কলমেঃআফসানা শোভা
পর্ব :০৭
– মানে? নোভাকে কেমন লাগে সেটা আমি কেন বলব?
পানির বোতলের ছিপি খুলে ভ্রু কুঁচকে বললো স্নিগ্ধ। তারপর বারান্দায় রাখা সিঙ্গেল কাউচে গা এলিয়ে দিল। সিমরান সন্তর্পণে ভাইয়ের পাশে বসে। জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বড্ড সাহস করে বললো,
– ভাইয়া মা নোভাকে তোমার জন্য পছন্দ করেছেন।
স্নিগ্ধ সবে সামান্য পানি মুখে নিয়েছিল সিমরানের কথায় বিষম খেয়ে কেশে উঠল। সিমরান ব্যতিব্যস্ত হয়ে ভাইয়ের বুক, পিঠে হাত বোলালো,
– ভাইয়া ঠিক আছ তুমি?
স্নিগ্ধ নিজেকে ধাতস্থ করে থমথমে মুখে বললো,
– নোভাকে পছন্দ করেছে মানে? কেন পছন্দ করেছে?
সিমরান ভাইয়ের রাশভারী গলায় খানিক ভীত হলো। আমতা আমতা করে বললো,
– ভাইয়া এভাবে আর কতদিন একা থাকবে? বিয়েটা এ….
– সিমু ঘরে যা।
– কিন্তু ভাইয়া।
– তোকে ঘরে যেতে বলেছি আমি।
অগত্যা সিমরানকে উঠতে হলো। ওর আগেই ধারণা ছিল ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া কিছুটা এমনই হবে। এত সহজে তাকে বিয়েতে রাজি করানো যাবেনা। ফুফিরা তো কম চেষ্টা করেননি এত বছর। কিন্তু এভাবে আর কতদিন! না, এবার সিমরানকেই এমন কিছু একটা করতে হবে, যাতে ভাইয়াকে বিয়েতে রাজি হতেই হয়।
সিমরান যেতেই একটা গভীর নিঃশ্বাস ছেড়ে কাউচে মাথা এলিয়ে দেয় স্নিগ্ধ। হঠাৎ করেই বদ্ধ চোখের, ফাঁকা মস্তিষ্কে ভেসে উঠে অতীতের কিছু স্মৃতি। যেই স্মৃতি গুলো ওর একাকী রাতের সঙ্গী!
অতীত…..
– আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
দরজার সামনে দু’জন অচেনা সুন্দরী যুবতী মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মিসেস সৌমি শাহরিয়ার খানিক বিস্মিত হলেন। কালই এই বাড়িতে উঠেছেন তারা। তাই কাউকে এখনো তেমনভাবে চিনেন না। তিনি মিহি গলায় শুধালেন,
– ওয়ালাইকুমুস সালাম। তোমরা কে মা?
সামনে দাঁড়ানো মধ্যবয়সী রূপসী নারীটিকে দেখে এক মুহুর্তের জন্য কথা মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইল। এই বয়সেই এত লাবণ্যময়ী এই নারী, তাহলে যৌবনকালে কেমন দেখতে ছিলেন তিনি? কথা মেয়ে হয়েও ওনার মুখ থেকে চোখ ফেরাতে পারছেনা। এই জন্যই বুঝি সে এত কিউট দেখতে হয়েছে! ভাবতেই কথা নিজের মনে নিজেই লজ্জা পেল। মৃদুস্বরে বললো,
– আমি অনন্যা হক আন্টি। ডাকনাম কথা। আর ও আমার চাচাতো বোন মৈথি। আমরা আপনাদের পাশের বাড়ির মেয়ে।
সৌমি খানিক অবাক হলেন। পাশের বাড়ি তো শুনেছিল এই এরিয়ার চেয়ারম্যান অহিদুল হকের বাড়ি। তিনি দ্বিধান্বিত কন্ঠে বললেন,
– তোমরা চেয়ারম্যান সাহেবের কি হও মা।
– উনি আমার বাবা আন্টি।
তারপর ইতস্তত কন্ঠে বললো,
– আম্মু তালের শাসের পায়েস বানিয়েছিল, আপনাদের জন্য পাঠালেন।
কথার হাতে একটা বড়সড় টিফিন ক্যারিয়ার।
সৌমি শাহরিয়ার ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলেন। মানুষগুলো কত অমায়িক। চেনেনা, জানেনা অথচ নিজের হাতের রান্না করে খাবার পাঠিয়েছেন তাদের জনঢ়। অথচ তিনি জানেন না স্নিগ্ধকে একপলক দেখার জন্য কথা পায়েসের ছুতোয় এখানে চলে এসেছে।
– এসো মা ভেতরে আসো।
কথা দুরুদুরু বুকে ঘরে ঢুকলো। চোখ ঘুরিয়ে চারদিকে তাকিয়ে দেখে একদিনেই গোটা বাসাটা সুন্দর ভাবে গুছিয়ে নিয়েছেন ওনারা। চারদিকে শৌখিনতার ছোঁয়া। ড্রয়িং রুমের মাঝ বরাবর দেয়ালে একটা ফ্যামিলি ফটোফ্রেম টাঙানো। সৌমি শাহরিয়ারের সাথে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে ওই কিউট ছেলেটা, কিন্তু এখনকার চেয়ে বয়সে আরেকটু ছোট মনে হচ্ছে। হয়তো পনেরো-ষোল বছরের হবে। সাথে ছেলেটার আদলের একজন ভদ্রলোক। ভদ্রলোকের সামনে দশ-এগারো বছর বয়সী একটা বাচ্চা মেয়ে।
– সিমু, দেখ মা কে এসেছে।
সৌমি গলা চড়িয়ে সিমু নামের কাউকে ডাকলেন।
ক্ষণকাল ব্যয়ে কোণার দিকের একটা রুম থেকে একটা মেয়ে ঘুম ঘুম চোখে বেরিয়ে আসে। মেয়েটার পরনে ঢিলেঢালা টিশার্ট আর প্লাজো। কথা মেয়েটার আগাগোড়া চোখ বুলিয়ে আবিষ্কার করলো মেয়েটা তার সময় বয়সীই হবে। মেয়েটা কি সুন্দর বাসায় টিশার্ট, প্লাজো পরে ঘুরছে। আর এদিকে ও এগুলো পরতে গেলেই তার আম্মুর হাতের ঠাস ঠাস খুন্তির বারি পিঠে পড়ে। আসল কারণ তার মহামান্য বাবা। তিনি
মেয়েদের ছেলেদের মতো পোশাক পরা পছন্দ করেন না।
– তুমি কে সুন্দরী?
কথার ভাবনার মাঝেই মেয়েটা হঠাৎ মুচকি হেসে বলে উঠল। কথা অবাক হয়ে যায় প্রথমে। খানিক ধাতস্থ হয়ে বললো,
– আমি কথা। পাশের বাড়ির।
মেয়েটা হঠাৎ কথা আর মৈথির হাত টেনে সোফায় বসিয়ে দিল। নিজেও লাফিয়ে বসল পাশে। মেয়েটার বসার সাথে সোফাটা আপন শক্তিতে কেঁপে উঠে।
– ওয়াও অনেক ইউনিক নাম তোমার। এদিকে আমাকে দেখ কি একটা নাম রেখেছে বাবা ‘সিমরান’। এটা কোন নাম হলো বলোতো কথা? তাও যদি কেউ সুন্দর করে সিমরান বলে ডাকতো, কেউ ডাকে সিমু, কেউ সিমি, কেউ সিরান। মানে এই সিমরান নামটা একটা আতঙ্ক আমার কাছে।
মেয়েটা ঠোঁট উল্টে বড় আফসোস করে বললো। কথা ফিক করে হেসে দেয়। কথা তো ভাবতো দুনিয়ায় বুঝি সেই একমাত্র বাঁচাল। কিন্তু মেয়েটা দেখছি তার থেকেও বাঁচাল প্রো ম্যাক্স। অথচ মেয়েটার মাকে দেখো, মেয়ের কথায় ভদ্রমহিলা মুচকি মুচকি হাসছেন। তার মা হলে এতক্ষণে কষে দুটো ধমক লাগিয়ে কড়া গলায় বলতো,
– কথা, এত কথা বলিস কেন? মেয়ে মানুষের এত কথা বলতে নেই।
– তা মা তুমি কোন ক্লাসে পড়ছ? দেখে তে আমার সিমুর বয়সীই মনে হচ্ছে।
– এবারে এইচএসসি পাস করেছি আন্টি।
সিমরান চকচকে চোখে তাকিয়ে বলে,
– ও এম জি। মা দেখি ভালোই গেস করতে পেরেছে। উই আর ইন সেইম ব্যাচ কথা। আমিও খুলনা থেকে এইচএসসি পাস করেছি৷ বয়স কত তোমার? বয়সটাও মনে হচ্ছে আনাদের সেইম হবে।
– আঠারো চলছে৷
সিমরান লাফিয়ে উঠে,
– ইয়েস। দেখেছ বলেছি না বয়সটাও সেইম হবে।
সৌমি মুচকি হেসে হাতের কাজে মন দিলেন। এতক্ষণ গরম গরম পেয়াজু ভাজছিলেন বিকেলে নাস্তার জন্য। সাথে ঘন দুধ চা। এখন কথা আর মৈথির জন্য চিকেন নামিয়েছেন। ফ্রাই করে দেবেন। মেয়েটা দেখতে শুনতে কত নম্র-ভদ্র লাগছে। চেহারাটাও কত মায়াবী৷
– ওয়াও কথা! তোমার চুলগুলো কত্ত লম্বা। কি ইউজ করো চুলে?
কথা স্মিত হেসে বললো,
– বিশেষ কিছু না৷ আম্মু নিজের হাতে বানানো বাদাম তেল লাগিয়ে দেয় সপ্তাহে তিন বার। এর বাইরে বিশেষ কিছু করা হয়না।
– তোমার এইচএসসিতে রেজাল্ট কি এসেছে মা?
সৌমি টি-টেবিলে নাস্তার ট্রেটা রাখতে রাখতে শুধালেন। কথা নম্র কন্ঠে বললো,
– গোল্ডেন জিপিএ ফাইব আন্টি।
– মাশাল্লাহ।
সিমরান পিরিচ থেকে একটা গরম পেয়াজুতে কামড় বসিয়ে মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বললো,
– উম বিউটি উইথ ব্রেইন দেখছি।
– তুমি কি পেয়েছ।
– আমি ওই টেনেটুনে জিপিএ ফাইব এসেছে। তাও ভাইয়ার প্যারা খেয়ে। নাহলে এসব পড়াশোনা আমার জাত শত্রু। আর ভাইয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। ভাইয়ার পড়াশোনার জন্যেই তো আমাদের খুলনা থেকে চট্টগ্রাম আসতে হয়েছে।
সিমরানের মুখে স্নিগ্ধর কথা শুনে কথা মনে মনে লজ্জা পেল।
– কি হলো তোমরা খাচ্ছনা কেন মা।
– হ্যাঁ খেয়ে দেখ কথা। আমার আম্মাজানের হাতে যাদু আছে।
কথা ইতস্ততভাবে একটা পেয়াজু হাতে নিল। এদিকে মৈথি লোভনীয় খাবার গুলো দেখে আর ভদ্রতার বালাই করেনি। চিকেনের পিসটা উঠিয়ে গাপুসগুপুস দুই কামড় বসিয়ে দিল।
– মা নাস্তা দাও।
চেনা সেই ডাকটা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই কথার বুক ধ্বক করে উঠে। চটক চোখ তুলে তাকাতেই বিষম খেল বেচারী। উদাম শরীরে শুধুমাত্র টাউজার পরনে গলায় ঝোলানো তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে রুম থেকে বের হয়ে এসেছে কথার হৃদয়রাজ। কিন্তু তাকে এই রূপে দেখে কথার মাথা চক্কর কেটে উঠে। লজ্জায় গালদুটো কেঁপে উঠে লাল টমেটোর মতো বর্ণ ধারণ করে।
– আয় বাবুন টেবিলে এসে বোস।
স্নিগ্ধ কালকের দুইবার সাক্ষাৎ হওয়া অদ্ভূত মেয়েটাকে নিজের বাসায় দেখে অবাক হলো। কিন্তু ও কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সৌমি শাহরিয়ার নিজ উদ্যোগে বললেন,
– ওর নাম কথা। আমাদের পাশে যে চেয়ারম্যান বাড়িটা আছেনা, চেয়ারম্যান অহিদুল হক। ওনার মেয়ে। আর ও কথার কাজিন।
কথা বারবার বেহায়ার মতো আঁড়চোখে স্নিগ্ধকে দেখছে। শত জোর করেও নিজের চোখদুটো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেনা। একটা ছেলে এত সুন্দর আর কিউট কি করে হতে পারে?
নিজের উপর কথার বেলাহাজ দৃষ্টি স্নিগ্ধ খুব ভালো করেই খেয়াল করেছে। সহসা নিদারুণ লজ্জা পেল ছেলেটা। তড়িঘড়ি করে রুমে ঢুকে একটা টি-শার্ট পরে নিল। তারপর টেবিলে এসে বসলো। সৌমি শাহরিয়ার ছেলের সামনে চা পেয়াজু রেখে বললেন,
– দেখেছিস স্নিগ্ধ তোর বাবাটা এখনো এলো না। লোকটা এই অচেনা জায়গায়ও বাইরে বাইরে কাটাচ্ছে।
– মা বাবা বের হয়েছে সবে এক ঘন্টাও হয়নি। সাধে কি আর তোমাকে সবাই জামাই পাগল বলে।
সিমরান পেয়াজু চিবোতে চিবোতে বললো। মেয়ের কথায় সৌমি শাহরিয়ার লজ্জা পেলেন। চেহারায় মেকি রাগের আভাস এনে বললেন,
– চুপ বেয়াদব মেয়ে।
স্নিগ্ধ, সিমরাম হু হা করে হেসে দিল। কথা মুগ্ধ হয়ে হা করে চেয়ে রইল স্নিগ্ধর স্নিগ্ধ হাসিতে। চোখের পলকটিও পড়লোনা। হঠাৎ স্নিগ্ধ চোখ পড়ে কথার উপরে। কথাকে নিজের দিকে এভাবে হা করে চেয়ে থাকতে দেখে স্নিগ্ধ মুচকি হাসল। আঁড়চোখে একবার কথাকে আপাদমস্তক পরখ করে। একটা লং ফ্রক আর লেগিংস পরনে মেয়েটার। ওরনাটা গলায় সুন্দরভাবে রাখা। চুলগুলো মাথার উপরে চূড়ো করে পনিটেল করে বাঁধা। মেয়েটার সাধারণের মাঝেও অসাধারণ নিখুঁত পেলব মুখটা দেখে স্নিগ্ধ আনমতেই বিমুগ্ধ হলো। হঠাৎ কথাও চোখের কোণা তুলে তাকায়। দৈবাৎ দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায়। স্নিগ্ধ ইতস্ততভাবে চোখ সরিয়ে নিল। এদিকে স্নিগ্ধ এতক্ষণ লুকিয়ে লুকিয়ে ওকেই দেখছিল তা বোধগম্য হতেই কথার মনে লাড্ডু ফোটা শুরু করলো। মেদুর কোমল গালদুটো ফুলেফেঁপে উঠলো লাজে।
পুরো বিকেলটা কথা সিমরানদের ফ্ল্যাটে কাটিয়ে দিল। বিকেল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা প্রায়। মৈথি বেচারী ভয়ে শেষ। বাবা আর জেঠু আজ বাড়ি নেই। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে কথা। মৈথি মনে মনে এই ভেবে ভীত হলো যে তার বোন প্রেমে পড়ে ভয়ডর সব ভুলে গেল কিনা?
এই ফাঁকে স্নিগ্ধ বাইরে বের হয়ে মোড়ের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে আনল। তারপর সিমরানের রুমের সামনে নক করে বললো,
– সিমু?
ভেতর থেকে উত্তর এলো,
– ভাইয়া ভেতরে আসো না৷
স্নিগ্ধ ভেতরে ঢুকে দেখে সিমরান ওদের সাথে বসে লুডু খেলছে। মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল স্নিগ্ধ। তার বোনটা এত মিশুকে। অচেনা দুজন মেয়েকে এক দুই ঘণ্টার ব্যবধানেই বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে। স্নিগ্ধ বোনের দিকে একটা পলি ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বললো,
– এখানে আইসক্রিম আছে সবার জন্য।
আইসক্রিমের কথা শুনে সিমরান লাফিয়ে উঠে। ছোঁ মেরে আইসক্রিম গুলে নিয়ে বলে,
– থ্যাংকস আ লট কথা। আর তোমার জন্য আইসক্রিম খেতে পারছি।
কথা ত্রস্ত চোখ তুলে স্নিগ্ধর মুখে তাকাল। স্নিগ্ধ চারদিকে এলেমেলো দৃষ্টি ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। রুমের বাইরে পা রেখেই স্নিগ্ধ ঘাড় চুলকে মুচকি হাসলো।
আড্ডা দিতে দিতে সন্ধ্যা সাতটা বেজে যায়। কথা ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাসায় ফেরার জন্য। সৌমি শাহরিয়ার, সিমরান খুব সাধলো রাতের খাবারটা খেয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কথার পক্ষে তা সম্ভব নয়।
আজ বাড়িতে গেলে ওদের উপর কোন ঝড় উঠবে আল্লাহই জানে। এদিকে মৈথি ভয়ে কেঁদে দেবে প্রায়।
সৌমি ওদের একা ছাড়তে চাইলেন না।
– বাবুন, কথা আর মৈথিকে একটু ওদের বাড়িতে দিয়ে আয় তো বাবা৷
সৌমির বলতে দেরী কিন্তু স্নিগ্ধর রুম থেকে সুড়সুড় করে বের হয়ে আসতে দেরী হয়নি। ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে ও বাইরে অপেক্ষা করছে। কথা সৌমি আর সিমরানের থেকে বিদায় নিয়ে মাথায় ওরনা টেনে বের হয়। কেউ দেখতে পেলে খবর আছে। ওরা বের হতেই স্নিগ্ধ হাঁটতে শুরু করে। কথা স্নিগ্ধর পিঠে চেয়ে চেয়ে মুচকি মুচকি হেসে হাঁটতে লাগল। হক মঞ্জিলের গেইটে আসতেই মৈথি বড় বড় পা ফেলে ভেতরে ঢুকে গেল। আজ কথার জন্য ওকেও বকা খেতে হবে৷ কথা যাওয়ার আগে একবার স্নিগ্ধর দিকে তাকাল। আলো-অন্ধকারে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি যুক্ত স্নিগ্ধর ফর্সা মুখটা জ্বলজ্বল করছে। কথা অজান্তেই আরেকবার মুগ্ধ হলো। হঠাৎ স্নিগ্ধ প্রশ্ন করে বসে,
– তুমি আমাকে স্টক করছো?
কথার হৃদয় ছলকে উঠে। হতবাক, স্তম্ভিত হয়ে ও স্নিগ্ধর মুখে তাকায়। স্নিগ্ধর চোখেমুখে দুষ্টুমির চাপ। কথাকে ইশারা করে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
– কি হলো চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে ম্যাডাম?
কথা একটা শুকনো ঢোক গিলে। ইশ এভাবে ধরা খেয়ে গেল কীভাবে?
চলমান…..