Story:Snigdhokothar Premopakan(09)

কলমেঃআফসানা শোভা

পর্ব:০৯

( রোম্যান্টিক এলার্ট।⛔)

[ ভাল লাগলে শেয়ার করে দেবেন।❤️]

ক্ষণকাল আগে কী ঘটে গেছে, তার আকস্মিকতা সামলে ওঠার আগেই স্নিগ্ধ এমন এক কাজ করে বসল যে কথার চারপাশের দুনিয়া মুহূর্তেই অন্ধকার হয়ে এলো। সময় বুঝি এই মূহুর্তে থমকে দাঁড়াল। কেবিনের নিস্তব্ধ পরিবেশে হঠাৎ স্নিগ্ধর এই অপ্রত্যাশিত কার্যে কথার সমগ্র অস্তিত্ব শিহরিত হয়ে উঠল। মাথা থেকে পায়ের তলা অব্ধি শিরশির করে উঠল। মুহূর্তেই কুঁকড়ে গেল কথার কোমল তনু। বেশামাল, লাগামছাড়া স্নিগ্ধ তখন মত্ত কথার অধর সুধা পানে। কিন্তু কোন সাধারণ চুম্বন নয় বরং বছরের বছর ধরে বুকে ছেপে রাখা যন্ত্রণা আর সিমাহীন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ রূপে থাবা বসিয়েছে কথার নরম ওষ্ঠপুটে।
ঠোঁটের স্পর্শে, দাঁতের দর্শনে কথার নরম অধর যুগল ততক্ষণে ক্ষতবিক্ষত। স্নিগ্ধ এতটাই ক্ষিপ্ত আচরণ করছে যেন দীর্ঘদিন ধরে বুকের ভেতর জমে থাকা অজস্র অভিমান, যন্ত্রণা আর দহন একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়েছে।

নরম, ফিনফিনে কমলার কোয়ার ন্যায় ওষ্টপুটে বয়ে চলা তান্ডব নতুন নয়। অতীতে এমন বহু মুহুর্ত ছিলো যখন কথার নরম অধর জোড়া ওই সিগারেট পোড়া অধর তলে পিষ্ট হয়েছে। চুম্বনের চেয়েও সংবেদনশীল ঘনিষ্ঠ স্পর্শ লেপ্টে আছে কথার নারী বদনে। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে সেই স্পর্শ গুলো ছিল ভালবাসার। কিন্তু এতগুলো বছর পর স্নিগ্ধ এই স্পর্শে ভালোবাসা তো দূর সামান্য কোমলতাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ঠেকছে কথার নিকট।
কথা ক্রমশ নিজের শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। উম উম করতে করতে স্নিগ্ধকে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে ঠেলে সরাতে চায় মেয়েটা। কিন্তু শক্ত-সামর্থ্য, উন্মাদ স্নিগ্ধকে এক চুল পরিমাণ ও সরাতে সক্ষম হয়না কথা। বরং কথার প্রতিরোধে স্নিগ্ধ আরো চটে যায়। কথার সরু কোমর খামচে নিজের আরো সন্নিকটে নিয়ে আসে। হাতের বিশাল থাবায় খামচে ধরে কথার চুলের গোছা।কথা ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠে।
স্নিগ্ধ আজ নিজের মাঝে নেই। এতগুলো বছর ধরে বুকে পুষে রাখা দহন, যন্ত্রণা, আক্ষেপ, তীব্র রাগ আর অনুভূতিতে স্নিগ্ধ দিশেহারা। কিন্তু একটা সময় পর সেই তীব্র যন্ত্রণাদায়ক স্পর্শ বদলে হঠাৎ কোমলতায় রূপ নেয়। কথাকে গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে স্নিগ্ধ ভুলে বসে দিন-দুনিয়া।

কত বছর পর আজ এই মানুষটার এমন গভীর স্পর্শ কথা অনুভব করছে। কিন্তু একটা সময় যে স্পর্শে কথা ভালোলাগার আবেশে নুয়ে যেত আজ এতগুলো বছর পর সেই চেনা পরিচিত স্পর্শগুলো যেন সূচের ন্যায় বিঁধছে কথার অস্তিত্বে। পুরো শরীরটা থরথরিয়ে কাঁপছে। হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। নিঃশ্বাস যেন ফুরিয়ে আসছে। নিঃশ্বাস নেওয়ার প্রবল তাড়নায় কথা বলহীন হাতে স্নিগ্ধর বুকে মৃদু ধাক্কা দেয়,কিন্তু এবারেও স্নিগ্ধকে নিজের থেকে এক ইঞ্চি ও সরাতে পারেনা। এদিকে পুরনো আতঙ্ক আর ঘৃণা কথার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ যন্ত্রণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। চোখের সামনে দুনিয়া অন্ধকার হয়ে আসে। চোখের সামনে ধোঁয়াশা হয়ে ভেসে উঠতে লাগল একে একে ছয় বছর আগের সব বিভীষিকা। হঠাৎ হাত-পা বেঁকে যায় কথার। চোখ উল্টে আসে।

কথার অস্বাভাবিকতা টের পেয়ে স্নিগ্ধর সম্বিৎ ফিরলো। তড়িৎ কথার ঠোঁট ছেড়ে হাঁপাতে থাকে। নিমিষেই কথা দেহের ভারসাম্য হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়ে স্নিগ্ধর বুকে। স্নিগ্ধ ধড়ফড় করে উঠে হেলে পড়তে চাওয়া কথাকে আঁকড়ে ধরে আলগোছে বুকে জড়িয়ে নেয়। হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে কথার অচেতন ফ্যাকাশে মুখটায়। আতঙ্কিত হয়ে একটা শুকনো ঢোক গিলে কথার গালে আলতো স্পর্শ করে কাঁপা গলায় ডাকে,

– কথা?

কিন্তু কথার কোনরূপ সাড়াশব্দ নেই। স্নিগ্ধর বুকটা ধ্বক করে উঠে। আতঙ্কে গলা শুকিয়ে আসে। এতক্ষণকার সমস্ত রাগ, অভিমান, উন্মাদনা মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল। জ্ঞানশূণ্য কথাকে পাঁজকোলা করে কক্ষের এক কোণায় থাকা ডিভানে সাবধানে শুইয়ে দেয়। কথার হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় দিশেহারা অবস্থা বেচারার। অস্থিরতায় শরীরের সাদা শার্ট ভিজে জবজবে। একটু আগে করা নিজের কাজের কথা মনে পড়তেই মনে মনে ভীষন অনুশোচনা বোধ জাগলো। কাঁপা হাতে কথার মুখে লেপটে থাকা এলোমেলো চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে দিল। কথা জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। হলদে ফর্সা মুখটা টকটকে লাললে হয়ে আছে। কপালে, থুতনিতে, নাকের ডগায় ঘাম কণা চিকচিক করছে। স্নিগ্ধ
কথার নিখুঁত মুখশ্রীতে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে গভীর সম্মোহনে!
মনে পড়ে এই মেয়েটার সাথে জড়ীত অতীতের কিছু সুখময় স্মৃতি!

অতীত…..

– এই সিমু?

ভাইয়ের ডাকে সিমরান ধড়ফড়িয়ে কান থেকে ফোনটা নামিয়ে নিল। আতঙ্কিত দৃষ্টিতে পেছনে তাকিয়ে দেখে স্নিগ্ধ দরজার ফাঁকে উঁকি মেরে তাকিয়ে আছে। সিমরান একটা ফাঁকা ঢোক গিলে আঁড়চোখে ফোনের দিকে তাকায়। এইরে ভাইয়া কিছু শুনে নেয়নি তো? মনের ভয় মনে লুকিয়ে ঠোঁটে মেকি হাসি ঝুলিয়ে সিমরান খানিক তুতলে বলে,

– হ্যাঁ ভাইয়া।

স্নিগ্ধ চারদিকে সতর্ক চাহনি ফেলে সিমরানের কক্ষে ঢোকে। ভাইকে দেখে সিমরান ফোনটা বালিশের তলায় লুকিয়ে ফেলে। মেকি হেসে শুধায়,

– কিছু বলবে ভাইয়া।

স্নিগ্ধ ঘাড়ে হাত ঘষে চারদিকে এলোমেলো দৃষ্টিতে তাকায়। সিমরান নিজের ভয় ভুলে যায় স্নিগ্ধর মুখ দেখে। এমা! তার ভাইয়া হঠাৎ ব্লাশ করছে কেন? ও অবাক স্বরে বলে,

– ভাইয়া কি হয়েছে?

স্নিগ্ধ সিমরানের দিকে তাকায়। দেখে মেয়েটা সরু দৃষ্টিতে ওকে দেখছে। স্নিগ্ধ ইতস্ততভাবে বললো,

– তোর কাছে কথার নাম্বার হবে?

সিমরান সহসা থমকে গেল। চোখ দুটো গোলগোল রসগোল্লার আকৃতির করে সহসা চিল্লিয়ে উঠে,

– কিহ?

স্নিগ্ধ ধড়ফড়িয়ে সিমরানের মুখ চেপে ধরে। চাপা স্বরে ফিসফিসিয়ে বলে,

– কি করছিস আবাল? মা-বাবা ড্রয়িংরুমে বসে আছে। আমাকে বাঁশ খাওয়াবি নাকি।

সিমরান বিস্ময় হজম করে কেটে কেটে শুধায়,

– তু..তুমি কথাকে পছন্দ করো?

বিপরীতে স্নিগ্ধ ঘাড় চুলকে মুচকি হেসে মাথা নাড়ায়। সিমরান বিড়বিড় করে বললো,

– তার মানে আমার সন্দেহটাই সঠিক। এরা দুজন গোপনে ইটিশপিটিশ করছে।

– কিরে আছে বলনা।

সিমরানের সম্বিৎ ফিরে। হঠাৎ মস্তিষ্কে একটা কুবুদ্ধি খেলো যায়। এবার ভাইয়াকে আচ্ছা মতো নাচানো যাবে। ইশ ভাবতেই সিমরান মনে মনে পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করছে।

– নাম্বার তো আছেই। আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম্বার আমার কাছে থাকবে না?

অমনি স্নিগ্ধর চোখ চকচক করে উঠে। তড়িঘড়ি করে পকেট থেকে সেল ফোনটা বের করে সিমরানের পাশে বসে বলে,

– তাড়াতাড়ি বল। মা এসে যাবে।

কিন্তু সিমরানের কোন হেলদোল নেই। স্নিগ্ধ তাড়া দিল,

– কিরে বল।

সিমরান বেশ ভাব নিয়ে বললো,

– বলব এক শর্তে।

স্নিগ্ধ অবাক হয়ে বললো,

– হোয়্যাট শর্ত?

– ইয়েস।

স্নিগ্ধ কপাল কুঁচকে শুধায়,

– কি শর্ত।

সিমরান রয়েসয়ে বললো,

– পিকনিকে তোমার ক্যামেরাটা নিয়ে যেতে দেবে? তাহলে কথার নাম্বার পাবে।

স্নিগ্ধ চোখ পাকিয়ে বলে,

– তুই জানিস না। ওটা আমার শখের ক্যামেরা। আমি ওটা কাউকে ছুঁতে অব্দি দেই না।

সিমরান হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে বলে,

– তাইতো ওটাই চাই।

এদিকে বালিশের তলায় সিমরানের ফোনটা লাগাতার ভাইব্রেট হচ্ছে। মনে হচ্ছে আজ ফোন না ধরা অব্দি ক্ষান্ত হবেনা অপর পাশের ব্যাক্তি।
সিমরান সেদিকে তাকিয়ে স্নিগ্ধকে তাড়া দিয়ে বললো,

– দেবে কিনা বলো? না দিলে কেটে পড়ো।

স্নিগ্ধ কয়েক মূহুর্ত ভেবে অবশেষে মুখ লটকে বললো,

– আচ্ছা দেব যা। কিন্তু আমার ক্যামেরার গায়ে যাতে একটা আঁচড় ও না লাগে।

– যথাআজ্ঞা।

– এবার নাম্বার টা বল।

– তুমি তোলো আমি বলছি।

– বাহ নাম্বার মুখস্থও করে নিয়েছিস।

– আমি আমার প্রিয় মানুষদের নাম্বার মুখস্থ করেই রাখি।

স্নিগ্ধ মুচকি হেসে নাম্বারটা তুলে ফোনে “স্নিগ্ধময়ী” নামে সেইভ করে নেয়।

– বাবুন তোর বন্ধু এসেছে রে?

সৌমি ব্যস্ত পায়ে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললেন।
সিমরান, স্নিগ্ধ দুজনেই আঁতকে উঠল। স্নিগ্ধ তড়িঘড়ি করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল। মাকে দেখতেই সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে সরল গলায় বললো,

– কে এসেছে মা?

– তোর বন্ধু মায়ান।

সিমরানের হৃদয় ছলকে উঠে। তড়িৎ গতিতে চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকায়। কানে ভুল শুনেছে কিনা নিশ্চিত হতে আরেকবার শুধায়,

– কো.কোন বন্ধু মা?

– আরে তোর ভাইয়ের বেস্ট ফ্রেন্ড মায়ান । স্নিগ্ধর সাথে খুলনায় এসেছিল যে আমাদের বাসায়।মনে নেই?

সিমরান মনে পড়ার ভান ধরে বললো,

– ওহ যার সাথে ভাই চিপকে থাকে। তার জানের জিগার।

– মায়ান সত্যি এসেছে।

বলতে বলতে স্নিগ্ধ চপল পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সৌমি শাহরিয়ার ওর পিছু পিছু যেতে যেতে বললেন,

– সিমরান মা আমার সাথে আয়। ছেলেটার জন্য ভালোমন্দ কিছু রান্না করতে হবে।

সিমরান বিছানায় ঠাঁয় বসে রইল। ওর মনে হচ্ছে ও ঘোরে আছে। ঘোরের মাঝেই বালিশের তলা থেকে ফোনটা বের করে স্ক্রিন অন করতেই ওর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল। স্ক্রিনে ভাসছে ‘My Heartbeat’ লেখা কলারের সাতাশটা মিসড কল। সিমরান শুকনো ঢোক গিলে বিরবিরায়,

– সিমরান আজ তুই শেষ৷

.

স্নিগ্ধ ড্রয়িং রুম এসে দেখে সোফায় বসে আছে মায়ান। মুখটা থমথমে। পরনে কোঁচকানো কালো টিশার্ট আর থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট। স্পষ্ট বোঝ যাচ্ছে বাসা থেকে সোজা এখানে চলে এসেছে। স্নিগ্ধর ললাটে গুটিকয়েক ভাঁজ পড়ে। মায়ানের বেশভূষা দেখে মনে হচ্ছে ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছে ছেলেটা। কিন্তু সকাল সকাল ওর কি এমন দরকার পড়লো যে বাসায় চলে আসতে হলো? স্নিগ্ধ অবাক হয়ে এগিয়ে আসে। মায়ানের বাসা এখান থেকে মাত্র বিশ মিনিট দূরত্বে। স্নিগ্ধ যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য এডমিশন নিয়েছিল তখন থেকেই পরিচয় মায়ানের সাথে। দুজন একই সাবজেক্টে গ্রাজুয়েশন করছে। সময়ের সাথে দু’জন দুজনের মধ্যে একটা ভালো বন্ডিং গড়ে উঠে। স্নিগ্ধ ফার্স্ট ইয়ারে যখন মেসে থাকতো তখন দু’বেলা নিয়ম করে মায়ান বন্ধুর জন্য নিজের বাসার খাবার নিয়ে যেত, কারণটা বন্ধু তার মেসের অখাদ্য গিলতে পারেনা। স্নিগ্ধ যখন এই অচেনা শহরে প্রথম পড়াশোনার পারপাসে আসে, সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই বন্ধুটিই ওর পাশে ঢাল হয়ে ছিল, আছে।

– কিরে তুই হঠাৎ?

মায়ান চোখ তুলে তাকায়।

– কেন তোর বাসায় আসতে পারিনা।

স্নিগ্ধ মায়ানের পাশে সোফায় ধপাস করে বসে ওর কাঁধ চাপড়ে বলে,

– দূর শালা সেটা কখন বললাম। চট্টগ্রাম শিফট হওয়ার পর কতবার বললাম বাসায় এসে ঘুরে যা। আসলিনা তাই বললাম।

– না চাইতেও আসতে হলো।

মায়ান চোয়াল শক্ত করে বললো। হঠাৎ নুপুরের রিনিঝিনি শব্দে মায়ান চকিতে মুখ ঘুরিয়ে তাকায়। সাদা আর আকাশী মিশেলের ফেনসি স্কার্ট পরা সিমরানকে দেখতেই মায়ানের মুখটায় শিথিলতা লক্ষ করা যায়। একটা স্বস্তির চাপা নিঃশ্বাস নির্গত হয়। সিমরান এক পলক সরাসরি মায়ানের চোখে তাকায়। ও তাকাতেই মায়ান চোখ পাকায়। দৃষ্টি যেন বলছে,
‘আজ দেখে নেব তোমায়।’ সিমরান ত্রস্ত চোখ নামিয়ে কিচেনের দিকে চলে গেল৷ মায়ানের পছন্দের চিকেন চাউমিনটা বানাবে এখন৷

সকাল দশটা প্রায়..

সবাই সকালের নাস্তা খেতে বসেছে টেবিলে। সৌমি শাহরিয়ার মায়ানের প্লেটে এটা সেটা বেড়ে দিচ্ছেন। সিমরান আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখে মায়ান সব ফেলে শুধু চাউমিনটাই খাচ্ছে। কারণ এটা একজন বিশেষ ব্যাক্তি তার জন্য বিশেষভাবে বানিয়েছে। সিমরান অগোচরে সলজ্জে মুচকি হাসে। মায়ান খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে বারবার আঁড়চোখে সিমরানকে দেখছে। হঠাৎ সিমরানের সাথে চোখাচোখি হতেই মায়ান চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করে।

– বাবা তুমি তো খিচুড়িটা ছুঁয়েও দেখলেনা।

– মনিমা। পেট ভরে গিয়েছে। আর খেতে পারবনা।

– সেকি অল্প কয়েক লোকমা খাও বাবা।

সৌমি শাহরিয়ারের অনুরোধ ফেলতে পারলনা মায়ান। ওনাকে মায়ান খুবই সম্মান করে। অগত্যা কয়েক লোকমা খিচুড়ি মাংসের ঝোলে মেখে খেয়ে উঠল মায়ান। সিমরান নিজেও তড়িঘড়ি করে পাতের খাবার শেষ করল। বাকি সবাই তখনো খাচ্ছে।

– আন্টি আমি হাতটা ধুয়ে আসি।

– যাও বাবা। সিমু যা তো মা। মায়ানকে ওয়াশরুমের বেসিনটা দেখিয়ে দে।

– আচ্ছা।

বেসিনটা বারান্দায় থাকায় এদিকে কাউকে দৃশ্যমান হয়না। মায়ান হাতটা ধুয়েই সিমরানকে অবাক করে দিয়ে ওকে দেয়ালে চেপে ধরে। সিমরান বিস্ময় আর ভয়ে সেখানেই জমে যায়। মুখ ফুটে কিছু উচ্চারণ করবে এর আগেই মায়ান দাঁত কপাটি চেপে বলে,

– তখন ফোনটা হঠাৎ কেটে দিলে কেন? এতগুলো কল দিলাম একটাও কল তুললেনা।

সিমরান করিডোরে ভয়ার্ত দৃষ্টি ফেলে বললো,

– আসলে ভাইয়া তখন রুমে চলে এসেছিল। তাই…

– এই শালা দেখি আমাকে শান্তিতে প্রেম করতে দেবেনা।

সিমরানের দু’গালে যেন কেউ লাল আবীর মেখে দিয়েছে, মুখটা অমন টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করলো। মায়ান সিমরানের রক্তিম মুখটায় আবিষ্ট নজরে চেয়ে বলে,

– এবার নিজেও প্রেমে পড়েছে। শালাকে এবার আমিও দেখে নেব।

বারান্দায় দরজার আড়ালে স্নিগ্ধ তখন বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ এমন একটা সত্য ওকে পুরোপুরি হতবাক করে দিয়েছে। তার বোন তারই বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে প্রেম করছে? এতবড় দুঃসাহস! ওর কি এখন এখন ইছড়েপাকা সিমরানের কান দুটো মলে দিয়ে মায়ানের পশ্চাৎদেশে কষিয়ে দুটে লাথি মারা উচিত না? হঠাৎ কানের কেউ যেন ফিসফিস করে বললো,

– তুইও তো বোনের বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে প্রেম করতে চাইছিস, তার বেলা? তোর পশ্চাৎপদে লাথি কে মারবে তাহলে?

আপনমনেই স্নিগ্ধ ভ্যাবাছ্যাঁকা খেয়ে উঠল। থতমত খেয়ে নীরবে জায়গা ত্যাগ করল। এখানে দাঁড়িয়ে বোন আর এই মীরজাফরের রোম্যান্স দেখা উচিত না। শত হোক ও বড় ভাই৷

চলমান…..

 

0 0 votes
Article Rating
Loading spinner
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x