদম আমাকে বাদর বলবেন না,,
– তো কি বলবো
– কিছু বলতে হবে না,
হঠাৎ সাইমা দোড়ে এসে আরিয়ান কে বলতে লাগলো চলো ভাইয়া,,
সাইমা হচ্ছে আরিয়ানের মামাতো বোন,, সেও শ্রাবণীদের সাথে পড়ে, মূলত আরিয়ান আসছে সাইমাকে নেওয়ার জন্য,
-কিরে সাইমা এই পাগল তোর ভাইয়া,,
– কে বলছে আমার ভাইয়া পাগল?
– আচরনে বুঝা যাই
সাইমা একবার আরিয়ানের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার
শ্রাবণীদের দিকে তাকাচ্ছে কিছু বঝতে না পেরে,,,
-চলো সাইমা,, আম্মু তোমার জন্য অপেক্ষা করতেছে বাসায়,,
-চলো ভাইয়া,,,,,
** 🌿 চলবে ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏