কলমেঃআফসানা শোভা
পর্ব:০৬
[অতীত]
– কথা আপু, এই কথা আপু।
ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ দুটো বহু কষ্টে মেলে তাকায় কথা। কয়েকবার পলক ঝাপটিয়ে ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখে ওর চাচাতো বোন মৈথি ওর দিকে ঝুঁকে আছে। কথা কয়েকবার পলক ঝাপটাতেই মৈথির মুখটা চোখের সামনে স্পষ্ট হলো। মেয়েটা বত্রিশ দাঁত কপাটি বের করে হাসছে। সদ্য কাঁচা ঘুমটা এভাবে ভেঙে দেওয়ায় কথার মাথাটা দপ করে জ্বলে উঠে। নিজের পাশে দাঁত কেলিয়ে বসে থাকা মৈথিকে সজোরে ধাক্কা দিল। ঘটনার আকস্মিকতায় মৈথি ধপাস করে মেঝেতে চিৎ হয়ে বসে পড়ে। ব্যাথা পেলেও মেয়েটা পাত্তা দিলনা। বরং পূর্বের ন্যায় দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো,
– আপু জানো পাশের বাড়িতে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে।
কথা হাই তুলতেে তুলতে ভাবলেশহীন গলায় বলে,
– তো।
মৈথি লাজুক হেসে চাপা স্বরে বললো,
– তাদের সাথে ইয়া লম্বা ফর্সা দেখতে একটা ছেলেও এসেছে। তুমি বিশ্বাস করবেনা কি মারাত্মক কিউট দেখতে ছেলেটা। একদম কোরিয়ান ড্রামার নায়কদের মতো।
বলতে বলতে মৈথির গালদুটো পাকা টমেটোর মতো ধারণ করল। কথা দাঁত খিচে তাকায় সম্মুখের ইঁচড়েপাকা চৌদ্দবছর বয়সী মেয়েটার পানে। সবে ক্লাস সেভেনে পড়ছে আর দেখো এই বয়সেই পেকে বসে আছে। কথা মৈথির কান মলে দিয়ে দাঁত খিচে বললো,
– চাচুর কাছে বলব নাকি তার মেয়ে পাশের বাসার ভাড়াটিয়া দেখে ক্রাশ খায়?
মৈথি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে কথার পানে তাকিয়ে ধড়ফড়িয়ে বললো,
– এই না না কথা আপু প্লিজ। তুমি তো জানো বাবা এসব জানলে আমাকে খুন করে ফেলবে।
কথা ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। তার বাবা-চাচারা খুবই কনজার্ভেটিভ মাইন্ডের। এ বাড়ির মেয়ে-বৌদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। কথা, মৈথি, মৈত্রী এই বাড়ির তিন মেয়ে। মৈত্রী আর মৈথি ছোট চাচার মেয়ে। কথার বাবা চেয়ারম্যান অহিদুল হকের এক ছেলে এক মেয়ে। অভিক আর কথা।
প্রেমঘটিত কোন কিছু এই বাড়িতে ঘটা প্রায় অসম্ভব। একজন চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাকে এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। মৈত্রী আপুর সাথে যা যা হয়েছে তা এখনো চোখে ভাসে কথার। সেই বিভৎস পরিণতি মনে করে কথা ভয়ে সবসময় স্কুল-কলেজে সবসময় ছেলেদের এড়িয়ে চলেছে। কিন্তু বয়সের দোষে মৈথির কথায় হঠাৎ উড়ে আসা ছেলেটাকে দেখার ভীষণ লোভ হলো কথার। নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারলো না। রয়েসয়ে মৈথিকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– যাতো মৈথি। আমার জন্য এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে আয়।
– আমি?
– এখানে তুই ছাড়া আর কোন গোরু আছে? যাহ জলদি নাহলে কিন্তু চাচ্চুকে বলে দেব তার মেয়ের ক্রাশ খেয়ে খাট থেকে উল্টে পড়ার গল্প।
মৈথি মুখ গোমড়া করে বললো,
– যাচ্ছিতো এভাবে ভয় দেখাচ্ছ কেন? দিন আমারও আসবে হু।
এই বলে মৈথি ধুপধাপ শব্দ করে রুম ত্যাগ করল। মৈথি চলে যেতেই কথা লাফিয়ে খাট থেকে নামল। পা টিপে টিপে বারান্দায় এসে রেলিং আঁকড়ে আলগোছে নিচে উঁকি মারে। নিচে তাকাতেই কথার চোখদুটো রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে যায়। মৈথি দেখি এমনি এমনি বাঁশ থুক্কু ক্রাশ খায়নি। এই ব্যাটা দেখি শারুখ খানের মতো দেখতে। প্রভাতের প্রথম কিরণ তখন ঠিকড়ে পড়ছে লম্বাচওড়া যুবকটার ফর্সা মুখে। সূর্যের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্বলজ্বল করছে তার কালচে বাদামী চোখের মনিদুটো! হ্যাংলাপাতলা শরীরটায় একটা কালো ডেনিম শার্ট আর কালো জিন্স। ঘামে জবজবে হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মালবাহী ট্রাক থেকে মালপত্র নামাতে সাথে আসা লোকদের তাড়া দিচ্ছে। পাশে ওই বাড়ির করিম চাচা দাঁড়িয়ে। বয়স বোঝা যাচ্ছেনা। ছেলেটাকে আপাদমস্তক দেখতেই অষ্টাদশী কথার চোখেমুখে মুগ্ধতার মৃদু আবহ ছড়িয়ে পড়ল। লজ্জালু হেসে কানের পিছে চুল গুঁজে ফের ছেলেটার দিকে তাকাল। তার অসম্ভব সুন্দর চেহারাখানায় পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরখ করার মাঝেই দৈবাৎ ছেলেটা চোখ তুলে সোজাসুজি কথার বারান্দায় তাকাল। স্নিগ্ধ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল আলুথালু বেশে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঝুঁকে তাকেই দেখছে একটা সতেরো-আঠেরো বয়সের কিশোরী মেয়ে। পরনে হ্যালো কিটির ছাপাওয়ালা স্লিপিং পাজামা সেট। মেয়েটার ফোলা ফোলা গাল দুটো ঈষৎ রক্তিম। যেন ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে স্নিগ্ধকে দেখে। সূর্যের আলোয় চিকচিক করে দ্যুতি ছড়াচ্ছে মেয়েটার সোনারাঙা পেলব সুশ্রী মুখটা। মৃদুমন্দ হাওয়ার দোলায় এলোমেলো লম্বা চুলগুলো উড়ে এসে বারবার আছড়ে পড়ছে মেয়েটার শুভ্র মুখে। পাতলা ফিনফিনে গোলাপি অধরে তার লাজুক হাসির ছটা। এই বয়সী মেয়েদের হাবভাব স্নিগ্ধর জানা। তবুও কেন জানি মেয়েটার ঢলঢলে পেলব মুখটা থেকে চোখ সরিয়ে নিতে যেয়েও পারলনা।
– এই কথা নে তোর কফি, বাচ্চা মেয়েটাকে কেন কফি বানাতে পাঠালি?
মায়ের দারাজ গলা শুনে কথার কলিজা ছলকে উঠে। এইরে মা যদি দেখে ও ঘুম থেকে উঠে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেপেলে দেখছে তাহলে আজ খুন্তির বারি সব পিঠে পড়বে। আরেকপলক ছেলেটাকে দেখে নিয়ে কথা তড়িঘড়ি করে রুমে ঢুকে যায়।
– মাম্মা আজকে গপ্প চোনাবে না?
স্নিগ্বতার আর আধো আধো স্বরে অতীত থেকে বাস্তবে ছিটকে পড়ে কথা। হকচকিয়ে চারদিকে তাকিয়ে দেখে ও বারান্দায় বসে আছে। সামনে আধ খাওয়া কফির কাপ। কফিটা ততক্ষণে ঠান্ডা হয়ে সরবতে পরিণত হয়েছে। স্নিগ্ধতা ওর কোলে চড়ে বসে ড্যাবড্যাব করে মাম্মার অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কথা মেয়েকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ঘরে ফিরে দেয়াল ঘড়িয়ে সময় দেখে রাত দশটা প্রায়। স্নিগ্ধতার ঘুমের সময় রাত নয়টার পরেই। কথা মেয়কে বিছানায় বসিয়ে গায়ের জামাটা খুলে পুরো শরীরে বেবি পাউডার মেখে দিল। তারপর রাতের ফতুয়া, প্যান্ট পরিয়ে দিয়ে বললো,
– এসো মা ঘুমাবে। মাম্মা গল্প শোনাব৷
স্নিগ্ধতা বাধ্য বাচ্চাটি হয়ে মায়ের বুকের কাছে বিড়ালের মতো ঘাপটি মেরে শুয়ে পড়ল। একহাত আর একপা কথার গায়ে তুলে চকচকে চোখে তাকিয়ে বললো,
– চোনাও গপ্প মাম্মাম।
কথা মুচকি হেসে মেয়ের ফোলা আদুরে খরগোশের মতো নরম গালে দুটো চুমু খেল। তারপর একটা রূপকথার গল্প শোনাতে লাগল। কিছুক্ষণের মাঝেই স্নিগ্ধতার চোখের পাতা ভারী হওয়া শুরু করল। তারপর ধীরে ধীরে ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ দুটো বুজে নিল। মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে নিশ্চিত হতেই কথা ঠোঁট এলিয়ে হাসল। মেয়েকে সোজা করে শুইয়ে দিয়ে নিজেও চোখ বোজার চেষ্টা চালাল। কিন্তু অবাধ্য চোখ দুটিতে ঘুম নামলনা। মেয়েটা সন্ধ্যায় ফারহার বাসায় ছিল। তাই সেই সময়টায় বারান্দায় বসে খানিক ঝিমুনি এসে গিয়েছিল। আর তাতেই হানা দিল অতীতের স্মৃতি। কথা বিছানা ছেড়ে নেমে আবার বারান্দায় গিয়ে বসে। আজ রাতে আর ওর ঘুম আসবেনা। এমনিতেও বহু বছর ও রাতে তেমন ঘুমায়না। এই ছাড়া ছাড়া সামান্য ঘুম হয়। প্রায়শই এই জন্য ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাতে হয়। একটা দীর্ঘশ্বাস কথা আনমনে হারিয়ে যায় অতীতের অধ্যায়ে।
কথার মস্তিষ্কে ফের একবার ছবির মতো আজ নয়/দশ বছর আগের স্নিগ্ধর সাথে প্রথম দেখার দিনটি ভেসে ওঠে।
অতীত….
– আপু বাবা আর জেঠু দেখলে আমাদের দু’জনকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেবে।
– চুপ ক্রাশ খাওয়ার সময় মনে ছিলনা বাবা-জেঠুর কথা। এখন তোর ক্রাশের উপর আমিও ক্রাশ খেয়ে বসে আছি, কিছু করার নেই।
কথা পাশের করিম ব্যাপারীর বাড়ির আঙিনায় বড় কাঁঠাল গাছটার পেছনে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি মারছিল। পাশে মৈথি দাঁড়িয়ে ভয়ে নখ খুঁটছে। বোনের কান্ডকারখানা ওর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষণে ক্ষণে কিউট ছেলেদের উপর ক্রাশ খেলেও কথাকে কখনো এসবে আগ্রহী হতে দেখেনি। কিন্তু এই ছেলেটাকে দেখেই তার বোন ভয়ডর সব ভুলে লায়লি কেন হয়ে গেল বুঝতে পারছেনা।
স্নিগ্ধ সবে বাজার থেকে ফিরেছে। সাথে তার বাবা নীলয় চৌধুরী। পেশায় একজন শিক্ষক। বাবা-ছেলে দু’জনের হাতেই বোঝাই করা দুটো বড় বড় চটের ব্যাগ। করিম ব্যাপারির গেইট দিয়ে ঢোকার সময় কি মনে করে স্নিগ্ধ পাশের রাজপ্রাসাদের ন্যায় বাড়িটায় তাকাল। নেইম-প্লেটে খোদাই করা “হক মঞ্জিল”। বাবার কাছে শুনেছে এটা এই এলাকার চেয়ারম্যান জনাব অহিদুল হকের বাড়ি। বেশ দাপট এই এলাকায় হকদের। স্নিগ্ধ একপলক চোখ তুলে সরাসরি বাড়িটার দোতলার বারান্দায় তাকাল। বারান্দায় মেয়েটাকে দেখতে না পেয়ে খানিক আশাহত হলো স্নিগ্ধ। পরক্ষণেই নিজের ভাবনার উপর নিজেই অবাক হয়ে গেল। আজিব ও এসব কি ভাবছে?
– আব্বু ওখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন? তাড়াতাড়ি আসো। তোমার আম্মুর আবার রান্না বসাতে হবে।
ক্ষীণ শ্বাস ছেড়ে স্নিগ্ধ মাথাটা কয়েকবার ঝাঁকিয়ে করিম ব্যাপারীর লোহার ঝং ধরা গেইটা ঠেলে ঢুকল। নীলয় শাহরিয়ার ততক্ষণে উপরে চলে গিয়েছেন।
স্নিগ্ধ বাড়িটার চারদিকে চোখ বুলিয়ে হাঁটছিল, হঠাৎ ওর চোখ যায় অদূরে মোটা কাঁঠাল গাছটার আড়ালে অদ্ভুত কিছুর উপর। কৌতুহলে স্নিগ্ধ ভ্রু কুঁচকে সেদিকে পিলপিল পায়ে এগিয়ে যায়। কথা আর মৈথি তখনো চুপচাপ উঁকিঝুঁকি মারছিল। কিন্তু অনেকক্ষণ অব্দি দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত মানুষটার দেখা না পেয়ে কথা হতাশ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে,
– ইশ এই ঠাডা পড়া গরমে দাঁড়িয়ে রইলাম কিন্তু বন্ধু তোমার দেখা পাইলাম না। চলরে মৈথি।
এই বলে সামনে আগাতেই একটা পিলারের মতো কিছুর সাথে ধাক্কা খেল কথা। ঘটনার আকস্মিকতায় কথা পেছনে হেলে পড়ল মৈথির উপর। বেচারি মৈথি হঠাৎ আক্রমণে ধপাস করে উল্টে পড়ে গেল। সহসা কোমর আঁকড়ে আর্তনাদ করে উঠে,
– ওমাগো আমার কোমর ভেঙে গেল!
মৈথির ব্যাথাতুর চিৎকারেও কথার মাঝে কোন হেলদোল দেখা গেলনা৷ ও দিন দুনিয়া ভুলে ড্যাবড্যাব করে সম্মুখের দন্ডায়মান অত্যন্ত সৌম্যদর্শন দেখতে যুবকটার পানে চেয়ে রইল। সকালের ফোলা ফোলা বাচ্চা চেহারার মেয়েটাকে এত কাছ থেকে দেখে স্নিগ্ধ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দৃষ্টি আনমনেই মেয়েটার সারা মুখে কয়েকবার ঘুরে বেড়াল। ভাসা ভাসা টলটলে হরিণী চোখদুটো প্রকটভাবে চেয়ে আছে তার দিকে , চেরির মতো রক্তাভ ফিনফিনে পাতলা অধর যুগল সামান্য কাঁপছে। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতেই স্নিগ্ধ একটা শুকনো ঢোক গিলে। এদিকে পরিস্থিতি, পরিবেশ ভুলে ওরা হা করে দুজন দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছে। কথা স্নিগ্ধর কালচে ব্রাউন চোখদুটোতে ডুবে ছিল।
মৈথির মৃদু কাতরানোর আওয়াজ কর্ণপাত হতেই কথা ছিটকে সরে গেল। নার্ভাসনেসে বোকা বোকা হেসে বললো,
– ওই দেখতে এসেছিলাম কাঁঠাল পেকেছে কিনা।
সিগ্ধ হতবাক দৃষ্টিতে একবার কাঁঠাল গাছটায় তাকাল। মৈথিকে নিচ থেকে তুলে কথা চপল পায়ে স্নিগ্ধর সামনে থেকে কেটে পড়ল। স্নিগ্ধ তখনও হতবাক চোখে ওদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল। হাঁটার হাঁটার তালে কথার লম্বা বেণিটা দুপাশে দুলছে। নিমিষে বাড়ির গেইট দিয়ে হারিয়ে গেল কথার অবয়ব।
অতীতের সেই দৃশ্যটা স্মরণ হতেই কথা শব্দ করে হেসে উঠল। পরপর সেই হাসি মিলিয়ে গিয়ে ঠোঁটে ভর করল বিষন্নতা। কথা বিরস চোখে চেয়ে থাকে রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারের পানে। চারদিকে শুনশান নীরবতা, কেবল থেকে থেকে রাতপোকার ঝিম ধরা আওয়াজ ভেসে আসছে। কথা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা এলিয়ে দেয়।
অতীতের স্মৃতিগুলো যতটা না মধুর তারচেয়ে হাজার গুণ বেশি ভয়াবহ আর যন্ত্রণাদায়ক। কথা কখনো সাহস করেনা ওই স্মৃতি গুলো মনে করার। কিন্তু ইদানিং কেন যেন স্মৃতি গুলো আপনাআপনি কথার মানসপটে ভেসে উঠে। স্পষ্ট হয় জীবনে প্রথম প্রেমে পড়ার দিন আর প্রেমিক পুরুষের মুখটা। যেই কোমল মুখটা একসময় ওকে প্রশান্তি দিত এখন সেই কোমল মুখটা কঠোরতার আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। সেই মুখটায় কথা এখন আর কোন আবেগ খুঁজে পায়না।
★
– ভাইয়া এখনো ঘুমাওনি?
সিমরান ধীর পায়ে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো। স্নিগ্ধ ব্যস্ত ভঙ্গিতে হাতের আধখাওয়া সিগারেটটা দূরে ছুঁড়ে মারল। বারান্দায় পা রাখতেই সিগারেটের উটকো গন্ধে সিমরানের গা গুলিয়ে উঠল। কপট রাগ দেখিয়ে বললো,
– তুমি রাত জেগে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলে?
স্নিগ্ধ আমতা আমতা করে বললো,
– ওই একটু…
বলার মতো আর কিছু খুঁজে পেলনা স্নিগ্ধ। সিমরান বিষন্ন দৃষ্টিতে নিজের ভগ্নপ্রায় ভাইয়ের মুখে চেয়ে রইল। কাউকে কিভাবে বোঝাবে নিজের সবচেয়ে ভরসার আর ভালবাসার ভাইটাকে তিলে তিলে শেষ হতে দেখা সিমরানের কাছে মরণ সমতুল্য। কিন্তু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায় নেই। সিমরান ওই দিনটাকে এখনো ঘৃণা করে যেই দিন ওদেরকে ওই নিকৃষ্টতর জায়গায়টায় টেনে নিয়ে গিয়েছিল।
না অনেক হয়েছে। এবার ওকে যেভাবেই হোক তার ভাইয়ের জীবনটা গুছিয়ে দিতে হবে। এখন একজন বিশ্বস্ত সঙ্গীই পারবে তার ভাইয়ের একাকীত্ব আর হতাশা কাটাতে। বুক ভরে শ্বাস টেনে সিমরান হঠাৎ করে প্রশ্ন করে বসলো,
– ভাইয়া? নোভা আপুকে তোমার কেমন লাগে?
চলমান…….