Golpo:Prem Samadhi (04)

লেখিকা:আরিফা বিনতে মায়া

পর্ব:০৪

রাত প্রায় ০৯টার মতো বাজে,
আবহাওয়া যতই না ঠান্ডা হোক না কেন কিন্তু শিকাদার বাড়ির চারদিকে মানুষের ভীড়ে বর্তমানে আবহাওয়া গরম।একটু আগের ঘটনাই কেউ ভুলতে পারি নি।
কারন জীবনের প্রথম কোন বিয়ে বাড়িতে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ঘোটা বিয়ের বাড়ির মধ্যে সবার সামনে তার স্বামীর কাছে তালাক চেয়েছে। আর স্বামী কিছু না বলে তালাক দিয়ে দিয়েছে।

আর এদের দেখো, এরা দিব্বি নতুন বউকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠছে। আসলেই হাস্যকর ব্যপার।”
কেউ কেউ তো এও বলছে
— দেখ, হাফছা শিকদারে ছেলের মুখের উপর কোন দুঃখের ছাপ নেই। কি সুন্দর নতুন বউকে পেয়ে আগের বউটার তালাক দিয়ে তার কথা ভুলে গেলো। এ নাকি ভবিষ্যতের এ..মেলে হবে
আমার ভাবতেই কেমন লাগছে।

— আরে বাদ দাও তো। যা হয়েছে ভালোই হয়েছে।
আজকাল জমানায় কয়টা মেয়ে এমন মুখ বুজে সব সহ্য করে সংসার করে। তারপর তো নাহিদের আগের বউ অনেক কিছু সহ্য করেছে। আমি হলে তো এতক্ষণে গলায় দড়ি দিতাম।
দেখবে মেয়েটার কপালে এর থেকে ভালো কিছু জুটবে। আমার কথা মিলিয়ে নিও।”

এরুকুম হাজার কথা চারদিকে থেকে আসছে।
হাফছা বেগমের কানে আসলেও সে সব পাওা না দিয়ে উল্টো স্বামীকে ডেকে এনে বলল”
— শুনেন বুরূজের বাপ, মেহমানদের কে খাবার জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাদের কে খাইয়ে বিদায় করুন। আর কতসময় অপেক্ষা করবো।
আমার এসব ভালো লাগছে না।
মুখপুরিতো গেলো.. গেলো, সঙ্গে আমার ছেলের মান সম্মানও ধুলেও মিশিয়ে দিয়ে গেলো।

— বুরূজের মা তুমি থামবে। কি শুরু করেছো কি?
দেখছো না বাড়িতে কত গেস্ট এসেছে। তারা শুনলে তোমাকে খারাপ বলবে নাকি ভালো!
আমি দেখছি কি করা যায়? তুমি নতুন বউকে নিয়ে আর ছেলে কে নিয়ে বাড়ির ভেতরে যাও।

এই বলে সাদ্দাম শিকদার চলে গেলেন।আর হাফসা শিকদার বাড়িতে নতুন বউকে তুলবে বলে কি যেন কি মনে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।”

বর্তমানে স্টেজে নাহিদ আর তানিয়া বসে আছে।
নাহিদের ফোন কল আসার কারনে সে সাইডে চলে গেলে। তখন কিছু ভদ্র মহিলা এসে তানিয়া কে ঘিরে ধরে বলল”
— শোন নতুন বউ, তুমি ভাবছ তোমার শাশুড়ী কত ভালো। কিন্তু তুমি ঠিকই আস্তে আস্তে বুঝতে পারবে গিরগিটি মতো রং পাল্টায় তোমার শাশুড়ী।
কারন তোমার যে আগের বউ এসেছিলো না, সেই তোমার এই গিরগিটি শাশুড়ী জ্বালায় আজকে তোমার বিয়ের দিনে তালাক চাইলো।

— আর তালাক দিয়ে দিলো তোমার সখের স্বামী। ভাবো তুমি কত ভাগ্যবতী নারী। তোমার বিয়ের দিনে প্রথম বউ তালাক আবার তাকে ডিরেক্ট বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া। ভবিষ্যতে যে তোমায় ছুড়ে মারবে না, তার কি গ্যারান্টি আছে বলতো।”
” তাই বলছি সাবধানে থাকো। কারন রাজনীতিবীদ বলে কথা, যে কোন সময় অঘটন ঘটাতে পারে। “

এই সব বলে সেই মহিলারা চলে গেলো। আর তানিয়া মনে মনে ভাবলো”
— আসলেই কি আমি কোন ভুল করলাম?

☘️
— এই যে আমার নতুন বউমা উঠ। অনেক রাত হইছে। এতো রাতে বাহিরে থাকলে তো জ্বিনে ভুতে আছর করবো।চলো বাড়ির ভেতরে চলো।
আরে বুরূজ কই গেলো! আমার মানিক কই?
ও বুরূজ কই গেলি তুই, এদিকে আয়! নতুন বউয়ের পাশে না থাইক্কা অন্য জায়গায় গেলি কে?”

নিজের মায়ের চিল্লাচিল্লি শুনে ফোন রেখে তার ডাকশুনে চলে গেলো। আর তখনই শুরু হলো অনুষ্ঠানে মেন পর্ব। নাচ, গান হৈচৈ মাতামাতি সব মিলিয়ে আনন্দ করে নতুন বউকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করালো।
আজকে হাফসা বেগম বেশ খুশি। সব থেকে বেশি খুশি আপাদ কে বিদায় করতে পেরে।
আর মনে মনে বলল”
— ভেবেছিলাম মুখপুরীটার সামনে নতুন বউকে এনে শায়েস্তা করবো। কিন্তু না আমার সব কু-বুদ্ধি নষ্ট করে দিলো। কিন্তু আমিও কম না, আমিও হাফছা শিকদার ” শিকার কে কিভাবে খাচায় বন্ধি করে পালতে হয় তা খুব ভালো করে জানা আছে।
কোন দিন জানতে দিবো না বুরূজ কে, আমি ওর বউয়ের উপর ঠিক কি……..

— আরে এতো কি ভাবছো বুরূজের মা। ছেলেকে কি দিবে দাও। অনেক রাত হলো, ওরতো এখন বিশ্রাম নেওয়ার দরকার।”

নিজের ভাবনার মধ্যে এমন কথা শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে ছেলের কপালে চুম্মা দিয়ে বলল”
— যাহ বাবা..যাহ। নিজের জীবনের নতুন সুচনা কর। আর কোল করে আমাদের বংশের প্রদীপ আসে, সেই দোয়া করি।”

এই বলে নাহিদ কে বিদায় দিলো। নাহিদ চলে গেল। আর বাড়ি বাকি সদস্যরা তো হাফছা বেগম কে ঘৃণা নজরে দেখছে। আর মনে মনে হয়তো ভাবছে, কেমন মা! যে নিজের ছেলের সামনে এক রূপ, আর এর বাহিরে আরেক রূপ। আসলে এমন কিছু শাশুড়ীর জন্য যেকোন মেয়ে সুখে সংসার জাহান্নামী রূপিতে পরিণত হয় । ছেলের অঘচরে এক রূপ, আর ছেলে সামনে আসলে গিরগিটির মতো রং পরিবর্তন করে। এসব শাশুড়ী জন্য আজ হাজারটা সংসারে ভাঙনের পথে। যেমন আজকে একটি নিষ্পাপ সংসার ভেঙে গেলো নিমিষে।”
যেমন কথাই আছে না…
°°কাচের গ্লাস যেমন সহজে ভাঙলে
জোড়া লাগানো যায় না।
তেমনই কিছু সম্পর্ক অতি সহজে ভেঙে
গেলেও আর ফিরে পাওয়া যায় না।”

কে জানি নাহিদ আদৌ কোন সম্পর্কের মর্যাদা দিতে পারে কি না সন্দেহ!

” আস্তে আস্তে যে যার রুমে চলে গেলো সব গোজগাজ করে। আর আপাতত হাফছা বেগমের আত্মীয় ছাড়া আর বাড়িতে কেউ নেই।”
——————————☘️
রাত যত গভীর ততই চারদিকে শান্ত পরিবেশ।
বিভিন্ন গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো ঘরের বিছানার মাঝখানে বসে আছে সদ্য বিবাহিত নব দম্পতি নাহিদ আর তানিয়া।
নাহিদ তানিয়ার কোলের উপর মাথা রেখে তানিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল”

— জানো তান্নু… তোমাকে পেয়ে আমি কত খুশি।
মৃত্যুর আগ পযন্ত যেন সারাজীবন এভাবে একসাথে কাটতে পারি।:

তানিয়া নাহিদের কথা উল্টো জবাব দিয়ে বলল”

— আচ্ছা নাহিদ, সত্যি তোমার প্রথম বউয়ের উপর তোমার কোন ইন্টারেস্ট ছিলো না।
তুমি কি তাকে ছুয়ে পযন্ত দেখো নি?”

— হঠাৎ এই প্রশ্ন?

— জানাটা খুব দরকার। কারন কোন পুরুষ তার স্ত্রী কে না ছুয়ে থাকতে পারে!”

— আজব তো! আজকে আমাদের পবিত্র রাত, কোথায় আমরা নিজেদের ভালোবাসা সুখ দুঃখ নিয়ে আলাপ করবো। তা না করে, কার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছ। যাকে আমার একটু সহ্য হয় না।
আর ছুয়ে দেখা, আমি তো তাকে সরাসরি কোনদিন দেখেই নি। আর আমার দেখার ইচ্ছেও নাই। “

— সত্যি তুমি তাকে একটিবার দেখনি।”

— না।”

— আমি মনে করি তুমি সেই প্রথম হতভাগা পুরুষ। যে নিজের প্রথম স্ত্রীকে দেখ নি। উনার মতো সুন্দরী নারী আমি হয়তো এই জগতে দেখেনি।
কে জানি! তুমি যে আমাকে ভবিষ্যতে উনার মতো করবে না তার গ্যারান্টি কি?”

— তুমি থামবে তান্নু! হঠাৎ এই প্রশ্ন গুলো কেন এখন উঠছে। যাকে আমার ভালো লাগে না।
যাকে আমি চাই না সে আমার হবে কেন?
আর তুমি কি আমার উপর অবিশ্বাস করছ।

— অবিশ্বাসের কিছুই না। হয়তো এমন একদিন আসবে, সেইদিন তাকে নিয়ে তুমি অনেক আফসোস করবে। কেন তাকে এই রাতের মর্যাদা দেই নি? কেন তাকে গ্রহণ করে নি?কেন তার প্রাপ্র সম্মানটুকু দেই নি।”
আর হয়তো সেদিন এই তানিয়া তোমার চোখে বিষাক্ত কাটা থাকবে।”

তানিয়ার এসব কথা শুনে নাহিদ হিতাহিত রাগে পাশে থাকা ফুলদানীটা ঠাস করে মেজেতে ছুড়ে মারলো।আর বলল”

— থামো… থামো! আমি আর একবার এসব কথা শুনতে চাই না। না হলে আমি সব ধ্বংস করে দিবো। প্রয়োজন পড়লে আমি এই ঘর থেকে বেরিয়ে যাবো। তবুও তোমার মুখটা বন্ধ রাখো পিল্জ।”

এইবলে সোজা নিজের রুমের বারান্দায় চলে গেলো, আর মুখে সিগারেটে জ্বালিয়ে তানিয়ার কথা গুলো ভাবতে লাগলো।”
—সত্যি কি সে কোন ভুল করে ফেলল। নাকি তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সে কিছুতেই হারতে পারে না। কিছু তেই না। “

এই বলে নিজের হাতে থাকা জ্বলন্ত সিগারেট টা নিজের হাতের মুঠির মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে রাখলো।
আর এদিকে তানিয়া চোখের পানি বির্সজন দিয়ে কাদতে কাদতে খাটের উপর শুয়ে পড়ল আর ভাবলো”
— এইটা হয়তো শাহজাদীর সিকান্দার বদ দোয়ার ফল। না হলে কি আর আমার জীবনে এমন কিছু ঘটতো। জানি না সামনে আর কত কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছে।”
এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো।”
আদৌ কি হাফসা শিকদার জানতে পারবে কি? তার ছেলে ও ছেলে বৌমার মধ্যে আদৌ কোন স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক হয়েছে কী? নাকি নিজেই নিজের হাতে ছেলের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।
আদৌ এদের মধ্যে কোন ভালোবাসা, কোন মিল মহব্বত হবে কি?”
বিশিষ্ট এই রাতেই দৃুইজন ঝাগড়া করে এভাবেই আলেদা কাটিয়ে দিলো।
——————————————–☘️
সিকান্দার বাড়ি……
সিকান্দারের বাড়ির ভেতরে একটা গাড়ি ডুকলো।
সেই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো এই বাড়ি বড় মেয়ে শাহজাদী সেহরিশ সিকান্দার।
ঠিক ১বছর পর নিজের বাড়ির চৌকাঠে পা রাখলো। বিয়ে হওয়ার পর থেকে একবার এবাড়িতে আসতে দেই নি, ও নিষ্ঠুর মানুষ গুলো।

ভেজা চোখে বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে শাহজাদী। কত দিন হলো এই বাড়িতে সে পা রাখি নি। সেই আগের মতোই রয়েছে বাড়ির চিএ, একটুও পরিবর্তন হয় নি, বাগান ঠিক যেভাবে রেখে গিয়েছিল।ঠিক সেইভাবেই আছে।
দেখা শেষ হলে, চোখের পানি মুছে আস্তে আস্তে পা ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।
ঠিক তখন বাড়ির ভেতর থেকে কেউ দৌড়ে এসে সোজা শাহজাদীর গলার উপর ঝুলে পড়ল।
সেইটা আর কেউ না শাহজাদীর ছোট বোন ” আইশু। গলার উপর ঝুলে কান্না করতে করতে বলল”
— ফাইনালি আপি তুই এই মিথ্যা সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেলি। আমি কত অপেক্ষা করেছি জানিস তুই কবে ফিরবি বলে। আর তোকে কোথাও যেতে দিবো না।”

— আরে কান্না থামা পাগলী। দেখ তোর বড় আপি চলে এসেছে। এখন আর কোন চিন্তা নেই। আমি এখন থেকে তোর সাথেই থাকবো। “

— সত্যি তুমি থাকবা আমাদের সাথে!”

— হ্যারে বাবাহ… হ্যা! সত্যি… সত্যি, সত্যি, তিন সত্যি। এবার ছাড় আমাকে, বাড়ির ভেতর ডুকতে দিবি না।

— আপি সরি… সরি! বুঝতে পারি নি। চলো ভেতরে সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

এই বলে নিজের বড় আপির হাত ধরে ঢেনে নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।
আর দেখল তার বাবা তালহা সিকান্দার স্বয়ং সোফার রুমে বসে আছে, সাথে নিজের সৎ মা মারুফা বেগমও।
আস্তে আস্তে সবার দিকে একবার একবার করে তাকিয়ে থেকে স্থিরভাবে তাদের সামনে দাড়ালো।
এরপরে সাহস সঞ্চার করে বলল”

— আব্বুজান….. আব্বুজান! আমি সেই শর্তনামা মিথ্যে সম্পর্কের জালবুনা থেকে চিরজীবনের জন্য মুক্তি পেয়েছি। আমার কি কোন প্রকার এই বাড়িতে ঠাই হবে, যদি তোমার সম্মানে আঘাত না লাগে।”

তালহা সিকান্দার মেয়ের এমন কথা শুনে তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল”

— তোর মনে হয় তোর আব্বুজান তোর সাথে এমন জগন্য খারাপ আচরণ করবে। নিজের পেটের সন্তানকে কি আমি এই সামান্য কারনে দূরে ঠেলে দিবো।
” ওরেহ…. তুই আমার সন্তান, আমার অস্তিত্ব।
উল্টো তুই আমার বিপদের সময় নিজেকে বিসর্জন দিয়েছিস। আর আমি কিনা তোর সাথে বেইমানি করবো। অসম্ভব, দরকার হলে আমার সন্তান কে আমি যত্ন করে নিজের কাছে ধরে রাখবো। তোকে কোথাও যেতে দিবো না।

— আ….আব্বুজান!
“ভেজা অশ্রু চোখে তাকিয়ে ডাকলো”

— আয় মা…. আয়! আমার বুকে আয়।
আমার বুকটাকে একটু শান্ত করে দিয়ে যা।”
তালহা সিকান্দার এই বলে দুই হাত মেলে মেয়েকে নিজের কাছে ডাকলো।”

শাহজাদী সময় নষ্ট না করে সোজা বাবার বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। আর নীরবে চোখের পানি বিসর্জন দিতে শুরু করলো। আর তালহা সিকান্দার মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শান্তনা সুরে বলল”

— শোন… আমার সেহরিশ, আমার জীবনের জান্নাতী। মেয়েরা বাবার ঘরে রহমত নিয়ে আসে রে। কখন কলঙ্ক নিয়ে নয়। তুই হলি আমার প্রথম রহমতের অংশ। তোকে কিভাবে আমার এই বাড়িতে জায়গায় দিবো না বল।
হয়তো অনেকের তার মেয়ে সন্তান হয় বলে তাকে সমান অধিকার দিতে জানে না। কিন্তু আমি তালহা সিকান্দার নিজের পরিবার এবং নিজের মেয়েকে কিভাবে সমান অধিকার দিতে হয়, তা জানি।
” যদি দিন শেষ তোদের কেউ ভালোবাসা ও সম্মান দিতে না চায়, সব সময় তোদের বাবার কাছে সেই ভালোবাসা ও সম্মানের দূয়ার সব সময় খোলা রইলো। কখন মুখ ফিরিয়ে নিবো না। “

ভেজা কন্ঠ কান্নারত অবস্থায় বলল”

—আব্বুজান আমাকে ক্ষমা করে দিন।আমি বুঝতে পারিনি আপনি আমায় এতো ভালোবাসেন। আমি ভেবেছি ওদের মতো আপনিও সমাজের দায়বদ্ধতার খাতিরে আমাকে বাড়িতে জায়গায় দিবেন না। তাই এমন বলে ফেলেছি,ক্ষমা করে দিন আমায়।”

— আমার পাগলী মা। বাবার কাছে কেউ কি ক্ষমা চায়। বাবারা তো এমনেই সন্তানকে মন থেকে ক্ষমা করে দেয়। “

বাবা মেয়ের ভালোবাসা দূর থেকে দাঁড়িয়ে থেকে দেখছে মারুফা সিকান্দার, আইশু। স্নেহ পিতাময় তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসা আর কইবা দেখা যায়। দ্বীন শেষে মেয়েদের কপালে না স্বামীর বাড়ির ঝাড়ির আর না হলে নিজের বাবার তিক্ত কথা ।

আইশু নিজের পিতা আর বড় বোনের এমন পরম ভালোবাসা দেখে নিজের চোখের পানি মুছে মুচকি হেসে সব সময় যেভাবে বাড়িতে হাঙামা লাগিয়ে সেভাবে অভিনয় শুরে বলল”

— দেখেছো আম্মু… দেখছো! আব্বুজান আপি কে পেয়ে তার ছোট মেয়ের কথাএকদম ভুলে গেলো
আব্বুজান কি দেখতে পারছে না, তার ছোট পুচকি মেয়ে তার আদর না পেয়ে কিভাবে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। “

মারুফা সিকান্দার নিজের মেয়ে আইশুর কান ধরে বলল”

— ওরে ফাজিল মেয়ে। এখন কি তোর নিজের বড় বোনের উপর হিংসা করার শুরু করেছিস নাকি।

— আহ,,,,আম্মু লাগছে। ছাড়ো না কান। এবারের মতো ক্ষমা করে দাও।আর হিংসা করবো না। “

— আহা… ছাড়ো না মেহেদীর আম্মু! আমার মেয়ের কান ধরার সাহস কে দিয়েছে তোমাকে।”

— আমার ভুল হয়েছে তোমার মেয়ের কান ধরায়।
এবার শাহজাদী কে ছাড়ো ও একটু নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হোক। আমি সবার জন্য খাবার রেডি করছি। একসাথে না হলে বাকিটা টেবিলে আলাপ করে নিও। ”
যাহ আইশু তোর বড় আপিকে নিয়ে রুমে যা।”

— আচ্ছা আম্মু, আমি নিয়ে যাচ্ছি। “

এই বলে আইশু নিজেই বড় আপি কে নিয়ে রুমে চলে গেলো।”


খাওয়া দাওয়া আড্ডা মজামস্তি করে রাতে একসাথে রাতের খাবার শেষ করে যে যার রুমে চলো গেলো।
শাহজাদী নিজের রুমে দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখল, তার রুম সেই আগের মতোই আছে। একটুও পরিবর্তন হয়নি।
তখন আইশু আপি বলে ডুকে সোজা নিজের বোনের গলা জড়িয়ে বলল”
— আচ্ছা আপি, তোমার কি একটু কষ্ট হচ্ছে না। তোমার এতোদিনের গোছানোর সংসারটা ভেঙে দিয়ে এসেছ বলে।”

নিজের বোনেকে সামনে এনে। ঘাটের উপর বসিয়ে ইশারা করল তার উরুর উপর শোয়ার জন্য। আর আইশু এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে তার বোনের উরুর উপর শুয়ে পড়ল। আর শাহজাদী তার বোনের মাথার উপর হাত বুলাতে বুলাতে বলল”

— জানিস আইশু, নারী কখন তার সাধের সংসার ভাঙতে চায়?”

— কখনো আপি।”

— যখন কোন নারী নিজের ব্যক্তিগত পুরুষের সর্মথন পায় না। তখন সেই নারী অপারক হয়ে নিজের সংসার ছেড়ে চলে আসে।”
যেমন আমার তো এইটা নামের সংসার ছিল, এই সংসারকে জোর করে রেখে কি লাভ?
যেখানে না ছিল কোন ভালোবাসা, বিশ্বাস। সেখানে আমি ধরে রেখে কি করবো তুই বল।”

নিজের বোনের এমন কথা শুনে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে।

— তোমার কি কষ্ট হয় না আপি।”

— কিসের কষ্ট পাগলী? তোরা আছিস না, ইনশাআল্লাহ কাল থেকে নতুন সূর্যোদয় নিয়ে তোর বড় আপি নিজের নতুন পথ চলা শুরু করবে।
এখন ঘুমিয়ে পড়। “

আইশু তার বড় বোনের এতো বছর পরে আদর পেয়ে তার উপর ঘুমিয়ে পড়ল।
আর শাহজাদী মনে মনে নিজেকে বলল”
” আমি জানি আমি পাপ করে নি। তবে যেইটা আমার জন্য ভালো হবে সেইটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
জানি সামনে রাস্তাগুলো অতোটা সহজ না, হাজার মানুষের কটুকথা শুনতে হবে। তবুও আমি কারো কথায় কান না দিয়ে নিজেকে নিয়ে ভাববো।
কষ্ট পেয়ে লাভ কি? যদি নিজেকেই সময় না দেই।

হয়তো অনেকে ভাবছে আমি কান্না করছি না কেন? কেন আমার মধ্যে বিন্দু পরিমাণের আফসোস নেই।
কথায় আছে না…!

আমি চোখ মুছি ঠিকিই..
কিন্তু, মনের দাগ মুছি নাহ্!
মনের দাগ মুছার মতো
কারোর তেমন যোগ্যতাও নেই।”

তাই ভাবছি নিজেকে নিয়ে ভাববো।নিজেকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করবো। যেন নিজের আপনজন দেখতে পারে, আমি দূবর্ল শাহজাদী নই। আমি এমন শাহজাদী হবো, যেন সবাই আমাকে দেখে সালাম দিতে বাধ্য হবে, ঘৃণার চোখে দেখবে না।এমন শক্ত পাথরে শাহজাদীতে পরিণত হবো যে, যেন মানুষ আমায় থেকে ঈর্সা করে আর আমি তাই করবো! “

চলবে..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x