গল্প: স্থীর নিশীথ(০২)

লেখিকা :নাজনীন নাহার


part:02

 


আজ বৃহস্পতিবার। জ্যোতি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটির উদেশ্যে রওনা হলো। বাসা থেকে বের হবে তখনই পিছন থেকে ডাক পড়লো – ‘খেয়েছিস তুই? না খেয়ে সকাল বেলা বাসা থেকে বের হতে নেই।’

– ‘কেন্টিনে খেয়ে নিব।’

জবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই জ্যোতি দৌড়ে পালালো। সে জানে তার বোন না খেয়ে যেতে দিবে না।

জ্যোতি ক্লাসে এসে বরাবরের মতোই এশার পাশে বসে। আসা পর থেকে এশা জ্যোতিকে না না বিষয় প্রশ্ন করছে কিন্তু জ্যোতি আদৌও এশার কথা শুনছে কিনা জানা নেই।

-‘এই জ্যোতি শুনছিস তো?’

-‘হ্যাঁ, শুনছি।’

– ‘তাহলে এখন আমার কি করা উচিত একটা আইডিয়া দে।’

– ‘কিসের আইডিয়া দিব? ‘

– ‘তার মানে তুই এতক্ষণ কিছুই শুনিসনি। তুই আমার কথার কোনো মূল্যই দেও না জ্যোতি।’

জ্যোতি এই কথাটাও মন দিয়ে শুনলো না বোধহয়।  তার দৃষ্টি সামনের দিকে স্থীর।

-‘ ওই জায়গায় কি হচ্ছে?  জানিস তুই?’

– ‘আরে তুই জানিস না কি হচ্ছে ওই জায়গায়!
আজকে R.M গ্রুপের সিইও এসেছে ঋভান আরশ মির্জা। আমাদের ভার্সিটিতে তাদের কম্পানি থেকে গরিব,  এতিম ছেলে মেয়েদের জন্য ফ্রি লেখাপড়া, খাওয়া, থাকার জন্য টাকা ডোনেট করছে।  শুনেছি এর আগে কেউ এতো টাকা এই ভার্সিটিতে ডোনেট করেনি।  অবশ্য তাদের যে টাকা,  এরকম লাখ/ কোটি টাকা দান করলে কিছুই আসে যায় না। ‘

ঋভানের চারিদিক থেকে ছেলে- মেয়েরা পিকচার ভিডিও করছে।  এতো বড় বিজনেসম্যান, তাদের ভার্সিটিতে সব স্টুডেন্ট তাকে গিরে তোর জোর শুরু করে দিয়েছে। ঋভান যখন গেট দিয়ে বের হবে তখন সবাই হামলে পড়লো। কেউ ছবি তুলছে কেউ হান্ডশেক করছে।

জ্যোতি দূরে দাড়িয়ে এসব দেখছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে।
এশা- ‘দেখ কি হ্যান্ডসাম ঋভান আরশ মির্জা। এই রকম একটা যদি বয়ফ্রেন্ড থাকে তাহলে তো লাইফ সেটেল। কি নেই ওনার, বাড়ি,  গাড়ি, টাকা,  আর সবথেকে বেশি যেটা তা হলো চেহারা।  ছেলে মানুষের এতো সুন্দর হওয়ার দরকার কি।

জ্যোতি লক্ষ করে দেখলো আসলে ঋভান কে।  মনে মনে আন্দাজ করলো জ্যোতি যে ঋভান ছয় ফুট হবে। ফর্সা বর্নের এক সুদর্শন পুরুষ, আছে পাশে অনেক ছেলে আছে কিন্তু তাদের সবার মাজে ঋভাব সবার আকর্ষণ কারতে সক্ষম। এশা যে বলল ‘ছেলে মানুষের এত সুন্দর হওয়ার দরকার কি ‘ ভুল কিছু বলেনি।

কিন্তু জ্যোতির কাছে এই সব সুদর্শনতা কিছুই না।  মহা সুদর্শন পুরুষকেও ইনগোর করার ক্ষমতা রাখে সে।

জ্যোতি বলল- ‘সে যাইহোক কিন্তু ভার্সিটিতে ডোনেট করবে তা নিয়ে এতো হৈচৈ  করার কি আছে।’

– ‘বুঝতে পারছি তুই ম্যান হেটার তো তোর কাছে সবই খারাপ লাগবে যাই বলিস ওনাকে দেখতে কিন্তু হেব্বি হ্যান্ডসাম। তুই দারা আমি একটা পিকচার তুলে আসি আর কখনও দেখার সুযোগ পাই কিনা। ‘

এশা গেল পিক তুলে কিন্তু তার ভাগ্য চাইলো না সে পিক তুলুক।  এশা গেটের কাছে যেতে যেতেই ঋভান তার গাড়ি নিয়ে চলে গেল ভার্সিটি থেকে।এশা মন খারাপ করে আবার ফিরে আসলো জ্যোতির কাছে। জ্যোতি হেসে বলল -‘কি তোর হ্যান্ডসামের সাথে পিক তুলিসনি। আহারে আয় আমার সাথে তুল।’

জ্যোতি এশার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে তুল্ল একটা পিক।

-‘ এই নে এইটা পোস্ট করে দিস। আবার দুঃখে কেন্দে দিস না।’

হাসতে হাসতে বলল কথাগুলো জ্যোতি এশা রাগ করলো নাকি পিক তুলতে না পারায় দঃখে দঃখিত হবে গেল জানা নেই জ্যোতির।

জ্যোতি প্রতিদিনের মতো আজও ভার্সিটির বাইরে চায়ের দোকানে গেল।

-‘ মামা,  এক কাপ চা দেন। আর,,, ‘

-‘ বলতে হবেনা মা জানি পাও রুটি দিব তাই তো? তোমার কু*কু*র গুলো এতো দিন তোমার অপেক্ষায় ছিল এই সময় ওরা দোকানের সামনে এসে এদিক ওদিক খুজতো তোমায়।’

-‘ আসলে আমি গ্রামে গিয়েছিলাম তাই আসিনি। আপনি খাওয়ানি ওদের এতো দিন?’

-‘ হ্যা মামুনি খাইয়েছি।’

-‘ কত টাকা হয়েছে হিসেব করে বলবেন আর এখন রুটি দিন।’

চায়েওয়ালা মামা ১৪ পিচ পাওরুটি দিলো। জ্যোতিকে দেখে কু*কু*র গুলো ওর পাশে এসে গুরছে আর লেজ নারছে। আনেক গুলো আবার ওর পায়ের সাথে মাথা ঘষছে।

-‘লাইন দিয়ে দারাও সবাই। সবাই পাবে মা*রা*মা*রি করবে না একদম তাহলে কিন্তু আদর পাবে না।’
কু*কু*র গুলে যেন জ্যোতির কথা স্পষ্ট বুঝতে পারে। তারা লেজ নেরে সম্মতি জানালো হয়তো। জ্যোতি সবাইকে দিলো। তারা আপন মনে খাচ্ছে। এরমধ্যে এশা এসে হাজির।

-‘তুই যে ওদের রোজ খাওয়াও লাভ কি হয় তাতে?’

-‘সব কিছুতে লাভ-লোকসানের হিসাব করলে চলে না। ওদের আমি নিজের সন্তান ভাবি আর মা কি কখনও সন্তানদের লাভ-লোকসানের হিসেব করে খাওয়ায়?’

– ‘হোইছে জ্ঞানী আপা, ক্ষমা করেন। এখন আমায় কিছু খাওয়ান তাহলে?’

কুকুরদের খাওয়া শেষ জ্যোতি দোকানে গেল টাকা দিতে-‘ মামা কত টাকা হয়েছে?’

-‘৭৫ টাকা।’

– ‘এটা তো এখনকার টাকা এতো দিন যে আপনি খাওয়ালেন তা সব হিসেন করে বলেন।’

– ‘আপনার মতো ভালে মনের মানুষ আজকাল দেখাই যায় না আপনে প্রনিদের কতো ভালোবাসেন আর কতো মানুষ আছে ওরা কাছে আসছে পানি মারে না হয় গরম চা পারে। প্রানীরা যাদের ভালেবাসে তারা প্রকৃত ভালোমানুষ, কারন ওরা চিনতে পারে ভালো মানুষ কারা।’

টাকা পরিশোধ করে দিয়ে জ্যোতি চলে যেতে যেতে এশাকে বলল-‘ নিজের টাকায় খা, আমি কোনো ইতর কে খাওয়াই না।’

এশা মনে মনে ভাবলো-‘ ও আমায় ইতর বলল, আমার কি রাগ করা উচিত? ‘

 

চলবে………

0 0 votes
Article Rating
Loading spinner
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x