গল্প: চিরচেনা অচেনা (০২)

পর্ব:০২

লেখনীতে:মিফতাহুল জান্নাত জেমিম

 

 

ক্লাস শেষ হতে হতে বিকেলের তপ্ত রোদ ম্লান হয়ে এসেছে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বিশাল হলঘর আর করিডোরগুলো ধীরে ধীরে জনশূন্য হয়ে পড়লে সেখানে এক ধরনের গুমোট নীরবতা নেমে আসলো। হাতে একগাদা নোটের বোঝা আর কাঁধে ব্যাগের ভারসহ আতিকা ক্লান্ত পায়ে করিডোর ধরে হাঁটছিল। সকালের টিউশনি, তারপর দীর্ঘ ক্লাস, এরপর আবার হন্তদন্ত হয়ে আরেক টিউশনিতে ছুটে যাওয়া, এই নিয়ে তার সারাদিন কেটে যায়!

টিউশনির ছেলেটা আজ বড্ড বেয়াড়া মুডে ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা একই পড়া বোঝাতে গিয়ে আতিকা তার ধৈর্যের শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছিল। বিকেলের আলো যখন ম্লান হয়ে সন্ধ্যার ধূসর অন্ধকার নামছিল, শহরের ব্যস্ততা যখন কিছুটা থিতিয়ে আসছে, তখন আতিকা বাসস্ট্যান্ডের দিকে এগোচ্ছিল। বাসে উঠে জানালার পাশে একটা খালি সিট পেয়ে সে যেন মরুভূমিতে মরূদ্যান খুঁজে পেল। জানালার কাঁচে কপাল ঠেকিয়ে সে যখন বাইরে ছুটে চলা ছায়াগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল, তার অবচেতন মন তখন আর্তনাদ করে উঠছিল,
—”কেউ তো জানে না, রোজ রোজ এমন যুদ্ধ করে বেঁচে থাকাটা কতটা কঠিন…”

বাস যখন সিদ্দিক নীড়ের কাছাকাছি থামল, রাত তখন পুরোপুরি জেঁকে বসেছে। ক্লান্ত শরীরটাকে কোনোমতে টেনে নিয়ে সে বাড়িতে ঢুকল। বাড়ির গেট খোলার শব্দেই যেন ঘরের ভেতরের তপ্ত আবহাওয়া টের পাওয়া গেল। পা রাখতেই হুমাইরা আক্তার ওরফে আতিকার মেজো আম্মু কড়া গলা চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল,
—”এই সময়ে বাড়ি ফেরা লাগে? এত বড় মেয়ে হয়েছিস, কিছু বুদ্ধি হয়েছে? রাস্তাঘাটের অবস্থা জানিস না?”

পাশ থেকে মেজো আব্বুর কর্কশ কণ্ঠ,
—”আমাদের মুখই দেখাতে হবে না এসবের জন্য। মেয়ে মানুষ হয়ে এত রাতে রাস্তায় কেন?”

আতিকা মাথা নিচু করে স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। তার ভেতরে এক প্রবল ঝড় উঠলেও বাইরে সে পাথরের মতো নিথর। এই বাড়িতে যুক্তির চেয়ে কণ্ঠস্বরের জোর বেশি। তাই আতিকা আর কিছু বললো না। সাধারণত সে ঝামেলা এড়িয়ে যেতে চায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত সেটা তার আত্মসম্মান এ আঘাত হানে! আতিকার মা রাহনুমা এগিয়ে এসে অতি সংকুচিত হয়ে নরম গলায় বললেন,
—”আতিকা ক্লান্ত…আগে ওকে একটু বসতে দাও।”

কিন্তু সেই আকুতি কারো কানে গেল না। আতিকার পরিশ্রমের চেয়ে তার ফেরার সময়টাই সবার কাছে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়াল। আতিকা তার ব্যাগটা শক্ত করে ধরে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল। চোখের কোণে নোনা পানি চিকচিক করে উঠলেও সে তা ঝরতে দিল না। কারণ, আতিকা কারো সামনে কাঁদে না। উপরন্তু সিদ্দিক নীড়ের এই ইট-পাথরের দেয়ালে তার কান্নার প্রতিধ্বনি হওয়ারও কোনো জায়গা নেই।

আতিকার রুমে তখন টেবিল ল্যাম্পের মৃদু হলদেটে আলো। ওজু করে নামাজ শেষ করার পর তার মনটা কিছুটা শান্ত হলো। তার এই ছোট্ট ঘরটাই যেন তার নিজস্ব এক পৃথিবী। এরপর একে একে ঘরে এসে জড়ো হলো ছোট ছোট ভাইবোনেরা। মেজো আম্মুর মেয়ে তুরিন, ছোট আম্মুর ছেলে নকিব আর পাঁচ বছরের পিচ্চি নাজিয়া—সবাইকে নিয়ে আতিকার সন্ধ্যা কেটে যায়।

পড়তে বসে তুরিন পদার্থবিজ্ঞানের কঠিন অঙ্ক নিয়ে পড়েছে এক জ্বালায়! তার চোখেমুখে এক ধরনের জড়তা। সেটা লক্ষ করা মাত্রই আতিকা মৃদু হেসে স্নেহের স্বরে বলল,
—”আরেকটু মনোযোগ দিয়ে চেষ্টা কর। না পারলে আমি তো আছি!”

ঘরটা পড়ার গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠল। কেউ অ-আ-ক-খ পড়ছে, কেউ গুণের নামতা মুখস্থ করছে। আতিকা একদিকে ছোটদের বানান ঠিক করে দিচ্ছে, অন্যদিকে অত্যন্ত ধৈর্য নিয়ে তুরিনের জটিল অঙ্কগুলো শুধরে দিচ্ছে। আতিকা লক্ষ্য করল তুরিন বারবার একই জায়গায় ভুল করছে। সে খাতাটা টেনে নিয়ে বলল,
—”তুরি, মন দিয়া দেখ তো, কোথায় ভুল করেছিস?”

তুরিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকে দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
—”আপু, চেষ্টা করছিলাম…কিন্তু মাথা আর চলে না…”

আতিকা ওর চোখের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে তুলল। সেই হাসিতে কোনো তিরস্কার ছিল না, ছিল অগাধ আস্থা। সে বলল,
—”ক্লান্ত হলেই হাল ছেড়ে দিলে চলবে? তুই তো আমার যোদ্ধা। আবার শুরু করো, আমি পাশে আছি।”

<><><><><><><><><>

ঢাকার গুলশানে অবস্থিত সেই দুতলা বাড়িটি যেন আধুনিক স্থাপত্যের এক অনবদ্য নিদর্শন। মার্বেল পলিশ করা মেঝে আর হালকা ক্রিম রঙের দেয়ালগুলোতে আভিজাত্য চুঁইয়ে পড়ছে। বাড়ির কর্তা প্রিন্সিপাল মুজিবুর রহমান, একজন ঋজু ব্যক্তিত্বের মানুষ। নিয়মের বেড়াজালে তিনি কঠোর হলেও সন্তানদের প্রতি ওনার এক অদেখা মমতার টান রয়েছে। শিহাবের পরিবারে মা নেই, আর সেই দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা ফারহানা ফুফু নিজের আঁচল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

শিহাবের মেজাজ আজ কিছুটা অন্যরকম। নিজের গোছানো লাইব্রেরি-সম রুমে ঢুকে সে যখন ব্যাগটা রাখল, তখন জানালার বাইরে সন্ধ্যার ঝিরঝিরে বাতাস খেলা করছিল। দরজায় দাঁড়িয়ে তার ছোট বোন আইরিন উঁকি দিয়ে যখন জিজ্ঞেস করল,
—”ভাইয়া, আজ তোমার মুখ এত গম্ভীর কেন?”

তখন শিহাব শুধু একটা আলগা হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেল। কিন্তু তার অবচেতনে তখন এক অশান্ত অস্থিরতা।

রাত তখন দশটা। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। শিহাব পড়ার টেবিলে বসে ল্যাপটপ খুলল, কিন্তু স্ক্রিনের অক্ষরে তার মন বসছিল না। সে উঠে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। ব্যালকনির রেলিং ধরে সে যখন দূরের শহরটার দিকে তাকাচ্ছিল, তার চোখের সামনে বারবার ক্যাম্পাসের সেই দৃশ্যটা ভেসে আসছিল। সাদা-নীল থ্রিপিস পরা, কাঁধে ভ্যানিটি ব্যাগ ঝুলানো সেই ছিপছিপে মেয়েটি। আতিকা।
বাতাসে যখন মেয়েটির চুলের অবাধ্য ভাঁজগুলো উড়ছিল, শিহাবের মনে হয়েছিল যেন আতিকা তার চিরচেনা অচেনা কেউ একজন। বুকের বা পাশে চিনচিন করে উঠা এই অনুভূতি আজ প্রথমবার অনুভব করলো সে। এই প্রথম কারো চাহনি শিহাবের মতো আত্মবিশ্বাসী তরুণকে এভাবে ভাবিয়ে তুলল। সে জানালার গ্রিল ধরে মনে মনে অদ্ভুত এক আর্তি নিয়ে বলল,
—”আশা করি আবার দেখা হবে, নীলাঞ্জনা।”

<><><><><><><><><>

পড়ানো শেষে রাতের খাবারের টেবিলে সবাই এসে বসেছে। সিদ্দিক পরিবারের বিশাল ডাইনিং টেবিলে সবাই উপস্থিত। কিন্তু খাবারের ঘ্রাণের চেয়ে সেখানে মনস্তাত্ত্বিক চাপের গন্ধটাই বেশি। খাবার পরিবেশন করতে করতে ঠোঁট বাঁকিয়ে মেঝ আম্মু অভিযোগের সুরে বললেন,
—”আতিকা তো আজকাল বাড়ির মেয়ে মনে হয় না। কখন আসছে, কখন যাচ্ছে, কোনো ঠিকঠিকানা নেই। কার সাথে মিশছে, তাও জানি না কেউ!”

মেঝ আব্বুও তার গম্ভীর স্বরে যোগ করলেন,
—”শুনলাম, দুপুরে নাকি ভাতও খায়নি? মেয়ে হয়ে বাড়ির নিয়মকানুন কিছু মানে না আতিকা। ভবিষ্যতে এমন চললে সংসার সামলাতে পারবে না।”

আতিকার গলার গ্রাস যেন আটকে গেল। সে তার বাবার দিকে একবার তাকাল, কিন্তু সাইফুদ্দিন সিদ্দিক নির্বিকার হয়ে প্লেটের দিকে চেয়ে রইলেন। নিজের মেয়ের জন্য একটি শব্দ খরচ করার সাহসও যেন তার নেই।

দাদাজান শুধু এক চিলতে শীতলতা নিয়ে বললেন,
—”অভিমান করে লাভ নেই, আতিকা। দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে নিজের পরিবারকেও গুরুত্ব দিতে হয়।”

সবাই যখন আতিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছিল, তখন রাহনুমা শুধু আতিকার পাশে এসে আলতো করে বসলেন। সেই স্পর্শে কোনো কথা ছিল না, কিন্তু এক আকাশ সমান ভরসা ছিল। রাহনুমা মৃদু স্বরে বললেন,
—”তোর উপরে বিশ্বাস আছে মা।”

আতিকার চোখের পাতা একবার কেঁপে উঠল। বড় বড় কথা বলে সে বাড়ির সবাইকে চুপ করিয়ে দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু রাহনুমার এই সাধারণ একটা কথা যেন তার সব তেজ এক মুহূর্তে পানি করে দিল। আতিকা বুঝতে পারল, এই বাড়িতে সবাই যখন তার দোষের তালিকা করতে ব্যস্ত, তখন অন্তত একজন মানুষ আছে যার কাছে তার লড়াইটার একটা মূল্য আছে।

বাবার নীরবতায় যে কষ্টটুকু হয়েছিল, মায়ের এই হাতটার ছোঁয়ায় তা যেন নিমিষেই মিলিয়ে গেল। খেতে খেতেই আতিকা মনে মনে ভাবল,
—”আমি হয়তো বাড়ির সবার কাছে অবাধ্য, কিন্তু আম্মুর এই বিশ্বাসের মর্যাদা আমাকে রাখতেই হবে। এই মানুষটার জন্যই আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, যেন একদিন ওনাকে এই বদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি দিতে পারি।”

সে আর কোনো তর্কে গেল না। নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করল। প্রতিবাদ মুখে করার চেয়ে কাজে করে দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া রাহনুমার এই সামান্য আশকারাটুকুই আতিকার সারাদিনের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। মায়েরা যদি মেয়ের মনের কথা বুঝে, তার পাশে দাঁড়ায়, তবে মেয়ের জীবনে কি আর দুঃখ থাকে?

<><><><><><><><><>

রাত অনেকটা নেমে এসেছে। জানালার বাইরে ঝিম ধরা শহর, আর আতিকা বিছানায় শুয়ে নিঃশব্দে ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আজকের দিনটা কেমন যেন ভারী লাগছে। মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে হাজারো ভাবনায়। শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিলেও মনটা শান্ত হতে পারছে না। মেঝ আম্মুর তিক্ত কথা, মেঝ আব্বুর অন্যায্য অভিযোগ, আর বাবার সেই পাথরের মতো নীরবতা, সব মিলে বুকের ভেতরটা যেন বিষিয়ে আছে।

ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা ভেঙে আতিকার ফোনটা কেঁপে উঠল। স্ক্রিনের আলোয় একটি পরিচিত নাম ভেসে উঠতেই আতিকার বুকের ধুকপুকুনি যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। কয়েক মাস পর সেই নাম! কয়েক মাস পর সেই কাঙ্ক্ষিত ফোন। আতিকা একটু সময় নিল নিজেকে সামলাতে, তারপর কাঁপা হাতে ফোনটা কানে ধরল।

—”আতিকা, কেমন আছিস?”
ওপাশ থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বরটিতে ক্লান্তি ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল এক গভীর আর্তি।

আতিকা বুকভরে একটা দীর্ঘশ্বাস নিল। কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে নরম গলায় বলল,
—”ভালো। তুমি কেমন আছো?”

ওপাশের মানুষটা, আদিয়ান সিদ্দিক। মেঝ আম্মুর বড় ছেলে, যে এখন দেশ ছেড়ে যোজন যোজন দূরে প্রবাসে থাকে। বাড়ির সবার কাছে সে ‘আদি’ হলেও আতিকার কাছে সে সবসময়ই ‘আদিয়ান ভাই’। এই একটি নামের সাথে আতিকার কত না বলা স্মৃতি, কত চাপা পড়ে থাকা দীর্ঘশ্বাস জড়িয়ে আছে! আতিকার মনে হয়, এই কঠোর পাথুরে সংসারে আদিয়ানই ছিল একমাত্র শীতল ছায়া, যে তাকে বুঝত।

আদিয়ান আবার বলল,
—”তোর কোনো খবর পেলাম না। তাই ভাবলাম কথা বলি…অনেক দিন হয়ে গেল, না?”

আতিকা ফোনটা শক্ত করে ধরে রইল। তার গলা দিয়ে শব্দ বেরোতে চাইছিল না। সে শুধু ছোট করে বলল,
—”হুম, অনেক দিন।”

ফোনের ওপাশের গলা ভেসে এলো,
—”বাড়িতে সব ঠিক আছে তো? আর তোর সেই জেদটা কি এখনো আগের মতোই আছে, নাকি এই যৌথ পরিবারের চাপে সেটাকে বিসর্জন দিলি?”

আতিকা জানালার ওপারে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসল। সে বেশ শান্ত গলায় উত্তর দিল,
—”জেদটা আছে বলেই তো টিকে আছি আদিয়ান ভাই। জানোই তো, এই বাড়িতে টিকে থাকতে হলে মনটাকে পাথর করতে হয়।”

আদিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—”নিজের খেয়াল রাখিস। আমি আছি, মনে রাখিস সেটা।”

ফোন রাখার পরও আতিকা স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। ফোনের ওপাশের সেই গলার স্বর এখনো যেন তার কানের কাছে গুঞ্জন করছে। আতিকা উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। রাতের উদাস হাওয়া তার অবাধ্য চুলে লেগে উড়ে যাচ্ছে, কিন্তু তার মন পড়ে আছে অতীতে।

আদিয়ানের প্রতি তার এই অনুভূতিটা আসলে কী? সে কি ওকে ভালোবাসে? এই প্রশ্নের উত্তর আতিকা আজও খুঁজে পায়নি, কিংবা হয়তো ভয়ে খুঁজতে চায়নি। তবে এটা সত্য যে, পৃথিবীর সব অবজ্ঞা আর লাঞ্ছনা যখন আতিকাকে ঘিরে ধরে, তখন আদিয়ানের একটা ফোন কল তাকে মরুভূমিতে বৃষ্টির মতো শান্তি দেয়। আদিয়ান তার কাছে এমন এক আশ্রয়, যাকে সে কোনো নির্দিষ্ট নামে বাঁধতে পারেনি।

এই সমাজ আর এই কঠিন পরিবারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এ কথাটা আতিকা জানে। তবুও আদিয়ানের কথা ভাবলে তার শুকনো হৃদয়ে যেন এক চিলতে বসন্তের হাওয়া বয়ে যায়। সে ফোনের স্ক্রিনে সেভ করা “আদিয়ান ভাই” নামটার ওপর আলতো করে হাত বুলাল। এই নামটার মাঝেই যেন আতিকার সবটুকু না বলা ভালোবাসা আর নির্ভরতা লুকিয়ে আছে।

হয়তো সে কখনো আদিয়ানকে নিজের মনের কথা বলতে পারবে না, হয়তো এই অনুভূতিটা আজীবন তার ডায়েরির পাতায় বন্দী হয়ে থাকবে। তবুও এই অদ্ভুত টানটুকু নিয়েই আতিকা বেঁচে থাকতে চায়। অন্ধকারে জানালার বাইরে তাকিয়ে সে শুধু একটা কথাই ভাবল, সবাই তাকে দোষ দিলেও, ওই একজন মানুষ তো অন্তত তার খবর নেয়! এই প্রাপ্তিটুকুই তার জন্য অনেক।

 

 

চলবে ইংশাআল্লাহ……

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x