Golpo:Ek Chilte Sukher Asha(04)

#এক_চিলতে_সুখের_আশা

পর্ব সংখ্যা [৪]

-”সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে ক্রমশ ঘন অন্ধকার নেমে আসে। জনমানবহীন পথগুলো যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর বাতাসের ফিসফিসানি ছাড়া আর কোনো শব্দ থাকে না।

এখন রাত প্রায় আটটা বেজে গেছে, ইশরাক বাসায় ফেরেনি। কুহেলির একা একা খুব ভয় লাগছে। তাই বারান্দায় এসে চুপচাপ বসে আছে। সামনেই একটি পরিত্যক্ত বাড়ির জানালার হালকা আলো ওর চোখে পড়ছে। অন্ধকার পথে সেই পুরনো বাড়ির দরজা আধখোলা, ভেতর থেকে আসা মৃদু আলো এক অদ্ভুত রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করেছে।

-“কৌতূহলবশত কেউ যদি দরজার কাছে যায়, সেখানে এক অস্বস্তিকর নীরবতা টের পাওয়া যায়। এই পরিবেশে একাকীত্বের অনুভূতি আর অজানা কিছুর উপস্থিতি মানুষকে আরও বেশি আতঙ্কিত করে তোলে।

কুহেলির ছোট্ট হৃদয়জুড়ে অজানা আতঙ্ক ভর করেছে। ওদের বিল্ডিং থেকে একটু দূরেই পুরনো সেই বাড়িটা, বারান্দায় বসলে স্পষ্ট দেখা যায়। বহু বছর ধরে ওই বাড়িতে কেউ থাকে না। রাতের বেলায় ওই রাস্তা দিয়ে তেমন কেউ যাতায়াতও করে না। তাই বাড়িটা কুহেলির কাছে ভীষণ রহস্যময় মনে হয়।

গতকাল রাতে কুহেলি কিছুক্ষণ চুপচাপ পর্যবেক্ষণ করেছিল। বাড়ির সামনের দিকে এক বৃদ্ধ লোককে হাঁটাচলা করতে দেখেছিল। কিছুক্ষণ পরই লোকটা যেন অন্ধকারের সঙ্গে মিলিয়ে গেল।

-“ভাঙাচোরা বাড়িতে কেউ থাকে না, অথচ লাইট জ্বলছে—জানালা ভেদ করে সেই আলোর ঝলকানি বাইরে আসছে। লাইটের আলোয় বৃদ্ধ লোকটার হালকা অবয়বও দেখা যাচ্ছিল।

“এখনও কুহেলি বারান্দায় বসে আনমনে বিষয়টা ভাবছিল। হঠাৎ শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠতেই দ্রুত পায়ে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।

বিছানায় বসে কুহেলি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে টাইম দেখছে, প্রহর গুনছে—ইশরাক কখন আসবে। মনে মনে ঠিক করেছে, একদিন ওই পরিত্যক্ত বাড়ির বিষয়ে ইশরাককে সরাসরি জিজ্ঞেস করবে।

‘সাড়ে আটটার দিকে কলিং বেল বাজতেই কুহেলি প্রফুল্লচিত্তে দরজা খুলে দিল। ইশরাক থমথমে ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু না বলে হনহনিয়ে জুতা নিয়ে ভিতরে ঢুকল এবং বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে পড়ল। কুহেলি ভীত চোখে এই দৃশ্য দেখে যেন থমকে গেল, মনে মনে ভাবল—হয়তো ক্লান্তি আছে, তাই এমন আচরণ করেছে। তাই কুহেলি আস্তে করে দরজা বন্ধ করে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ইশরাকের পায়ের জুতা খুলতে লাগল।

ইশরাক দ্রুতবেগে উঠে বসে চেঁচিয়ে উঠল, “আমি নিজের কাজ নিজেই করতে পারি। আপনার খেয়াল রাখার প্রয়োজন নেই।”এরপর নিজেই জুতা খুলতে লাগল। কুহেলি একপ্রকার কেঁপে উঠল। ইশরাকের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে, ইতস্তত বোধ নিয়ে ডাক্তার প্রশ্ন ছুঁড়ল,“আপনার কি হয়েছে?”

-‘ইশরাক কপাল কুঁচকে দাঁত চেপে বলল, “প্লিজ, আমায় একা থাকতে দিন। আপনি ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসুন। সবকিছু জাস্ট অসহ্য লাগছে।”

কুহেলি আর দাঁড়াতে পারল না, চুপচাপ সরে এসে সোফায় বসল। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আনমনে তাচ্ছিল্যর হাসি হেসে বলল, “কুহেলি, তোর কপালে প্রচুর দুঃখ আছে। সৎ মা এত বছর ধরে অভিশাপ দিয়েছে।

জীবনেও যেন কোথাও সুখ না পাস—বোধহয় সেটা মিলে গেছে। মানুষের দুর্ব্যবহার শোনার জন্যই হয়তো তোর জন্ম হয়েছে।”

‘কিছুক্ষণ পর কুহেলি পুনরায় রুমে এসে দেখল, ইশরাকের ডান হাতের আঙুল থেকে রক্ত ঝরছে। ফ্লোরে টপটপ ফোঁটা পড়ছে। দ্রুত কাছে গিয়ে রক্তমাখা হাতটি চেপে ধরে আহত দৃষ্টিতে ইশরাকের মুখের দিকে চোখ রাখল। রুমে ফ্যান চললেও ইশরাকের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। মন খারাপি ভুলে কুহেলি রক্ত থামানোর চেষ্টা করল।

টুথপেস্ট লাগানোর পর রক্তক্ষরণ বন্ধ হলো। এরপর ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসল, ধীরে ধীরে ইশরাকের হাত ডেসিং করে ব্যান্ডেজ লাগাতে লাগল। ইশরাক নিশ্চুপভাবে বসে দেখছে, কিছুই বলছে না।

‘কুহেলি সংকোচবোধ নিয়ে নড়েচড়ে প্রশ্ন করল,
রাগ করবেন না, প্লিজ! আপনি কী দুপুরে খাবার খেয়েছেন?”

ইশরাক প্রগাঢ় নজরে দৃষ্টি ফেরাল। নিশ্চুপ থেকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীকে দেখছে। চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। শুঁকনো ঢোক গিলে কুহেলি পুনঃ প্রশ্ন ছুঁড়ল, “দেখে তো মনে হচ্ছে আপনি খাবার খাননি, চেহারায় ক্লান্তির ভাবটা স্পষ্ট। আমি কী খাবার নিয়ে আসব?”

“ইশরাক মাথা নিচু করে হুহ শব্দটা উচ্চারণ করল।

কুহেলি দ্রুত রান্নাঘরে ঢুকে দশ মিনিটের মধ্যে খাবার নিয়ে হাজির। ইশরাকের পাশে দাঁড়িয়ে মৃদুস্বরে প্রশ্ন করল, “আপনার তো ডান হাত অনেকটা কেটে গেছে, আমি কী খাবার খাইয়ে দেব?”

-‘ইশরাক শুধু চেয়ে রইল। কুহেলি আর অপেক্ষা না করে দ্রুত হাত ধুয়ে ভাত মেখে ইশরাককে খাইয়ে দিতে শুরু করল। কুহেলির মন হালকা হয়ে গেল। আনমনে ভাবছে, হয়তো কিছু একটা অপ্রকাশিত ঘটেছে, নয়তো সকালে ফ্রেশ মুডে বের হয়ে, এসে এমন আচরণ করল কেন!

রাতের আকাশ গভীর কালো বা গাঢ় নীল, তারাগুলো এখন মিটমিট করে জ্বলছে। সূর্যাস্তের পর যখন সূর্য দিগন্তের নিচে চলে যায়, তখন পরিষ্কার আকাশে চাঁদ, তারা এবং অন্যান্য স্বর্গীয় বস্তু দৃশ্যমান হয়। বায়ু মণ্ডলের প্রতিসরণের কারণে তারা মৃদু ঝলমলে দেখায়।

‘ইশরাক বারান্দার গ্রিল ধরে আনমনে দাঁড়িয়ে আছে। বাসায় আসার পর কুহেলির সঙ্গে খারাপ আচরণ করার জন্য মনটা আকুপাকু করছে। কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু ইগো বাঁধা দিচ্ছে।

-”হঠাৎ ফোনের রিং বেজে উঠল। ইশরাক স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত নিয়ে কলটা রিসিভ করল। ফোনের অপর পাশ থেকে মোহিনীর কান্নাজড়িত কন্ঠস্বর ভেসে এলো,“ইশরাক, তুমি শান্তিতে ঘুমাচ্ছ আর আমার চোখে ঘুম নেই। নিশ্চয়ই ওই সল্পবয়সী মেয়েটা তোমার বুকে শুয়ে আছে?”

ইশরাক শান্ত ভঙ্গিতে বলল, “আমি এখনও তাকে স্পর্শ করিনি, ফ্লোরে ঘুমিয়ে আছে। মোহিনী, প্লিজ! আমাকে এসব থেকে মুক্তি দাও। তুমি তোমার মতো করে জীবনটা গুছিয়ে নাও। আমি তার সঙ্গে খুব অন্যায় করছি।”

-“মোহিনী এবার শব্দ করে হেসে ফেলল। এরপর গা-ছাড়া ভাব নিয়ে বলল, “এটা সম্ভব নয়, ইশরাক। তুমি আমার ছাড়া কারোর হবে না। ওই মেয়েকে আমি শুধু একবার দেখতে চাই—সে কত রূপবতী! যা দেখে তোমার মা ঘায়েল হয়ে গেছে। আমি তোমাকে না পেলে অন্য কাউকে এত সহজে পেতে দেব না।”

কুহেলি দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ইশরাকের সমস্ত কথাই শুনে ফেলল। এবার নিশ্চুপ হয়ে ফ্লোরে শুয়ে গভীর ভাবনায় মশগুল হলো। নিজেকে নিজে প্রশ্ন ছুঁড়ল, “দেয়ালের ফ্রেমে থাকা মহিলা তাহলে কী উনি?”

কিছুক্ষণ পর ইশরাক রুমে প্রবেশ করল। ফ্লোরে হাঁটু ভেঙে বসে মৃদুস্বরে কুহেলিকে ডাকল। কুহেলি চোখ খুলতেই ইশরাক অপরাধী স্বরে বলল, আসলে আমি দুঃখিত, আসার পর আপনার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছি। একটু পেরেশানিতে ছিলাম, দয়া করে আমার উপর কোনো ক্ষোভ রাখবেন না।”

কুহেলি স্লান হাসল, “সমস্যা নেই, আমি এসবে
অভ্যস্ত আছি। আপনার হাত কেটে গেছে কীভাবে?”

ইশরাক হালকা স্বরে জবাব দিল, ওয়াশরুমে পা
-”পিছলে পড়ে গিয়েছি, তখন কেটেছে—

“ইতস্তত বোধ নিয়ে ইশরাক পুনরায় নিচুস্বরে যোগ করল, “এভাবে ফ্লোরে ঘুমালে আপনার ঠান্ডা লাগবে। দয়া করে বিছানায় এসে ঘুমান, আর তাছাড়া বিষয়টা আম্মু জানলে খুব কষ্ট পাবে।”

-“কুহেলি উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানের দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি রেখে ক্লেশবোধ নিয়ে প্রত্যুত্তর করল, “আমি খাটে ঘুমালে আপনার অস্বস্তি ফিল হবে। আমার উপর এই বিষয়ে অন্তত করুনা দেখাবেন না। যেদিন আপনি মন থেকে আমাকে মেনে নেবেন, সেদিন আপনার বুকে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমাব। আর আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, শ্বাশুড়ি মা এই বিষয়ে কখনোই কিছু জানতে পারবেন না।”

ইশরাক এতক্ষন মনযোগ দিয়ে সব শুনেছে। কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পায়নি। চুপচাপ বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ঘুম আসছে না।

-‘একদিকে কুহেলি, অন্যদিকে মোহিনী—সব চিন্তা মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করছে। কি করবে তা বুঝতে পারছে না। মোহিনীর ভাবনায় থেকে বের হতে চায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি হৃদয়ে আঁকড়ে আছে, যেগুলো মস্তিষ্ক থেকে সরাতে পারছে না।

শরতের একটি সুন্দর সকাল। নির্মল নীল আকাশে শুভ্র মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, শিশিরভেজা গাছের পাতায় সূর্যের সোনালি আভা পড়েছে। চারদিকে শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে। রাস্তার পাশে শিউলি ফুল ফোটেছে, আর বিলের জলে সাদা শাপলা ভেসে চলেছে।

কুহেলি ফজরের নামাজ পড়ে গুনগুন করে কোরআন শরিফ তেলওয়াত করছে। ইশরাকের ঘুম ভেঙে গেছে; মুগ্ধ হয়ে মিষ্টি সুরের তেলওয়াত শুনছে। মনে হচ্ছে যেন কন্ঠে কোনো জাদু আছে—হৃদয়ে কম্পন ধরছে।

‘কিছুক্ষণ পর কুহেলি উঠে ইশরাকের সমস্ত শরীরে ফুঁক দিচ্ছে, তারপর দুই পায়ে চুম্বন করছে। ইশরাক স্তব্ধ হয়ে চোখ বন্ধ রেখেছে, মনে মনে ভাবছে—ছোট্ট কুহেলির সমস্ত হৃদয় জুড়ে শুধু আমি, অথচ আমি এখনও মরিচিকার পিছনে পড়ে আছি। এসব থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে হবে।

-”ইশরাক ঘুম থেকে উঠে, গোসল করে ফ্রেশ হচ্ছে। কুহেলি সকাল আটটার মধ্যে নাস্তা রেডি করে রুমে এসেছে। বিছানা গুছিয়ে আলমারি খুলে ইশরাকের শার্ট, প্যান্ট বের করে রেখে রুম ঝাড় দিচ্ছে। দ্রুত হাতে কাজ গুছিয়ে নাস্তা নিয়ে পুনরায় রুমে হাজির।

ইশরাক রেডি হতে হতে বলল, “আজকে ঘুম থেকে খুন উঠতে লেট করে ফেলেছি। এখন নাস্তা খাব না, তাহলে আমার দেরি হয়ে যাবে। আপনি খেয়ে নিন।”

-“কুহেলি কিছু না ভেবে ইশরাকের মুখের সামনে খাবার বাড়িয়ে দিল। এরপর মিনমিন করে বলল, “আপনি রেডি হন, আমি খাইয়ে দিচ্ছি। না খেয়ে গেলে আমার খেতে ইচ্ছে হবে না।”

“ইশরাক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে খাবার মুখে তুলে নিল। পনেরো মিনিটের মধ্যে সব কিছু গুছিয়ে দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছে। কুহেলি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ইতস্তত বোধ নিয়ে প্রশ্ন করল,“আজ বাসায় একটু তাড়াতাড়ি আসবেন? আমার রাতে একা থাকতে খুব ভয় লাগে।”

ইশরাক মাথা নাড়িয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে চলে গেল। কুহেলি দরজা বন্ধ করে খাবার খেয়ে নিল, তারপর কাজে লেগে পড়ল।

‘বিষণ্ন সন্ধ্যার অনুভূতি চারপাশে বিরাজ করছে—একাকিত্ব, নীরবতা এবং বিষাদের ছাপ স্পষ্ট। শূন্য পরিবেশ মনকে আরও ভারাক্রান্ত করে তোলে।

প্রিয়জনদের কথা মনে পড়ে, জীবনে এক অতল স্পর্শ অনুভূত হয়। প্রকৃতি এই সময় বিষাদময় রূপ ধারণ করে—শরতের শীতল বাতাস, রাতের আগমনের প্রস্তুতি সবকিছুকে আরও গভীর করে তোলে।

কুহেলির গা কাঁপছে; জ্বর এসেছে। দুপুর থেকেই শরীর খারাপ হওয়ায় খাবার খায়নি। ফ্লোরে একটি পাতলা কাঁথা বিছিয়ে শুয়ে আছে, ইশরাকের জন্য অপেক্ষা করছে। এখনো মানুষটার আসার নাম গন্ধ নেই।

-“চারপাশে বিভিন্ন ধরনের পাখির ডাক এবং সঙ্গে বাতাসের শোঁ-শোঁ আওয়াজ পরিবেশকে ভয়ংকর রূপ দিচ্ছে। এত বড় বাসায় একা একা থাকা কুহেলির ভীত মনে শঙ্কা জাগাচ্ছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। অধীর আগ্রহে ইশরাকের আসার অপেক্ষায় আছে।

ইশরাক হসপিটাল থেকে বেরিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে আসছিল, কিন্তু হঠাৎ খবর পেল মোহিনী এক্সিডেন্ট করেছে। স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি আছে।

-“ইশরাক সময় নষ্ট না করে, মোহিনীকে দেখার আকুলতা নিয়ে দ্রুত হসপিটালে ছুটে গেল। এখন রাত প্রায় দশটা, ইশরাক কেবিনে বসে আছে। মোহিনী ন্যাকা কান্না করছে, চোখের জলে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বলছে,“ ইশরাক আমি তোমাকে না পেলে আবারও সুইসাইড করব। এ যাত্রায় বেঁচে গেছি ঠিকই, কিন্তু পরবর্তী বার আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।”

-“ইশরাক শুনে ঘাবড়ে গেছে, চিন্তিত ভঙ্গিতে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। সারাদিন হসপিটালের কাজের ক্লান্তি থাকলেও মোহিনীর টেনশনে শরীর আরও খারাপ লাগছে। ঘড়িতে টাইম দেখে দ্রুত গতিতে বাসার উদ্দেশ্যে চলে এসেছে।

মোহিনী কেবিনে শুয়ে শুয়ে আপেল খাচ্ছে এবং হেসে কুটিকুটি করছে। নিজের হাসবেন্ডকে ভিডিও কল করে আজকের বিষয়টি সম্পূর্ণ জানাল—“জান, আজ একটু বেশিই নাটক করে ফেলেছি, আমার দ্বারা আর সম্ভব হচ্ছে না।”

“ফোনের অপর পাশ থেকে হাস্যোজ্জ্বল কন্ঠস্বর ভেসে এলো,“বেবি আর একটু ম্যানেজ করো প্লিজ! যেভাবে হোক পাঁচ লাখ টাকা ম্যানেজ করো। তারপর আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে দিব। এই মালটা প্রচুর টাকাওয়ালা, একে তুমি সহজেই গলাতে পারবে। যা তিন বছর ধরে করে আসছ, সেটা না হয় আরও ছয় মাস করবে।”

-“মোহিনী শয়তানি হাসি হাসল,“আচ্ছা, তুমি যা বলবে তাই হবে। ইশরাককে আমি এত সহজে ছাড়ছি না বেবি। আজ দুর্ঘটনা বসত এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। ইশরাকের সামনে বিষয়টা এমনভাবে তুলে ধরেছি, ভেবেছে আমি ওকে পাওয়ার জন্য সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম।”

“ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জবাব এলো, ওকে, বাবু সোনা! হসপিটালে আজ রাতটা থাকো। আগামীকাল বাসায় চলে যেও। আর নিজের খেয়াল রেখো। আমি একটু ব্যস্ত, পরে আবার কল করছি।”

মোহিনী কল বিচ্ছিন্ন করে মনের সুখে গান গাইছে এবং ভাবছে, কিভাবে ইশরাকের থেকে টাকা হাতানো যায়।

-” পরবর্তী অংশ নিয়ে খুব শীঘ্রই আসব….

Loading spinner

Leave a Comment